nandy sisters: দুই বঙ্গকন্যার গানে দেশজুড়ে ঝড় অনলাইনে – assam-born nandy sisters winning hearts from afar!

0
12
Print Friendly, PDF & Email

অন্তরা ও অঙ্কিতা। পুনের দুই বঙ্গকন্যা সাড়া ফেলেছেন ‘নন্দী সিস্টার্স’ নামে। তাঁদের গান শুনতে ইউ টিউবে লক্ষ লক্ষ হিট। তাঁদের গানের পরিক্রমা নিয়ে লিখলেন অভিজিৎ সেন

রঙ্গালি বিহুর দিন ফেসবুক লাইভে তাঁদের গান শুনে মুগ্ধ অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। আবার মহারাষ্ট্র দিবস উপলক্ষে লাবণী অঙ্গে তাঁদের গান শুনে প্রশংসায় পঞ্চমুখ রাজ ঠাকরে। সব সোশ্যাল মিডিয়া মিলিয়ে এপ্রিলের ওই দু’দিনের ব্যালকনি কনসার্টে তাঁদের গাওয়া ‘ফুল ফুলিসে বসন্ত’, ‘ময়না কুন বিধাতায়’ এবং ‘রেশমাচেয়া রেঘানি’ এখনও পর্যন্ত দেখেছেন যথাক্রমে ৬০ লক্ষ এবং ৪০ লক্ষ মানুষ। পঁচিশে বৈশাখে দু’জনের গাওয়া ‘মম চিত্তে’ ও ‘আমার বেলা যে যায়’ দেখেছেন ১২ লক্ষ দর্শক। মাদার্স ডেতে তাঁদের সৃষ্টি ‘কিতনে রাত জাগি মেরে লিয়ে’র অনুরাগীও ক্রমবর্ধমান।

অন্তরা ও অঙ্কিতা। বা নন্দী সিস্টার্স। বড় জন ২০, ছোটো জন ১৭। একজন কলেজে মাসকমের ছাত্রী। অন্যজন বারো ক্লাসের রেজাল্টের অপেক্ষায়। লকডাউন পর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়ই রোজই ঝড় তুলছেন পুনে নিবাসী এই দুই বঙ্গকন্যা। অসাধারণ কণ্ঠস্বরের পাশাপাশি, শুধু একটি করে উকুলেলে নিয়ে সহজ উপস্থাপনা, বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় গাওয়ার সাহস, চমৎকার স্টাইল স্টেটমেন্ট এবং কথাবার্তায় সপ্রতিভতা তাঁদের জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি। এক ইমেল সাক্ষাৎকারে দুই বোন জানালেন তাঁদের সঙ্গীত সফরের কথা।

অন্তরা বললেন, ‘বছর দুয়েক আগে বোন আর আমার একটা ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। তখন শুধু হাততালি দিয়ে আর কাপ-গেলাস বাজিয়ে গেয়েছিলাম বলে আমাদের নাম হয় ক্ল্যাপ গার্লস বা কাপ গার্লস। এখন অবশ্য নন্দী সিস্টার্স নামেই আমাদের সবাই চেনে।’

অন্তরা-অঙ্কিতার বাবা অনিমেষ নন্দী পেশায় তথ্যপ্রযুক্তিবিদ। মা জুঁই, একই সঙ্গে দু’বোনের ভিডিয়ো ফটোগ্রাফার ও ফ্যাশন ডিজাইনার। প্রত্যেকটি অনলাইন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনাও জুঁইয়ের। ২০১৮ থেকে তাঁরা পুনের বাসিন্দা।

