মহিলাদের বা মেয়েদের হায়েয,নিফাস ও ইস্তিহাযার মাসয়ালা

0
384

হায়েয,নিফাস ও ইস্তিহাযার মাসয়ালা। এগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা একদম হয় না বললেই চলে।
যেহেতু এই বিষয়ে জ্ঞান অর্জনও দ্বীনের অংশ সুতরাং এখানে লজ্জা পাওয়ার কিছুই নেই।
আমাদের কোন ভাই/বোন লজ্জায় এমন আলোচনা করেন না।তাই চিন্তা করলাম নিজে কিছুটা আলোচনা করি, আজ একটু নির্লজ্জ হয়ে যাই।
ইসলামে আল্লাহ তাআলা এমন কিছুই আমাদের উপর চাপিয়ে দেননি যা আমাদের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
আমরা লজ্জায় কাউকে হয়ত প্রশ্নও করি না এই বিষয়ে, অথচ এই সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী।
কেননা, আপনি না জানার কারণে যেটাকে মাসিক (পিরিয়ড) ভেবে নামায-রোযা বন্ধ রেখেছেন সেটা হয়ত ইস্তিহাযা।
ইস্তিহাযা অবস্থায় নামায-রোযা হারাম নয়।
তাই হায়েয-নিফাস ইস্তিহাযা সম্পর্কে সঠিক ও সুস্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক।
আমি খুবই সহজ ও নিজের ভাষাতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো তুলে ধরছি।
১.মাসিক হায়েজ বা পিরিয়ডের সর্বনিম্ন সময়সীমা ৩দিন ৩রাত।
সর্বোচ্চ ১০দিন ১০রাত।
৩দিনের কম বা ১০দিনের বেশী হলে সেটা ইস্তিহাযা।
২. ৩দিনের কম সময় হলে যে নামায গুলো বাদ দিয়েছিলে সেগুলোর কাযা আদায় করতে হবে।
৩. ১০দিনের বেশী সময় মাসিক হলে ১০দিন ১০রাতের পর থেকে নামায আদায় করতে হবে।
৪. কোন মাসে ৫দিন হায়েজ হয়ে বন্ধ হয়ে গেল।
আবার দুদিন পর শুরু হল।
তাহলে সেটাও পিরিয়ড বলে ধরে নিতে হবে।
কারণ পিরিয়ডের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০দিন ১০রাত।
৫. কারও টানা ১৫/২০দিন মাসিক হচ্ছে। এক্ষেত্রে ১০দিন ১০রাতকে পিরিয়ড হিসেবে ধরে বাকিদিনগুলো নামাজ আদায় করতে হবে।.
৬. দুই মাসের পিরিয়ডের মধ্যে মিনিমাম ১৫দিন গ্যাপ থাকতে হবে।
যেমন, কারও মাসিক বন্ধ হল মাসের ১ তারিখে।
মাসের ১৫ তারিখের আগে যদি আবার
শুরু হয় তাহলে সেটা পিরিয়ড নয়, বরং ইস্তিহাযা।
৭. গর্ভাবস্থায় ব্লিডিং হলে সেটা ইস্তিহাযা হবে।
৮. নিফাসের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৪০দিন। সর্বনিম্নের কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই।
৯. ৪০ দিনের কম সময়ে যখনই বন্ধ হবে তখন থেকে নামায আদায় করতে হবে।
১০. ৪০ দিনের বেশি হলে ৪০দিনের পর থেকে নামায আদায় করতে হবে।
১১. হায়েয ও নিফাস অবস্থায় স্ত্রী সহবাস সম্পূর্ণ হারাম।
ইস্তিহাযা অবস্থায় জায়েজ তবে অনুত্তম।
১২. হায়েয নিফাস অবস্থায় নামায রোযা কুরআন তিলাওয়াত নিষিদ্ধ।
তবে হায়েয-নিফাস অবস্থায় নামায পুরোপুরি মাফ, এগুলো কাজা আদায় করতে হবে না।
কিন্তু রোযা মাফ হবে না।
হায়েয-নিফাস অবস্থায় কাযা হওয়া রোযা অবশ্যই আদায় করতে হবে।
এ অবস্থায় যিকির, দুরূদ, দুআ ও কুরআনে যে দুআ গুলো আছে সেগুলো পড়া যাবে।
১৩. ইস্তিহাযা অবস্থায় নামায-রোযা ত্যাগ করা যাবে না।
১৪. ইস্তিহাযা অবস্থায় এক ওজু দিয়ে দুই ওয়াক্ত নামায পড়া যাবে না।
এক ওজু দিয়ে এক ওয়াক্তই পড়তে হবে।
১৫. হায়েয-নিফাস শেষ হওয়ার পর গোসল ফরজ হয়।
ফরজ গোসল করে নামায আদায় করতে হবে।.
১৬. পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ফরজ গোসল দেরিতে করার কারণে কোন ওয়াক্তের নামায যদি কাযা হয় তবে গুনাহ হবে,এবং সে ওয়াক্তের নামায কাযা আদায় করতে হবে।.
১৭. সাদাস্রাবের জন্য গোসল ফরজ হয় না।
কিন্তু ওজু ভেঙে যায়।
এক্ষেত্রে প্রতি ওয়াক্তের নামাযের আগে ওজু করে নিতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের জ্ঞানের পরিধিকে আরও বাড়িয়ে দিন এবং সে অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দিন।