২ মাস আগেই মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল রোহিঙ্গারা

0
25
Print Friendly, PDF & Email

টেকনাফে আসা রোহিঙ্গারা ২ মাস আগে ট্রলারে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কড়াকড়ির কারণে সেখানে ভিড়তে না পেরে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে ভিড়েছে সাড়ে ৩ শতাধিক রোহিঙ্গা বোঝাই একটি ট্রলার। সাগরপথে আরও ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ট্রলারে থাকা রোহিঙ্গারা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন টেকনাফের উপকূলীয় বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা নামক এলাকায় সমুদ্র সৈকতে রোহিঙ্গা বোঝাই ট্রলারটি ভিড়িয়ে দিয়ে মাঝি মাল্লারা পালিয়ে যায়।

এ সময় ট্রলারে থাকা রোহিঙ্গারা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে তীরে নামিয়ে আনে। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের সাগর পাড়ে জড়ো করে রাখেন।

স্থানীয়রা জানান, উদ্ধার রোহিঙ্গাদের সেখানে শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ট্রলারে থেকে তারা দূর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ৩৮২ জন রোহিঙ্গাকে সেখানে একত্রিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। যাদের অধিকাংশ নারী। বাকিরা পুরুষ ও শিশু।

জানা যায়, এসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, টেকনাফের মোচনী ও মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এলাকার রোহিঙ্গা রয়েছে।

ট্রলারে থাকা কুতুপালং ক্যাম্পের জাফর, মোচনি ক্যাম্পের ওমর ফারুকসহ বেশ কয়েকজনের সাথে বলে জানা গেছে, প্রায় দুইমাস আগে তারা সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রা করে। তাদের ট্রলারে ৪৯০ জন রোহিঙ্গা ছিল। দুই দফা মালয়েশিয়া উপকূলে পৌঁছেও কড়াকড়ির কারণে তারা সেদেশে ঢুকতে পারেনি। এভাবে দীর্ঘদিন তারা সাগরে ভাসতে থাকে। ট্রলারটি ছিল মিয়ানমারের। ট্রলারের মাঝিমাল্লারা ছিল মিয়ানমারের রাখাইন নাগরিক। কয়েকজন রোহিঙ্গা দালালও ছিল সেখানে। সাগরে ভাসতে ভাসতে একপর্যায়ে ট্রলারের প্রায় ৫০ যাত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যায় বলে দাবি করে রোহিঙ্গারা। যাদেরকে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

সপ্তাহ খানেক আগে ট্রলারটি সেন্টমার্টিন উপকূলের দিকে চলে আসে। অবশেষে বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে ট্রলারটি ভিড়িয়ে দেয়।

এ সময় বেশ কিছু রোহিঙ্গা পাহাড়ে ঢুকে পড়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

বাহাড়ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) লিয়াকত আলী বলেন, ‌‌‘উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের সাগর তীরে জড়ো করে রাখা হয়েছে। আনুমানিক সাড়ে ৩ শতাধিক রোহিঙ্গা হতে পারে বলে ধারণা করেছেন তিনি।

কোস্টগার্ডের টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে.কমান্ডার এম. সোহেল রানা রোহিঙ্গাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘তারা বেশ কিছুদিন আগে সাগরপথে মালয়েশিয়া যাত্রা করছিল। কিন্তু সেখানে ভিড়তে না পেরে আবার চলে আসে।’

এসএস

Source link