সূরা ফাতেহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ | সূরা বাকারা বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ

0
214
সূরা ফাতেহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ | সূরা বাকারা বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ
সূরা ফাতেহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ | সূরা বাকারা বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ
Print Friendly, PDF & Email

সূরা ফাতেহার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ﴿۱﴾


1:1 আল্লাহ্‌র নামে আরম্ভ, যিনি পরম দয়ালু, করুণাময়
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ۙ﴿۲﴾
1:2 সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর প্রতি, যিনি মালিক সমস্ত জগদ্বাসীর;


الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ ۙ﴿۳﴾
1:3 পরম দয়ালু, করুণাময়;


مٰلِکِ یَوۡمِ الدِّیۡنِ ؕ﴿۴﴾
1:4 প্রতিদান দিবসের মালিক।


اِیَّاکَ نَعۡبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسۡتَعِیۡنُ ؕ﴿۵﴾
1:5 আমরা (যেন) তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি!


اِہۡدِ نَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ۙ﴿۶﴾
1:6 আমাদেরকে সোজা পথে পরিচালিত করো!


صِرَاطَ الَّذِیۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَیۡہِمۡ ۬ۙ غَیۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَیۡہِمۡ وَ لَا الضَّآلِّیۡنَ ﴿۷﴾
1:7 তাঁদেরই   পথে, যাঁদের   উপর তুমি  অনুগ্রহ করেছো;   তাদের  পথে  নয়, যাদের উপর গযব নিপতিত হয়েছে এবং পথভ্রষ্টদের পথেও নয়।


1:1     Allah    -     beginning     with    the     name    of     -        the     Most Gracious, the Most Merciful.
1:2  All praise  is to    Allah,  the Lord of    all   the worlds  (the entire Creation.)
1:3 The Most Gracious, the Most Merciful
1:4 Owner of the Day of Recompense
1:5   You alone we worship  and  from You  alone  we seek help (and may we always).
1:6 Guide us on the Straight Path.

1:7   The  path  of  those   whom  You   have   favoured  -  Not  the  path   of   those  who  earned   Your   anger   -    nor  of  the astray.


Sura Bakara – সূরা বাকারা বাংলা উচ্চারণ সহ অর্থ

الٓـمّٓ ۚ﴿۱﴾
ذٰلِکَ  الۡکِتٰبُ لَا رَیۡبَ ۚۖۛ فِیۡہِ ۚۛ ہُدًی  لِّلۡمُتَّقِیۡنَ ۙ﴿۲﴾
2:1 আলিফ-লাম-মীম।
2:2 সে-ই  উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন   কিতাব (ক্বোরআন)   কোন  সন্দেহের ক্ষেত্র নয়। তাতে হিদায়ত রয়েছে খোদাভীতিসম্পন্নদের জন্য;
2:3   তারাই,  যারা   না   দেখে  ঈমান   আনে,    নামায    কায়েম  রাখে   এবং আমার দেয় জীবিকা থেকে আমার পথে ব্যয় করে।


الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡغَیۡبِ وَ یُقِیۡمُوۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ  مِمَّا رَزَقۡنٰہُمۡ  یُنۡفِقُوۡنَ ۙ﴿۳﴾
وَ الَّذِیۡنَ یُؤۡمِنُوۡنَ بِمَاۤ  اُنۡزِلَ اِلَیۡکَ وَ مَاۤ اُنۡزِلَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ وَ بِالۡاٰخِرَۃِ ہُمۡ یُوۡقِنُوۡنَ ؕ﴿۴﴾
2:4 এবং তারাই, যারা ঈমান আনে এর উপর যা, হে মাহবুব!  আপনার প্রতি   অবতীর্ণ    হয়েছে    এবং    যা     আপনার    পূর্বে    অবতীর্ণ     হয়েছে   আর পরলোকের উপর নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে।