অন্তরার জন্ম অসমের শিবসাগরে, অঙ্কিতার তিনসুকিয়ায়। কিন্তু ২০০৩ সালে নতুন কাজ নিয়ে অনিমেষ সপরিবার চলে আসেন কলকাতায়। থাকতেন নরেন্দ্রপুর-কামালগাজি অঞ্চলের এক বহুতল আবাসনে। তাঁদের পড়াশোনা কলকাতায়, ডিপিএস রুবি পার্ক স্কুলে। এ দিকে, গানে আগ্রহ দেখে সাড়ে চার বছর বয়সেই অন্তরাকে ভর্তি করা হয় রাশিদ খানের অ্যাকাডেমিতে। এর কিছুদিন পর আইটিসি-সঙ্গীত রিসার্চ অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়ে তিনি প্রশিক্ষণ নেন উস্তাদ ওয়াসিম আমেদ খানের কাছে। সেখানেই সংস্পর্শে আসেন গিরিজাদেবী, অজয় চক্রবর্তীর মতো কিংবদন্তির। ন’বছর বয়সেই জি সারেগামাপা লি’ল চ্যাম্পসে অংশগ্রহণ করে সবার নজর কাড়েন অন্তরা।

কেমন ছিল কলকাতার দিনগুলো? অন্তরার কথায়,‘খুব ব্যস্ত থাকতাম। স্কুল থেকে পড়ার টিউশন, সেখান থেকে গানের ক্লাস। পথেই টিফিন খেতে খেতে যেতাম । কিন্তু গান যেখানে প্রাণের জিনিস, সেখানে ক্লান্তি আসবে কী করে? এ ছাড়া, প্রতি রবিবার নাটকেরও ক্লাস থাকত নান্দীকারে।’ ব্যস্ততার পাশাপাশি ছিল আমোদ-আহ্লাদও। শনিবারগুলো বরাদ্দ ছিল সাউথ সিটি মলের জন্য। কলকাতার বিরিয়ানি আর বলরাম মল্লিক ও বাঞ্ছারামের মিষ্টির জন্য আজও দু’বোনের মন কেমন করে।

অঙ্কিতার গান শেখা কলকাতার বিশিষ্ট সঙ্গীত পরিচালক চন্দন রায়চৌধুরীর কাছে। দুই বোনই বেশ কিছু বাংলা টিভি ধারাবাহিকে গাওয়ার সুযোগ পান। অঙ্কিতা জানালেন, পুনে আসার পর তিনি দিদির কাছেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিচ্ছেন। এর পাশাপাশি চেন্নাই থেকে ওয়েস্টার্ন অপেরার খুঁটিনাটিও শিখে এসেছেন।

অন্তরার জীবনে বড় বাঁক আসে ২০১৮ সালে। সেই সময় শাহরুখ খানের ‘জিরো’ ছবির প্রোমোশনের অঙ্গ হিসাবে আয়োজিত হয় ডিজিট্যাল মিডিয়ায় প্রথম রিয়েলিটি শো ‘অ্যারাইভড’। এর মধ্যমণি ছিলেন এ আর রহমান। প্রতিযোগিতায় না জিতলেও অন্তরা প্রশংসা কুড়োন রহমানের। এর পর শুধুই এগিয়ে চলা। চেন্নাইয়ে রহমানের মিউজিক কনজার্ভেটরিতে গিয়ে নিয়মিত তালিম নেওয়া ছাড়াও অন্তরা তাঁর রহমান স্যরের সঙ্গে গান গেয়েছেন মঞ্চে, বিদেশে, ঈশা আম্বানির বিবাহ অনুষ্ঠানে এবং অ্যাপোলো টায়ার্সের বিজ্ঞাপনেও। ‘জ্যামিন’ শীর্ষক গানের অনুষ্ঠানের নতুন পর্বেও অন্তরাকে দেখা যাবে।

স্বাভাবিক ভাবেই অন্তরার পরের গন্তব্য বলিউডের গানের দুনিয়া। সম্প্রতি অনলাইনে তাঁর গান শুনে ভীষণ খুশি শঙ্কর-এহসান-লয় ত্রয়ীর এহসান। তা হলে আর কী? শ্রেয়া ঘোষাল, মোনালি ঠাকুর, অন্তরা মিত্র’র পর মঞ্চ প্রস্তুত আর এক অন্তরার জন্য। অঙ্কিতা এখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তেই বেশি আগ্রহী।

Source link