nation News: হায় রে দেশ! কাসভকে চিনিয়ে দেওয়া সেই বৃদ্ধের আজ জীবন কাটে ফুটপাতে, ভুখাপেটে… – mumbai man who identified ajmal kasab for 2008 mumbai attacks found lying on the road with no food for days

0
16
Print Friendly, PDF & Email

এই সময় ডিজিটাল ডেস্ক: উসকোখুসকো চুল! ভাবলেশহীন বৃদ্ধ! জীবনের শেষ সময়টায় দিন গুজরান হচ্ছে রাস্তায়। মুম্বইয়ের ফুটপাতে এমনই বৃদ্ধের সন্ধান পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন স্থানীয় এক দোকানদার। বৃদ্ধের নাম জিজ্ঞেস করতেই চক্ষু চড়কবৃক্ষে ওঠে ওই ব্যবসায়ীর। নাম হরিশচন্দ্র শ্রীবর্ধনকর। হ্যাঁ! সেই হরিশচন্দ্র। ২৬/১১-র হামলাকারী আজমল কাসভকে যিনি পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিল। তারই আপাতত ঠিকানা কেয়ার অফ ফুটপাত।

পরিবার বাড়ি থেকে দূর করে দিয়েছে সেই কবেই। সন্তানদের কাছে তিনি এখন ‘ত্যাজ্য’ পিতা! সংক্রমণ কালেই দেশের সবথেকে বড় হটস্পটের ফুটপাতেই তিনি দিনযাপন করছেন। দিনের পর দিন খাবার খেতে পান না মানুষটা। বিগত কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করার পর সাত রাস্তা শপের মালিক ডিন ডি’সুজা উদ্ধার করেন হরিশচন্দ্রকে। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধের এমনতর হাল দেখে বড় মায়া হয় ডি’সুজার। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।

মুম্বইয়ে সে দিনের সেই অভিশপ্ত রাতে অর্থাৎ ২৬/১১-র জঙ্গি হামলায় হরিশচন্দ্রের মাথায় গুলি এসে লেগেছিল। ঠিক যে সময়টা সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছিল কাসভ, সেই সময়েই গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হরিশচন্দ্রও। কিন্তু তাতেও দমেননি তিনি। গুলি খেয়েও লড়াই চালিয়ে বীরের দর্পেই কাসভের সন্ধান দিয়েছিলেন পুলিশকে।

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন হরিশচন্দ্র। কিন্তু মাথায় গুলি লাগার কারণে এলোমেলো হয়ে যায় তাঁর স্মৃতি। সেভাবে কিছু না মনে পড়লেও এদিন ডি’সুজার কাছে হরিশচন্দ্র জানালেন, সে দিন তাঁকে গুলি করেছিল কাসভের আর এক সঙ্গী আবু ইসমাইল। সেই রাতে মুম্বইয়ের কামা হাসপাতাল থেকেই হরিশচন্দ্রকেও গুলি করেছিল কাসভের সঙ্গী ইসমাইল।

আরও পড়ুন: সঙ্গে ছিলেন কলকাতার কেন্দ্রীয় দলের, আরও ৫ BSF জওয়ানের করোনা পজিটিভ!

ডি’সুজা যখন হরিশচন্দ্রকে উদ্ধার করলেন তখন তাঁর অবস্থা খুবই সংকটজনক। ডি’সুজা-রই এক বন্ধু একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চালান। তাঁদেরকে ডেকেই হরিশচন্দ্রকে স্নান করানোর বন্দোবস্ত করেন ডি’সুজা। তাঁর কথায়, “ওঁকে আমরা খাবার খাইয়ে একটা নাপিত ডেকে ভালো করে চুল-দাড়ি সাফ করে দিই। তারপর ওঁকে স্নান করাই। বিড়বিড় করে উনি কয়েকটা শব্দ বলছিলেন– হরিশচন্দ্র, বিএমসি এবং মহালক্ষ্মী। আর এর থেকেই আমরা বুঝতে পারি যে নিশ্চয়ই এখানে ওঁর পরিবারের কোনও লোকজন থাকেন।”

এরপরই বিএমসি কলোনির ওখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। আর তারপরই হরিশচন্দ্রের ভাইয়ের দেখা পান তাঁরা। তিনি জানান যে, হরিশচন্দ্রের বাড়ি কল্যাণে।

আরও পড়ুন: দেশে একদিনে করোনা পজিটিভ ৩,৯০০, রাজ্যগুলিকেই দুষল কেন্দ্র


এরপরই পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য পৌঁছে যান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা। এই করোনার সংকটকালেও কল্যাণ থেকে মুম্বইতে আসার জন্য হরিশচন্দ্রের পুত্রকে স্পেশ্যাল ট্রাভেল পাস দেওয়া হয় পুলিশের তরফে। পয়লা মে কল্যাণের উদ্দেশে পাড়ি দেন হরিশচন্দ্র।

তবে সবথেকে দুঃখের বিষয়টি জানালেন ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। বললেন, “এত কিছুর পরেও ওঁর পরিবারের লোকেরা নিতে চাইছিলেন না হরিশচন্দ্রকে। কেবলই বলছিলেন ওঁকে কোনও আশ্রমে দিয়ে আসতে। এই ধরনের বীর যিনি
আজমল কাসভের মতো একজন জঙ্গিকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর জীবন এখন সংকটে। শহরের বা দেশের নানান প্রান্তের মানুষজনকেও বলছি, এই মহান ব্যক্তিকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসুন।”



Source link