اُولٰٓئِکَ عَلٰی ہُدًی مِّنۡ رَّبِّہِمۡ ٭ وَ اُولٰٓئِکَ ہُمُ  الۡمُفۡلِحُوۡنَ ﴿۵﴾
2:5 সে   সব লোক   তাদের  রবের পক্ষ থেকে হিদায়তের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং তারাই সফলকাম।
اِنَّ الَّذِیۡنَ  کَفَرُوۡا سَوَآءٌ  عَلَیۡہِمۡ ءَاَنۡذَرۡتَہُمۡ  اَمۡ  لَمۡ  تُنۡذِرۡہُمۡ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ﴿۶﴾
2:6  নিশ্চয় তারা,   যাদের অদৃষ্টে কুফর রয়েছে  তাদের জন্য  সমান-চাই আপনি  তাদেরকে    ভীতি   প্রদর্শন করুন কিংবা না-ই করুন। তারা ঈমান আনার নয়।


خَتَمَ اللّٰہُ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ وَ عَلٰی سَمۡعِہِمۡ ؕ  وَ عَلٰۤی اَبۡصَارِہِمۡ غِشَاوَۃٌ ۫ وَّ لَہُمۡ عَذَابٌ عَظِیۡمٌ ﴿۷﴾
2:7  আল্লাহ্‌   তাদের  অন্তরগুলোর   উপর  এবং   কানগুলোর   উপর  মোহর ছেপে    দিয়েছেন।      আর    তাদের    চোখের    উপর     কালো-ঠুলী    (আবরণ) রয়েছে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।


وَ مِنَ النَّاسِ مَنۡ یَّقُوۡلُ اٰمَنَّا بِاللّٰہِ وَ بِالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ مَا ہُمۡ بِمُؤۡمِنِیۡنَ ۘ﴿۸﴾
2:8  এবং কিছু  লোক বলে, ‘আমরা   আল্লাহ্‌ ও  শেষ দিনের উপর ঈমান এনেছি।’ এবং (প্রকৃতপক্ষে) তারা ঈমানদার নয়।


یُخٰدِعُوۡنَ اللّٰہَ وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۚ وَ مَا یَخۡدَعُوۡنَ  اِلَّاۤ  اَنۡفُسَہُمۡ وَ مَا یَشۡعُرُوۡنَ ؕ﴿۹﴾
2:9      ধোকা       দিতে      চায়        আল্লাহ্‌      তা’আলা       ও      ঈমানদেরকে       এবং প্রকৃতপক্ষে,     তারা   ধোকা    দিচ্ছে    না,   কিন্তু   নিজেদের   আত্মাকেই   এবং তাদের অনুভূতি নেই।


فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ مَّرَضٌ ۙ فَزَادَہُمُ  اللّٰہُ  مَرَضًا ۚ  وَ لَہُمۡ عَذَابٌ اَلِیۡمٌۢ  ۬ۙ بِمَا کَانُوۡا یَکۡذِبُوۡنَ ﴿۱۰﴾
2:10  তাদের  অন্তরগুলোতেই  ব্যাধি   রয়েছে,     অত:পর    আল্লাহ্‌   তাদের ব্যাধি   আরো বৃদ্ধি    করে দিয়েছেন  এবং  তাদের   জন্য অবধারিত রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি, তাদের মিথ্যার পরিণামে।


وَ اِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ لَا تُفۡسِدُوۡا فِی الۡاَرۡضِ ۙ  قَالُوۡۤا اِنَّمَا نَحۡنُ مُصۡلِحُوۡنَ ﴿۱۱﴾
2:11  তাদেরকে  যখন বলা     হয়,  ‘পৃথিবীতে  বিবাদ সৃষ্টি  করোনা’ তখন তারা বলে, ‘আমরাই তো সংশোধনবাদী।’


اَلَاۤ اِنَّہُمۡ ہُمُ الۡمُفۡسِدُوۡنَ وَ لٰکِنۡ لَّا یَشۡعُرُوۡنَ ﴿۱۲﴾
2:12 শুনছো! তারাই বিবাদ সৃষ্টিকারী; কিন্তু তাদের সে অনুভূতি নেই।


