মদিনায় যেভাবে রাসুলে পাক (ﷺ ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন !

0
266
মদিনায় যেভাবে রাসুলে পাক (ﷺ ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন !
মদিনায় যেভাবে রাসুলে পাক (ﷺ ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন !

মদিনায় যেভাবে রাসুলে পাক (ﷺ ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন !

সাইয়্যেদুল আম্বিয়া ইমামুল মুরসালিন রাসুলে পাক (ﷺ ) রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন মদিনার মসজিদে নববী শরীফ থেকে এমন কি অর্থনীতি, বিচার-নীতি,সমাজ -নীতি ,আইন প্রণয়ন সহ সমস্ত কার্যকম।

যা রাষ্ট্রীয় সংবিধানের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ।আর এই বিষয় গুলো সমাধানের জন্যই প্রয়োজন সংগঠনের।আবার সংগঠন ও ব্যক্তিকেন্দ্রীক হলে বিষয়গুলোর সমাধান সুষ্ঠ ভাবে হয় না প্রয়োজন হয় রাষ্ট্রকেন্দ্রীক বা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সংগঠনের।

আর এই তাড়না থেকেই সূচনা হয় রাজনীতির।আর এই বিশাল দায়িত্ব আন্জাম দেওয়ার জন্য দরকার কুরআন – সুন্নাহ’র জ্ঞানে জ্ঞানী,সুশিক্ষিত,নিস্বার্থ,নিষ্কলুষ, নিষ্ঠাবান ব্যক্তির।যিনি একটি সমাজের,রাষ্ট্রের সমস্ত জনগণকে নেতৃত্ব দিবেন।আর উনিই যদি মসজিদের ইমাম হউন তাহলে তো কথায় নেই “সোনায় সোহাগা” হয়ে যাবে।

যিনি প্রতিনিয়ত দৈনিক ৫ বার জনগণকে আল্লাহর আদেশ মান্য করতে নেতৃত্ব দেন মসজিদে।উনিই সমাজের, রাষ্ট্রের ইমাম হওয়ার যোগ্য। তাই রাসুলে করিম(ﷺ) এর যোগ্য উত্তরসূরী আউলাদ তথা উরাসাতুল আম্বিয়া হাক্কানী সুন্নী আলেমদের উচিত শুধু মসজিদে , মিম্বরে , মাহফিলের মাধ্যমেই হকের বাণী জনগণের কাছে পৌছানো নয়, বরং রাজপথে ও রাসুলে করিম(ﷺ)এর সুন্নাত বাস্তবায়নের লক্ষে হক তথা সত্যের বাণী দেশবাসীর নিকট তুলে ধরা।যদিও তা তিতা হয়।যা স্বয়ং আল্লাহর আদেশ। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন:- ♦♦♦ এবং তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না। (সুরা বাকারা – ৪২)।


কিন্তু এ ক্ষেত্রে অধিকাংশই বেমালুম। যারা কুরআন- সুন্নাহ কে ব্যবহার করেছে নিজ স্বার্থে। আল্লাহ ও আল্লাহর বিধানকে বাস্তবায়নের জন্য নই। কুরআন – সুন্নাহ’র রাষ্ট্র গঠনের জন্য নই। রাষ্ট্র গঠনের কথা আসলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে লজ্জায়, ভয়ে। হয়তো উনারা কুরআন -সুন্নাহ কে আমলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে রেখেছেন।নয় এই কুরআন শুধু আমলে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য আল্লাহ নাযিল করেননি বরং আল্লাহর বিধান ও আইন বাস্তবায়নের জন্যই নাযিল করেছেন।
হ্যা,রাজনীতির ময়দানে অনেক বাধা,মসিবত আসবে অনেকে হেয় করবে অনেক কিছু বলবে কিন্তু না ঐদিকে কান দেওয়া মানে বোকামী। আমাকে মনে করতে হবে আমি আল্লাহর বিধান ও রাসুলে পাক (দ) এর সুন্নাহকে বাস্তবায়নের জন্য জিহাদের মাঠে নেমেছি। একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, জিহাদের ময়দান থেকে কিন্তু পিছু হটা যায় না হয়তো শহিদ নয়তো গাজী হয়েই ফিরতে হবে।পিছু হটা হচ্ছে কাপুরুষের কাজ যা নবী(দ) গোলামদের ক্ষেত্রে বেমানান।


যেমনি সুন্নী আলেমরা মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে সমস্ত প্রকার হালাল – হারাম সহ যাবতীয় সমস্যার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকেন। তেমনি উনাদের উচিত মসজিদের মিম্বর থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উদ্যোগ নেওয়া,রাসুলে পাক (দ) এর সেই সুন্নাতকে আবার ও বাস্তবায়ন করা, জনগণকে রাসুলে পাক(ﷺ) নির্দেশিত সেই আদর্শিক রাজনীতির শিক্ষা দেওয়া। কারণ ইসলাম হচ্ছে পরিপূর্ণ ধর্ম যা কুরআন ই পাকের বাণী দ্বারা স্বীকৃত। আর এই কুরআনেই মানব জীবনের সমস্ত আইন -কানুন,নিয়ম- নীতি, বিধি-বিধান নিহিত রয়েছে ।

10-Minute-Madrasah-Group-Join


এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন:- ♦♦♦ আমি আপনার উপর কুরআন নাজিল করেছি যা প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যা সরূপ ( সুরা নাহল -৮৯)।
সুতরাং কোন মুসলিমের উচিত নয় আল্লাহ প্রদত্ত সংবিধান থাকতে মানব রচিত সংবিধানকে আকড়ে ধরা । মানব রচিত বিধান দ্বারা বিচার ফায়সালা করা।
এ ব্যাপারে আল্লাহ পাক কুরআনে ইরশাদ করেন :- ♦♦♦যারা আল্লাহর দেয়া বিধান অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করেনা তারা ফাফির।
অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন তারা জালিম, তারা ফাসিক। (সুরা মায়েদা – ৪৪,৪৫,৪৭)।
তাই আমাদের উচিত আল্লাহ প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার শপথ নেয়া। নতুবা মানুষ যদি আল্লাহর বিধানকে প্রধান্য না দিয়ে মানব গড়া মতবাদের পিছনে ছুটতে থাকে তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রে কলহ , ফিতনা -ফাসাদ ও অরাজকতা সৃষ্টি হবে।যার ফলে অন্যায়ের মাত্রা ওএমনভাবে বেড়ে যাবে যে মানুষ অন্যায় করতে দ্বিধাবোধ করবে না।
অথচ রাসুলে করিম(ﷺ) ইরশাদ করেন :- তোমরা যখন কোন অন্যায় বা জুলুম দেখবে সাথে সাথে তা হাত দিয়ে প্রতিহত কর, হাত দিয়ে না পারলে মুখ দিয়ে প্রতিহত কর , তা ও যদি না পার অন্তর দিয়ে ঘৃণা কর (যা দূর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক)
আর আল্লাহ তায়ালা কুরআনে পাকে ইরশাদ করেন:- ♦♦♦রাসুলে পাক(ﷺ) তোমাদের যা আদেশ দেন তোমরা তা গ্রহণ কর , যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক (সুরা হাশর -০৭)।