coronavirus: করোনা মোকাবিলায় ১৫টি শহরে পাখির চোখ – fight against corona: now the target is to reduce corona cases from 15 cities

0
18
Print Friendly, PDF & Email

হাইলাইটস

  • মঙ্গলবার ও বুধবার রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
  • তাতে করোনা সামলানো নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা।

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি

১০ দিনে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা এক লক্ষেরও বেশি, মৃত্যু তিন হাজারের বেশি লোকের৷ শেষ ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১,৯২৯ জন, মারা গিয়েছেন ৩১১ জন৷ অর্থাৎ, প্রতি ঘণ্টায় দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯৭ জন, মারা গিয়েছেন ১২.৯৫ জন৷ এই অবস্থায় টেস্টিং, ট্র্যাকিং এবং ট্রিটমেন্ট, ‘টি-থ্রি’র উপরে ভিত্তি করে দেশের ১৫টি বড় শহরে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের লড়াই জোরদার করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ যার মধ্যে দেশের রাজধানী নয়াদিল্লির মতো রয়েছে মুম্বই, কলকাতাও।

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের হিসেব, দেশের মোট করোনা রোগীর ৬৩% রোগী রয়েছেন এই ১৫টি বড় শহরেই৷ দেশের অন্যান্য অংশে যখন ভালো ভাবে করোনাকে রোখার ব্যবস্থা করা গিয়েছে, তখন কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না এই ১৫টি বড় শহরকে, কেন্দ্রীয় সমীক্ষায় এই তথ্য উঠে আসার পরে নতুন উদ্যমে ঝাঁপাতে চলেছে কেন্দ্র৷ শহরগুলির অলি-গলি ঘুরে করোনা পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক৷ এই কাজে তাঁরা সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির সাহায্য নেবে৷ যত বেশি করোনা পরীক্ষা হবে, তত বেশি করোনা রোগী সামনে আসবে। তাই নতুন করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সরকারি হাসপাতালে। অতিরিক্ত করোনা শয্যার ব্যবস্থা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে৷

মঙ্গলবার ও বুধবার রাজ্যগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাতে করোনা সামলানো নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা। যে রাজ্যগুলিতে করোনা সংক্রমণ তুলনায় কম, মঙ্গলবার তাদের সঙ্গে কথা বলবেন মোদী। বুধবার রয়েছে মহারাষ্ট্র, দিল্লির, বাংলার, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাটের মতো রাজ্যগুলি। এই দিনের আলোচনাতেই ১৫টি শহরের কথা বিশেষ ভাবে উঠে আসতে পারে। আজ, সোমবার দিল্লির চারটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

উল্লেখ্য, ১৫টি শহরের মধ্যে অষ্টম স্থানে রয়েছে কলকাতা৷ দেশের মোট করোনা রোগীর ১.০৮ শতাংশ কলকাতার, দাবি করা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে৷ তালিকার শীর্ষে মুম্বই, যেখানে দেশের মোট করোনা রোগীর ১৮.১০%৷ রাজধানী দিল্লি আছে দ্বিতীয় স্থানে, দেশের ১২.২২% করোনা রোগী রয়েছেন এই শহরে৷

ঘটনা হল, ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলা করোনা সংক্রমণের নিরিখে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংক্রমণ রোখার ক্ষেত্রে কোন পথে এগোনো হবে, তা নিয়ে প্রাথমিক ভাবে বেশ কিছুটা দ্বিধায় ছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক৷ তাদের সেই দ্বিধা দূর করেছেন দেশের বিশিষ্ট স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা৷ তাঁদের পরামর্শেই দেশের করোনা প্রভাবিত অঞ্চলে টেস্টিং, ট্র্যাকিং ও ট্রিটমেন্ট, তিনটি ‘টি’র উপরে জোর দিয়ে এগোতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ দেশের যে শহরগুলিতে সব থেকে বেশি মাত্রায় করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে অবিলম্বে করোনা পরীক্ষার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে, সাফ জানান কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞরা৷ এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম নয়াদিল্লির এইমসের ডিরেক্টর, প্রবীণ চিকিৎসক রণদীপ গুলেরিয়া৷ তাঁর সাফ কথা, ‘যে ভাবেই হোক করোনা পরীক্ষার মাত্রা বাড়াতে হবে, বিশেষ করে করোনার হটস্পট এলাকাগুলিতে৷ এর মাধ্যমেই আমরা চিকিৎসাক্ষেত্রে দিশা পাব, সঠিক পরিকল্পনা করতে পারব, যার ভিত্তিতে তৈরি হবে করোনা প্রতিরোধক স্ট্র্যাটেজি৷’

কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা সংক্রমণ রোধের ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে আরও দু’টি বিষয় জড়িত আছে, তা হল ট্র্যাকিং ও ট্রিটমেন্ট৷ একজন করোনা পজিটিভ রোগীর কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং যথাযথ না হলে সংক্রমণের গতি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়৷ একই রকম ভাবে করোনা রোগীর ঠিকমত চিকিৎসা না হলে তাঁর প্রাণ সংশয় হতে পারে৷

চিকিৎসার ক্ষেত্রেও কিছু বদল এনেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিনের যে কম্বিনেশন করোনা রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করার কথা এতদিন বলা হয়েছে, সেই নীতি থেকে সরে এসেছে কেন্দ্র। বাদ পড়েছে অ্যাজিথ্রোমাইসিন। পরিস্থিতি গুরুতর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে: বয়স ষাটের বেশি বা করোনা রোগীর উচ্চচাপ বা ডায়াবিটিস বা ফুসফুস বা কিডনি বা লিভারের ক্রনিক অসুখ রয়েছে। হৃদরোগ বা স্থূলত্বকেও ধরা হয়েছে এর মধ্যে। জরুরি পরিস্থিতিতে মডারেট রোগীদের ক্ষেত্রে রেমডেসিভির ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে নতুন নীতিতে। তবে ১২ বছরের নীচের শিশু, অন্তঃসত্ত্বা বা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মা বা গুরুতর কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে ওই ওষুধ প্রয়োগ করা যাবে না।

Source link

Your 250x250 Banner Code