وَ  اِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ اٰمِنُوۡا کَمَاۤ اٰمَنَ النَّاسُ قَالُوۡۤا اَنُؤۡمِنُ کَمَاۤ اٰمَنَ السُّفَہَآءُ ؕ اَلَاۤ اِنَّہُمۡ ہُمُ  السُّفَہَآءُ  وَ لٰکِنۡ لَّا  یَعۡلَمُوۡنَ ﴿۱۳﴾
2:13  এবং   যখন  তাদেরকে    বলা   হয়,  ‘ঈমান  আনো  যেমন  অপরাপর  লোকেরা    ঈমান     এনেছে’    তখন    তারা    বলে,      ‘নির্বোধদের     মতো    কি  আমরাও বিশ্বাস (ঈমান) স্থাপন  করবো?’ শুন্‌ছো! তারাই হলো নির্বোধ; কিন্তু তারা তা জানেনা।


وَ  اِذَا لَقُوا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا قَالُوۡۤا اٰمَنَّا ۚۖ وَ  اِذَا خَلَوۡا اِلٰی شَیٰطِیۡنِہِمۡ ۙ قَالُوۡۤا اِنَّا مَعَکُمۡ ۙ اِنَّمَا نَحۡنُ مُسۡتَہۡزِءُوۡنَ ﴿۱۴﴾
2:14 এবং  যখন ঈমানদারদের  সাথে সাক্ষাৎ করে তখন বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি।’ আর যখন নিভৃতে তাদের শয়তানদের সাথে মিলিত হয় তখন     বলে,    ‘আমরা   তোমাদের   সাথে   রয়েছি।   আমরা    তো   এমনিতে তাদের সাথে ঠাট্টা-তামাশা করে থাকি।’


اَللّٰہُ یَسۡتَہۡزِئُ بِہِمۡ وَ یَمُدُّہُمۡ  فِیۡ طُغۡیَانِہِمۡ یَعۡمَہُوۡنَ ﴿۱۵﴾
2:15   আল্লাহ্‌  তাদের  সাথে  ‘ইস্তিহ্‌যা’  করেন  (যেমনি  তাঁর  জন্য   শোভা পায়)      এবং    তাদেরকে    অবকাশ   দেন,   যেন   তারা   তাদের   অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়াতে থাকে।


اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ اشۡتَرَوُا الضَّلٰلَۃَ بِالۡہُدٰی ۪  فَمَا رَبِحَتۡ تِّجَارَتُہُمۡ وَ مَا کَانُوۡا مُہۡتَدِیۡنَ ﴿۱۶﴾
2:16 তারা এমন সব  লোক,   যারা  হিদায়তের বিনিময়ে  গোমরাহী  ক্রয় করেছে।   সুতরাং   তাদের   এ   ব্যবসা   কোন   লাভ   আনয়ন   করেনি   এবং  তারা ব্যবসার (লাভজনক) পন্থা জানতোই না।


مَثَلُہُمۡ کَمَثَلِ الَّذِی اسۡتَوۡقَدَ نَارًا ۚ  فَلَمَّاۤ اَضَآءَتۡ مَا حَوۡلَہٗ ذَہَبَ اللّٰہُ بِنُوۡرِہِمۡ وَ تَرَکَہُمۡ فِیۡ ظُلُمٰتٍ لَّا یُبۡصِرُوۡنَ ﴿۱۷﴾
2:17    তাদের    দৃষ্টান্ত   ঐ   ব্যক্তির    ন্যায়,   যে     আগুন    প্রজ্জ্বলিত   করেছে;  অত:পর    যখন  তা   দ্বারা   আশেপাশে   সবকিছু   আলোকিত  হয়ে   উঠলো,  তখন   আল্লাহ্‌   তাদের   জ্যোতি   অপসারণ  করে   নিলেন  এবং  তাদেরকে   (এমনভাবে)   অন্ধকাররাশিতে    ছেড়ে    দিলেন   যে,   তারা   কিছুই   দেখতে পায় না।


صُمٌّۢ  بُکۡمٌ عُمۡیٌ فَہُمۡ لَا یَرۡجِعُوۡنَ ﴿ۙ۱۸﴾
اَوۡ کَصَیِّبٍ مِّنَ السَّمَآءِ فِیۡہِ ظُلُمٰتٌ وَّ رَعۡدٌ وَّ بَرۡقٌ ۚ یَجۡعَلُوۡنَ اَصَابِعَہُمۡ فِیۡۤ  اٰذَانِہِمۡ مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الۡمَوۡتِ ؕ وَ اللّٰہُ مُحِیۡطٌۢ بِالۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۱۹﴾
2:18 বধির, বোবা ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসার নয়;
2:19    কিংবা      যেমন,     আস্‌মান     থেকে    বর্ষণরত     বৃষ্টি,     যাতে    রয়েছে   অন্ধকাররাশি,    বজ্র    ও    বিদ্যুৎ-চমক;    (তারা)    নিজেদের    কানে    আঙ্গুল  প্রবেশ   করিয়ে    দিচ্ছে   বজ্র-ধ্বনির   কারনে,   মৃত্যুর   ভয়ে;    এবং    আল্লাহ্‌   কাফিরদেরকে পরিবেষ্টন করে রয়েছেন।


