ভারতে প্রতি চারজনে একজন কাজ হারিয়েছেন মার্চ-এপ্রিলে: সিএমআইই – Kolkata24x7

0
15
Print Friendly, PDF & Email

ফাইল ছবি

নয়াদিল্লি: করোনা‌ ভাইরাসকে আটকাতে লকডাউন চালু হওয়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্ম সংকট দেখা দিতে শুরু করেছে দেশে। যার ফলে অসংগঠিত এবং সংগঠিত উভয় ক্ষেত্রেই বহু মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে।‌‌ সাম্প্রতিক সিএমআইই রিপোর্টে ভারতের বেকারত্ব কেমন ভাবে বেড়ে গিয়েছে তা উঠে এসেছে।

সিএমআইই সমীক্ষায় ৩মে পর্যন্ত সাপ্তাহিক রিপোর্ট জানাচ্ছে, বেকারত্বের হার আরও বেড়ে ২৭.১ শতাংশ হয়েছে, যা এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও মহেশ ব্যাস জানিয়েছেন, ২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিলে মোট চাকরি হারানোর সংখ্যাটা ধরা হচ্ছে ১১৪ মিলিয়ন। যেখানে মোট কর্মরতর সংখ্যা ধরা হচ্ছে মোটামুটি ৪০০ মিলিয়ন। সে ক্ষেত্রে ‌১১৪ মিলিয়ন চাকরি হারানোর অর্থ প্রতি চারজনে একজন কাজ হারিয়েছেন।‌ পাশাপাশি তার বক্তব্য, এই তথ্য ৩মে পর্যন্ত, ফলে এই হার আরো কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।

এই সংস্থার সাম্প্রতিকতম মাসিক রিপোর্ট জানাচ্ছে বেকারত্বের হার এপ্রিল মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩.৫ শতাংশ। বড় রাজ্য গুলির মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি হল তামিলনাড়ু, ঝাড়খন্ড এবং বিহার যাদের এই হার যথাক্রমে ৪৯.৮,৪৭.১ এবং ‌৪৬.৬ শতাংশ। অন্যদিকে হার সবথেকে কম হল পাঞ্জাব ছত্রিশগড় এবং তেলেঙ্গানা যাদের হার যথাক্রমে ২.৯,৩.৪ এবং, ৬.২ শতাংশ। সিএমআইই সমীক্ষা রিপোর্ট এমনটাই জানাচ্ছে।

মহেশ ব্যাস জানিয়েছেন, কর্মসংস্থানের দিক থেকে পরিস্থিতি রীতিমতো সিরিয়াস। তিনি জানান, বর্তমানে শ্রমিকদের অংশগ্রহণের (অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাব কর্মীরা কাজ করছেন) হার প্রচন্ড রকম কমে আসায় তা এপ্রিলে হয়েছে ৩৫.৬ শতাংশ। তার অভিমত, লকডাউন বাড়লে এই অবস্থার আরো অবনতি হবে। তিনি জানিয়েছেন,এপ্রিল মাসে বেকারত্বের হার ২৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশ হয় এবং তারপরে ২৬ শতাংশ হয়। তবে শেষ সপ্তাহে লকডাউন কিছুটা শিথিল করায় তা কমে আসে ২১ শতাংশে।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হল ক্ষুদ্র ছোট মাঝারি সংস্থায়, হোটেল রেস্টুরেন্ট মাল্টিপ্লেক্স রিটেল এয়ারলাইন্স উৎপাদন ক্ষেত্র এবং মিডিয়ায়।‌ যার ফলে সংস্থাগুলি ছাটাইয়ের পথে‌‌ গিয়েছে।

গত মাসে ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন ভারতকে সতর্ক করেছিল, এখানে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত রয়েছেন ৯০ শতাংশ কর্মী, যার ফলে ৪০০ মিলিয়ন কর্মীরাই এই সংকট কালে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে বলে ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে গোটা দুনিয়া থেকে ৬.৭ শতাংশ কাজের সময় মুছে যেতে পারে ২০২০ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে যা ১৯৫ মিলিয়ন পূর্ণ সময়ের কর্মী।



Source link