প্রতিদিন ৩ কোটি ২৪ লাখ নেকী অর্জন করুন

1
1597
প্রতিদিন ৩ কোটি ২৪ লাখ নেকী অর্জন করুন | 10 Minute Madrasah
প্রতিদিন ৩ কোটি ২৪ লাখ নেকী অর্জন করুন | 10 Minute Madrasah
Print Friendly, PDF & Email

প্রতিদিন ৩ কোটি ২৪ লাখ নেকী অর্জন করুন

প্রিয়  ইসলামী   ভাইয়েরা!  আল্লাহ   তাআলার   রহমতের উপর কুরবান! তিনি আমাদের জন্য নেকী অর্জন  করা, মর্যাদা  বৃদ্ধি  করা   এবং   গুনাহ  ক্ষমা  করানোকে  কতই সহজ   করে    দিয়েছেন।   কিন্তু    আফসোস!   এত   সহজ করে    দেয়া   সত্ত্বেও  আমরা    অলসতার  মধ্যে   রয়েছি। বর্ণিত    হাদীস   শরীফে     আযানের   উত্তর   প্রদানের   যে ফযীলত বর্ণনা করা  হয়েছে তার বিস্তারিত   বর্ণনা লক্ষ্য করুন।اَللهُ اَكْبَرُ  اَللهُ اَكْبَرُ এখানে দু’টি শব্দ  এভাবে পূর্ণ  আযানের   ভিতর  ১৫টি   শব্দ    রয়েছে।  

যদি  কোন ইসলামী   বোন  এক  ওয়াক্ত   নামাযের  আযানের  উত্তর দেয়  অর্থাৎ    মুয়াজ্জিন  যা   বলে   তার    পুনরাবৃত্তি  করে তখন   তার  ১৫   লাখ  নেকী  অর্জন  হবে।    

১৫  হাজার   মর্যাদা   বৃদ্ধি  পাবে  এবং  ১৫  হাজার   গুনাহ  ক্ষমা   হয়ে যাবে। আর ইসলামী ভাইদের জন্য  এসব কিছুর দ্বিগুণ ফযীলত অর্জন হবে।  ফজরের আযানে দু’বার  اَلصَّلٰوۃُ    خَیْرٌ    مِّنَالنَّوْم  রয়েছে। আর এভাবে ফযরের  আযানে ১৭টি   শব্দ    হলো,   তাহলে   ফযরের   আযানের     উত্তর  প্রদানে   ১৭ লাখ  নেকী,   ১৭  হাজার মর্যাদা বৃদ্ধি  এবং ১৭    হাজার    গুনাহের   ক্ষমাপ্রাপ্তি   অর্জিত   হলো।   আর ইসলামী ভাইদের জন্য এর দ্বিগুণ। ইকামাতের মধ্যেও দুইবার  قَدْ قَامَتِ  الصّلٰوۃ  রয়েছে।  ইকামাতের  মধ্যেও ১৭টি   শব্দ  হলো   সুতরাং  ইকামাতের   উত্তর  প্রদানের সাওয়াবও        ফজরের        আযানের          উত্তর        প্রদানের সমপরিমাণ।

[মোটকথা;যদি   কোন   ইসলামী    বোন   গুরুত্ব  সহকারে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত   নামাযের  আযান  ও ইকামাতের  উত্তর  দিতে  সফলকাম   হয়ে   যায়  তবে  তার  প্রতিদিন এক কোটি   বাষট্টি লাখ নেকী, এক লাখ বাষট্টি হাজার মর্যাদা  বৃদ্ধি এবং    এক লাখ বাষট্টি  হাজার গুনাহ্ ক্ষমা হয়ে  যাবে এবং ইসলামী ভাইদের এর দ্বিগুণ অর্থাৎ  ৩ কোটি  ২৪ লাখ  নেকী অর্জন হবে। ৩ লাখ ২৪  হাজার মর্যাদা   বৃদ্ধি পাবে এবং ৩ লাখ ২৪ হাজার গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে।]

আযানের উত্তর প্রদানকারী জান্নাতী হয়ে গেলো

হযরত সায়্যিদুনা আবু  হুরায়রা ر رَضِیَ    اللّٰہُ    تَعَالٰی  عَنْہُ বলেন    যে,    এক   ব্যক্তির   প্রকাশ্যভাবে    কোন   অধিক পরিমাণ    নেক  আমল  ছিলো    না,    ঐ  ব্যক্তি  মৃত্যুবরণ  করলে     রাসূলুল্লাহ    صَلَّی    اللّٰہُ    تَعَالٰی     عَلَیْہِ    وَاٰلِہٖ    وَسَلَّم সাহাবায়ে    কিরামদের    عَلَیۡہِمُ   الرِّضۡوَان    উপস্থিতিতেই  অদৃশ্যের সংবাদ দিতে গিয়ে ইরশাদ করেন: “তোমরা কি    জানো!    আল্লাহ    তাআলা   তাকে   জান্নাতে   প্রবেশ করিয়েছেন।”    এতে    লোকেরা    অবাক    হয়ে    গেলো,  কেননা বাহ্যিকভাবে তার কোন বড় আমল ছিলো না। সুতরাং  এক  সাহাবী      رَضِیَ   اللہُ  تَعَالٰی   عَنۡہُ  তাঁর  ঘরে গেলেন এবং   তাঁর  বিধবা  স্ত্রী  رَضِیَ  اللہُ تَعَالٰی  عَنۡہَا  কে জিজ্ঞাসা করলেন: “তার কোন বিশেষ  আমল  আমাকে বলুন”। তখন সে উত্তর দিল: “তার এমন কোন বিশেষ বড়  আমল আমার জানা নেই, শুধু  এতটুকু  জানি যে,  দিন হোক বা  রাত  যখনই তিনি  আযান  শুনতেন তখন অবশ্যই উত্তর দিতেন।”   (তারিখে দামেশক   লিইবনে  আসাকির,   ৪০তম   খন্ড,   ৪১২,   ৪১৩   পৃষ্ঠা)   আল্লাহ  তাআলার  রহমত    তাঁর   উপর   বর্ষিত  হোক  আর   তাঁর সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।