یَکَادُ الۡبَرۡقُ یَخۡطَفُ اَبۡصَارَہُمۡ ؕ کُلَّمَاۤ اَضَآءَ لَہُمۡ مَّشَوۡا فِیۡہِ ٭ۙ وَ اِذَاۤ اَظۡلَمَ عَلَیۡہِمۡ قَامُوۡا ؕ وَ لَوۡ شَآءَ اللّٰہُ  لَذَہَبَ بِسَمۡعِہِمۡ وَ اَبۡصَارِہِمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ ﴿۲۰﴾
2:20  বিদ্যুৎ-চমক এমনি  মনে হয়  যেন  তাদের  দৃষ্টি-শক্তি কেড়ে  নিয়ে যাবে।   যখনই   সামান্য  বিদ্যুতালোক  (তাদের  সম্মুখে)   উদ্ভাসিত   হলো   তখন  তাতে  চলতে  লাগলো এবং  যখন অন্ধকারচ্ছন্ন হলো    তখন   তারা দাঁড়িয়ে     রইলো।    আল্লাহ্‌    ইচ্ছা    করলে    তাদের      কান     ও     চোখ    নিয়ে যেতেন। নিঃসন্দেহে, আল্লাহ্‌ সব কিছু করতে সক্ষম।


یٰۤاَیُّہَا النَّاسُ اعۡبُدُوۡا رَبَّکُمُ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ وَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ ﴿ۙ۲۱﴾
2:21      হে      মানবকুল!      (তোমরা)      স্বীয়     রবের     ইবাদত     করো,       যিনি  তোমাদের   এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের  সৃষ্টি  করেছেন;  এ  আশায় যে,   তোমাদের পরহেযগারী অর্জিত হবে।


الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ فِرَاشًا وَّ السَّمَآءَ بِنَآءً ۪ وَّ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً  فَاَخۡرَجَ بِہٖ مِنَ الثَّمَرٰتِ رِزۡقًا لَّکُمۡ ۚ فَلَا تَجۡعَلُوۡا لِلّٰہِ اَنۡدَادًا وَّ اَنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۲۲﴾
2:22  এবং  যিনি    তোমাদের  জন্য    যমীনকে   বিছানা   এবং    আস্‌মানকে ইমারত  করেছেন  এবং  আস্‌মান  থেকে  পানি বর্ষন   করেছেন।  অতঃপর তা’দ্বারা     কিছু    ফল    সৃষ্টি   (উৎপন্ন)    করেন   তোমাদের    আহারের   জন্য।  সুতরাং জেনে-বুঝে আল্লাহ্‌র জন্য সমকক্ষ দাঁড় করাবে না।


وَ اِنۡ کُنۡتُمۡ فِیۡ رَیۡبٍ مِّمَّا نَزَّلۡنَا عَلٰی عَبۡدِنَا فَاۡتُوۡا بِسُوۡرَۃٍ مِّنۡ مِّثۡلِہٖ ۪ وَ ادۡعُوۡا شُہَدَآءَکُمۡ مِّنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ  اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۲۳﴾
2:23  এবং যদি  তোমাদের কোন  সন্দেহ হয় তাতে,   যা  আমি স্বীয়  (এ  খাস)  বান্দার  উপর  নাযিল  করেছি,  তবে  এর  অনুরুপ  একটা  সূরা  তো  নিয়ে     এসো    এবং    আল্লাহ্‌     ব্যতীত    নিজেদের    সকল    সহায়তাকারীকে আহবান করো (সাহায্যের জন্য), যদি তোমরা সত্যবাদী হও!


فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا وَ لَنۡ تَفۡعَلُوۡا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِیۡ وَقُوۡدُہَا النَّاسُ وَ الۡحِجَارَۃُ  ۚۖ اُعِدَّتۡ لِلۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۲۴﴾
2:24 অতঃপর যদি আনয়ন করতে না পারো, আর আমি চ্যালেন্জ করছি যে, কখনো আনতে পারবে না,  তবে ভয়  করো  ঐ আগুনকে, যার ইন্ধন হচ্ছে মানুষ ও পাথর, (যা) তৈরী রাখা হয়েছে কাফিরদের জন্য।


وَ بَشِّرِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اَنَّ لَہُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ؕ  کُلَّمَا رُزِقُوۡا مِنۡہَا مِنۡ ثَمَرَۃٍ رِّزۡقًا ۙ قَالُوۡا ہٰذَا الَّذِیۡ رُزِقۡنَا مِنۡ قَبۡلُ ۙ وَ اُتُوۡا بِہٖ مُتَشَابِہًا ؕ وَ لَہُمۡ فِیۡہَاۤ اَزۡوَاجٌ مُّطَہَّرَۃٌ ٭ۙ وَّ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۲۵﴾
2:25 এবং সুসংবাদ  দিন  তাদেরকে,  যারা ঈমান এনেছে  এবং সৎকর্ম করেছে    যে,    তাদের     জন্য     বাগান    (জান্নাত)     রয়েছে,    যার     নিম্নদেশে নহরসমূহ  প্রবাহমান। যখন তাদেরকে  ঐ  বাগানগুলো  থেকে  কোন ফল খেতে  দেয়া  হবে  তখনই  তারা  (সেটার  বাহ্যিক   আকার  দেখে)   বলবে, ‘এতো  সে-ই  রিযক্ব,  যা  আমরা  পূর্বে পেয়েছিলাম; এবং  সে-ই ফল, যা  (বাহ্যিক    আকৃতিগতভাবে)   পরষ্পর    সাদৃশ্যময়,    তাদেরকে    দেয়া   হবে এবং    তাদের   জন্য    সে-ই   বাগানগুলোতে   (জান্নাতসমূহ)    পবিত্র   স্ত্রীগণ রয়েছে এবং তারা ওইগুলোর মধ্যে স্থায়ীভাবে থাকবে।


اِنَّ اللّٰہَ لَا یَسۡتَحۡیٖۤ اَنۡ یَّضۡرِبَ مَثَلًا مَّا بَعُوۡضَۃً فَمَا فَوۡقَہَا ؕ فَاَمَّا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا فَیَعۡلَمُوۡنَ اَنَّہُ الۡحَقُّ مِنۡ رَّبِّہِمۡ ۚ وَ اَمَّا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَیَقُوۡلُوۡنَ مَا ذَاۤ  اَرَادَ  اللّٰہُ بِہٰذَا مَثَلًا ۘ یُضِلُّ بِہٖ کَثِیۡرًا ۙ وَّ یَہۡدِیۡ بِہٖ کَثِیۡرًا ؕ وَ مَا یُضِلُّ بِہٖۤ  اِلَّا الۡفٰسِقِیۡنَ ﴿ۙ۲۶﴾
2:26 নিশ্চয় আল্লাহ্‌ যে   কোন  জিনিষের দৃষ্ঠান্ত  বর্ণনা  করতে লজ্জাবোধ  করেন  না-  মশা  হোক  কিংবা  তদপেক্ষা  বড়  কিছু।  সুতরাং   যারা  ঈমান  এনেছে তারা তো জানে যে, এটা তাদের রবের পক্ষ থেকে, সত্য। বাকী রইলো   কাফিরগণ,  তারা    বলে,   ‘এ  ধরণের   উপমায়  আল্লাহ্‌র     উদ্দেশ্য কি?’     আল্লাহ্‌       তা     দ্বারা    অনেককে      গোমরাহ্‌    করেন    এবং    অনেককে  হিদায়ত করেন, এবং তা দ্বারা তাদেরকেই পথভ্রষ্ট করেন, যারা অবাধ্য-