আযান ও ইকামাতের উত্তর প্রদানের পদ্ধতি

মুয়াজ্জিন সাহেবের  উচিত,  আযানের  শব্দগুলো   একটু থেমে  থেমে বলা। اَللهُ اَكْبَرُ اَللهُ اَكْبَرُ  (এখানে  দুটি শব্দ   কিন্তু)  উভয়টাকে  মিলিয়ে   (সাক্তা   না   করে    এক সাথে  পড়ার  কারণে)  এটা  একটি  শব্দ  হয়।  উভয়টি  বলার পর সাক্তা করবেন (অর্থাৎ থেমে যাবেন) । আর সাক্তার পরিমাণ হচ্ছে যে, উত্তর প্রদানকারী যেন উত্তর দেয়া   শেষ   করতে  পারে।  সাক্তা  না   করাটা  মাকরূহ, আর এ ধরণের আযান  পুনরায়  দেয়া মুস্তাহাব। (দুররে মুখতার   ও  রদ্দুল  মুহতার, ২য়   খন্ড, ৬৬ পৃষ্ঠা)   উত্তর প্রদানকারীর  উচিত, যখন মুয়াজ্জিন সাহেব اَللهُ  اَكْبَرُ اَللهُ اَكْبَرُ বলে সাক্তা  করবেন অর্থাৎ  চুপ হয়ে যাবেন তখন     اَللهُ    اَكْبَرُ    اَللهُ      اَكْبَرُ      বলা।    অনুরূপভাবে অন্যান্য     শব্দাবলীরও     উত্তর     প্রদান     করবে।     যখন  মুয়াজ্জিন    প্রথমবার  اَشْہَدُ  اَنَّ   مُحَمَّدًا  رَّسُوْلُ  الله   বলবে তখন আপনি এভাবে বলবেন,

صَلَّی  اللهُ  عَلیْكَ  یَارَسُوْلَ  الله  (অনুবাদ:  ইয়া  রাসূলাল্লাহ  صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ   وَسَلَّم আপনার উপর দরূদ।)  যখন দ্বিতীয়বার বলবে তখন আপনি বলবেন:

قُرَّۃُ  عَیْنِیْ بِكَ یَا  رَسُوْلَ     اللهِ (অনুবাদ:  ইয়া  রাসূলাল্লাহ صَلَّی  اللّٰہُ تَعَالٰی  عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم আপনার     নিকট  আমার চোখের শীতলতা  রয়েছে।)  আর এ দুইটা বলার সময় প্রত্যেকবার    বৃদ্ধাঙ্গুলীর   নখকে  চোখে  লাগিয়ে  নিবেন এবং পরে বলবেন:

اَللّٰہُمَّ     مَتِّعْنِیْ     بِالسَّمْعِ     وَالْبَصَرِ     (হে     আল্লাহ!     আমার  শ্রবণশক্তি   ও   দৃষ্টিশক্তির   দ্বারা     আমাকে  কল্যাণ  দান করো।) (রদ্দুল মুখতার, ২য় খন্ড-৮৪ পৃষ্ঠা)

حَیَّ عَلَی  الصَّلٰوۃএবং  حَیَّ عَلَی الفَلَاح এর উত্তরে (চারবার)

لَا حَوْلَ  وَلَا   قُوَّۃَ  اِلَّا  بِالله   বলবেন  এবং উত্তম  হচ্ছে যে উভয়টা বলা। (অর্থাৎ মুয়াজ্জিন যা বলে তাও বলা এবং لَاحَوْل ও বলা) বরং সাথে এটাও বৃদ্ধি করে নিন:

مَاشَآءَ  اللهُ  کَانَ  وَمَالَمْ  یَشَأْ   لَمْ  یَکُنْ  (অর্থাৎ-আল্লাহ্   যা  ইচ্ছা করেছেন তা হয়েছে, যা ইচ্ছা করেননি তা হয়নি। (রদ্দুল  মুহতার  ও দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৮২ পৃষ্ঠা। ফতোওয়ায়ে আলমগিরী, ১ম খন্ড, ৫৭ পৃষ্ঠা)

اَلصَّلٰوْۃُ خَیْرٌ مِّنَ النَّوْم এর উত্তরে বলবেন:

صَدَقْتَ وَبَرِرْتَ وَبِالْحَقِّ نَطَقْتَ (অনুবাদ: তুমি সত্য ও সৎ এবং তুমি সত্য বলেছ।)

(রদ্দুল মুহতার ও দুররে মুখতার, ৮৩ পৃষ্ঠা)

ইকামাতের উত্তর দেয়া মুস্তাহাব। এর উত্তরও আযানের মতই।   পার্থক্য  শুধু   এতটুকু  যে   قَدْقَامَتِ   الصَّلٰوۃُ   এর উত্তরে বলবেন:

اَقَامَہَا   اللهُ وَاَدَامَہَا مَادَامَتِ  السَّمٰوٰتُ وَالْاَرْض (অনুবাদ: আল্লাহ্     তাআলা     তাকে    প্রতিষ্ঠিত    রাখুন      যত     দিন আসমান    ও যমীন বিদ্যমান থাকে।) (আলমগিরী,  ১ম  খন্ড, ৫৭ পৃষ্ঠা)

Your 250x250 Banner Code