الَّذِیۡنَ یَنۡقُضُوۡنَ عَہۡدَ  اللّٰہِ مِنۡۢ بَعۡدِ مِیۡثَاقِہٖ ۪ وَ یَقۡطَعُوۡنَ مَاۤ اَمَرَ اللّٰہُ بِہٖۤ  اَنۡ یُّوۡصَلَ وَ یُفۡسِدُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ؕ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ﴿۲۷﴾
2:27  তারাই, যারা   আল্লাহ্‌র  অঙ্গীকার  ভঙ্গ করে  পাকাপোক্ত   হবার পর এবং    ছিন্ন   করে     ঐ   সম্পর্ককে,   যা   জুড়ে   রাখার    জন্য   আল্লাহ্‌     নির্দেশ  দিয়েছেন    এবং    যমীনে    ফ্যাসাদ    ছড়িয়ে    বেড়ায়;    তারা    ক্ষতির    মধ্যে  রয়েছে।


کَیۡفَ تَکۡفُرُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ کُنۡتُمۡ اَمۡوَاتًا فَاَحۡیَاکُمۡ ۚ ثُمَّ یُمِیۡتُکُمۡ ثُمَّ یُحۡیِیۡکُمۡ ثُمَّ  اِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ﴿۲۸﴾
2:28   আশ্চর্য!   তোমরা   কিরুপে   আল্লাহ্‌কে   অস্বীকারকারী   হবে?   অথচ  তোমরা মৃত ছিলে, তিনি তোমাদেরকে জীবিত করেন, আবার তোমাদের মৃত্যু   ঘটাবেন,   পুনরায়   তোমাদেরকে   জীবিত   করবেন;    আবার     তাঁরই দিকে দিকে ফিরে যাবে।


ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ لَکُمۡ مَّا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا ٭ ثُمَّ اسۡتَوٰۤی اِلَی السَّمَآءِ فَسَوّٰىہُنَّ سَبۡعَ سَمٰوٰتٍ ؕ وَ ہُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿۲۹﴾
2:29  তিনিই,    যিনি  তোমাদের   জন্য   সৃষ্টি  করেছেন   যা  কিছু  পৃথিবীতে রয়েছে;   অতঃপর   তিনি    আসমানের   দিকে   ‘ইস্তিওয়া’   (ইচ্ছা)    করলেন, তখন ঠিক সপ্ত-আস্‌মান সৃষ্টি করলেন, এবং তিনি সবকিছু জানেন।


وَ  اِذۡ قَالَ رَبُّکَ لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اِنِّیۡ جَاعِلٌ فِی الۡاَرۡضِ خَلِیۡفَۃً ؕ قَالُوۡۤا اَتَجۡعَلُ فِیۡہَا مَنۡ یُّفۡسِدُ فِیۡہَا وَ یَسۡفِکُ الدِّمَآءَ ۚ وَ نَحۡنُ نُسَبِّحُ بِحَمۡدِکَ وَ نُقَدِّسُ لَکَ ؕ قَالَ اِنِّیۡۤ اَعۡلَمُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۳۰﴾
2:30      এবং      (স্মরণ      করুন!)      যখন       আপনার       রব      ফিরিশ্‌তাদেরকে  বলেছিলেন, আমি পৃথিবীতে আপন প্রতিনিধি সৃষ্টিকারী।’ (তারা) বললো, ‘আপনি  কি   এমন   কোন   সৃষ্টিকে   প্রতিনিধি  করবেন,   যে  তাতে  ফ্যাসাদ ছড়াবে ও তাতে রক্তপাত   ঘটাবে?   আর আমরা আপনার প্রশংসা   পূর্বক  আপনার তাস্‌বীহ (স্তূতিগান) করি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি।’ তিনি বললেন, আমার জানা আছে যা তোমরা জানোনা।


وَ عَلَّمَ اٰدَمَ الۡاَسۡمَآءَ کُلَّہَا ثُمَّ عَرَضَہُمۡ عَلَی الۡمَلٰٓئِکَۃِ ۙ فَقَالَ اَنۡۢبِـُٔوۡنِیۡ بِاَسۡمَآءِ ہٰۤؤُلَآءِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ ﴿۳۱﴾
2:31    এবং     আল্লাহ্‌     তা’আলা    আদমকে    যাবতীয়    (বস্তুর)    নাম    শিক্ষা দিলেন    অতঃপর     সমুদয়    (বস্তু)   ফিরিশ্‌তাদের   সামনে   উপস্থাপন   করে এরশাদ করলেন, ‘সত্যবাদী হলে এসব বস্তুর নাম বলো তো!’


قَالُوۡا سُبۡحٰنَکَ لَا عِلۡمَ لَنَاۤ اِلَّا مَا عَلَّمۡتَنَا ؕ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَلِیۡمُ الۡحَکِیۡمُ ﴿۳۲﴾
2:32  (তারা) বললো, ‘পবিত্রতা  আপনারই, আমাদের  কোন জ্ঞান নেই, কিন্তু  (ততটুকুই)  যতটুকু  আপনি আমাদেরকে  শিক্ষা দিয়েছেন। নিশ্চয়ই  আপনিই জ্ঞানময়, প্রজ্ঞাময়।’


قَالَ یٰۤاٰدَمُ اَنۡۢبِئۡہُمۡ بِاَسۡمَآئِہِمۡ ۚ فَلَمَّاۤ اَنۡۢبَاَہُمۡ بِاَسۡمَآئِہِمۡ ۙ قَالَ اَلَمۡ اَقُلۡ لَّکُمۡ اِنِّیۡۤ  اَعۡلَمُ غَیۡبَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ۙ وَ اَعۡلَمُ مَا تُبۡدُوۡنَ وَ مَا کُنۡتُمۡ تَکۡتُمُوۡنَ ﴿۳۳﴾
2:33 তিনি এরশাদ  করলেন, ‘হে    আদম! বলে  দাও   তাদেরকে সমুদয় (বস্তুর)  নাম।’   যখন   তিনি  (অর্থাৎ  আদম)  তাদেরকে  সমুদয়  বস্তুর  নাম বলে    দিলো,    এরশাদ  করলেন,   ‘আমি   কি  (একথা)  বলছিলাম     না  যে, আমি    জানি   আস্‌মানসমূহ   এবং    যমীনের    সমস্ত   গোপন   (অদৃশ্য)    বস্তু  সম্পর্কে এবং আমি


وَ اِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا  اِلَّاۤ  اِبۡلِیۡسَ ؕ اَبٰی وَ اسۡتَکۡبَرَ ٭۫ وَ  کَانَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ ﴿۳۴﴾
2:34 এবং (স্মরণ  করুন!) যখন আমি ফিরিশ্‌তাদেরকে  নির্দেশ দিলাম, ‘তোমরা    আদমকে   সাজদা   করো।’     তখন    সবাই    সাজদা   করেছিলো,   ইবলীস ব্যতীত; সে অমান্যকারী হলো ও অহংকার করলো এবং কাফির হয়ে গেলো।


وَ قُلۡنَا یٰۤاٰدَمُ اسۡکُنۡ اَنۡتَ وَ زَوۡجُکَ الۡجَنَّۃَ وَ کُلَا مِنۡہَا رَغَدًا حَیۡثُ شِئۡتُمَا ۪ وَ لَا تَقۡرَبَا ہٰذِہِ الشَّجَرَۃَ فَتَکُوۡنَا مِنَ الظّٰلِمِیۡنَ ﴿۳۵﴾

2:35  এবং আমি এরশাদ করলাম,  ‘হে  আদম!  তুমি ও  তোমার স্ত্রী এই জান্নাতে অবস্থান করো এবং খাও এখানে কোন বাধা-বিঘ্ন ব্যাতিরেকেই, যেখানে   তোমাদের  মন   চায়;  কিন্তু   এই  গাছের  নিকটে  যেওনা!  গেলে,  (তোমরা) সীমা অতিক্রমকারীদের অন্তুর্ভূক্ত হয়ে যাবে।’


فَاَزَلَّہُمَا الشَّیۡطٰنُ عَنۡہَا فَاَخۡرَجَہُمَا مِمَّا کَانَا فِیۡہِ ۪ وَ قُلۡنَا اہۡبِطُوۡا بَعۡضُکُمۡ لِبَعۡضٍ عَدُوٌّ ۚ وَ لَکُمۡ فِی الۡاَرۡضِ مُسۡتَقَرٌّ  وَّ مَتَاعٌ اِلٰی  حِیۡنٍ ﴿۳۶﴾
2:36  অতঃপর   শয়তান  জান্নাত  থেকে  তাদের   পদস্খলন  ঘটালো  এবং যেখানে ছিলো সেখান থেকে তাঁদেরকে আলাদা করে দিলো। আর আমি এরশাদ        করলাম,      ‘(তোমরা)      নীচে      নেমে      যাও!       তোমরা      পরষ্পর পরষ্পরের শত্রু;  এবং তোমাদেরকে একটা  (নির্দ্ধারিত)  সময়সীমা পর্যন্ত  পৃথিবীতে অবস্থান ও


فَتَلَقّٰۤی اٰدَمُ مِنۡ رَّبِّہٖ کَلِمٰتٍ فَتَابَ عَلَیۡہِ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ  التَّوَّابُ الرَّحِیۡمُ ﴿۳۷﴾
2:37   অতঃপর     শিখে    নিলেন   আদম   আপন   রবের   নিকট   থেকে   কিছু কলেমা   (বাণী)।    তখন   আল্লাহ্‌   তা’আলা   তাঁর   তওবা   কবুল     করলেন। নিশ্চয় তিনিই অত্যন্ত তাওবা কবুলকারী, দয়ালু।


قُلۡنَا اہۡبِطُوۡا مِنۡہَا جَمِیۡعًا ۚ فَاِمَّا یَاۡتِیَنَّکُمۡ مِّنِّیۡ ہُدًی فَمَنۡ تَبِعَ ہُدَایَ فَلَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ  وَ لَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ﴿۳۸﴾
2:38  আমি এরশাদ করলাম, ‘তোমরা সবাই জান্নাত থেকে নেমে যাও! অতঃপর   পরে যদি তোমাদের   নিকট  আমার পক্ষ  থেকে   কোন হিদায়ত  আসে, তবে যে ব্যক্তি  আমার সেই হিদায়তের অনুসারী  হবে, তার জন্য  না কোন ভয়, (এবং) না কোন দুঃখ থাকবে।


وَ الَّذِیۡنَ  کَفَرُوۡا وَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ﴿۳۹﴾
2:39       আর         ওই       সব       লোক,        যারা       কুফর       করবে       এবং       আমার নির্দশনগুলোকে       মিথ্যা      প্রতিপন্ন       করবে,      তারা      হলো        দোযখবাসী, তাদেরকে সেখানেই সর্বদা থাকতে হবে।


یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اذۡکُرُوۡا نِعۡمَتِیَ الَّتِیۡۤ اَنۡعَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ وَ اَوۡفُوۡا بِعَہۡدِیۡۤ اُوۡفِ بِعَہۡدِکُمۡ ۚ وَ اِیَّایَ فَارۡہَبُوۡنِ ﴿۴۰﴾
2:40   হে  ইয়া’কুবের   বংশধরগণ!  (তোমরা)   স্মরণ করো   আমার   ঐ    অনুগ্রহকে,   যা   আমি    তোমাদের উপর  করেছি  এবং   আমার   অঙ্গীকার   পূরণ  করো। আমি    ও    তোমাদের   অঙ্গীকার   পূরণ   করবো   এবং বিশেষ করে, আমারই ভয় (অন্তরে) রাখো।


وَ اٰمِنُوۡا بِمَاۤ اَنۡزَلۡتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَکُمۡ وَ لَا تَکُوۡنُوۡۤا اَوَّلَ کَافِرٍۭ بِہٖ ۪ وَ لَا تَشۡتَرُوۡا بِاٰیٰتِیۡ ثَمَنًا قَلِیۡلًا ۫ وَّ اِیَّایَ فَاتَّقُوۡنِ ﴿۴۱﴾

2:41 এবং (তোমরা) ঈমান আনো সেটার উপর, যা আমি   অবতীর্ণ করেছি সেটারই সত্যায়ন-কারীরুপে যা   তোমাদের   সাথে   আছে   এবং   সর্বপ্রথম   সেটার  অস্বীকারকারী হয়ো না। আর আমার আয়াতগুলোর বিনিময়ে      স্বল্পমূল্য      গ্রহণ      করো      না      এবং      শুধু  আমাকেই ভয় করো।