পূর্ব মেদিনীপুরের অতিস্পর্শকাতর এলাকার তালিকা দিল সরকার – Kolkata24x7

0
15
Print Friendly, PDF & Email

মেদিনীপুর: কেন্দ্র আগেই পূর্ব মেদিনীপুরকে হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করেছে এবার জেলার কয়েকটি জায়গাকে সংক্রমিত বা অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করল রাজ্য সরকার৷

পূর্ব মেদিনীপুরের ৮টি এলাকাকে অতিস্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার৷

এক নজরে দেখুন সেই তালিকা

পূর্ব মেদিনীপুরের সংক্রমিত এলাকার তালিকায় সব থেকে উপরে রয়েছে এগরা পুরসভা। এই পুরসভার ওয়ার্ড নম্বর ১, ২, ৩, ৬, ৭, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবং ৪, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশও এই তালিকায় রয়েছে। এছাড়াও মঞ্জুশ্রী গ্রামপঞ্চায়েতের একাংশ অতিস্পর্শকাতর চিহ্নিত হয়েছে।

হলদিয়া পুরসভার ৪, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৩, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পুরো এবং ৩, ৫, ৭, ১১, ১৫, ১৯, ২০, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

হলদিয়ার রাজনগর গ্রামের বাড় উত্তর হিংলি, চকদৈপা, দেউলপোতা এলাকাগুলির একাংশ এবং হলদিয়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।

সুতাহাটা এলাকায় পাথর বেড়িয়ার জয়নগর এবং হরেখালি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকা অতিস্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এবং এই এলাকা সংলগ্ন হলদিয়া পুরসভার ২, ৩, ৫, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশ তালিকায় আছে।

শহীদ মাতঙ্গিনীর বল্লুক ও সবলারা গ্রামের কিছু অংশকে অতিস্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বল্লুক-১ ও ২ এলাকা। এছাড়া শান্তিপুর-২, রঘুনাথপুর-২ ও ৩ কালহারদা, খারুই-২ এলাকাগুলির কিছু অংশ এবং তমলুক ভিলা এলাকার নীলকুঠির একাংশ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শহীদ মাতঙ্গিনীর আরপিএফ বারাক এলাকায় শান্তিপুর-১ ও ২ এবং শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লক ও দেড়িয়াচক গ্রামপঞ্চায়েতের কিছুটা এবং সেই সঙ্গে ভোগপুর, সাগরবাড়, অমলহান্ডা গ্রামপঞ্চায়েতগুলির একাংশ অতিস্পর্শকাতর। কোলাঘাট ব্লকও এই তালিকায় রয়েছে।

সুতাহাটায় বড়তালিয়ার চৈতন্যপুর, আসাদতালিয়ার কিছুটা অংশ এবং দেউলপোতা, চকদৈপা, দেভোগ গ্রামপঞ্চায়েতের একাংশ যা হলদিয়া ব্লকের মধ্যে পড়ছে, অতিস্পর্শকাতর চিহ্নিত করা হয়েছে। হলদিয়া পুরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কিছুটা করে অংশও এই তালিকায় রয়েছে।

গোটা পাঁশকুড়া পুরসভা বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পাঁশকুড়া ব্লকের চৈতন্যপুর-২, ঘোষপুর এবং গোবিন্দনগর গ্রামপঞ্চায়েতের কিছুটা অংশ অতিস্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার।

রাজ্য সরকারের এই তালিকা প্রকাশের আগে সোমবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিদর্শনে যান কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের পর্যবেক্ষকরা। ওইদিন সকাল ৭টা ৫০ মিনিট নাগাদ তাঁরা কলকাতার বালিগঞ্জের বিএসএফের সদর কার্যালয় থেকে রওনা দেয়। এরপর তাঁরা কোনা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে পূর্ব মেদিনীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। প্রথমে তারা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া অবস্থিত রাজ্য সরকারের চিহ্নিত করা করোনা হাসপাতলে পরিদর্শন করেন।

সেখানে প্রায় ৫০ মিনিট ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরিদর্শন করেন। করোনা হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মী ও ডাক্তারদের সঙ্গে এই পর্যবেক্ষক দল কথা বলার পর বেরিয়ে আসে। এরপর হলদিয়ার দিকে রওনা হয়। যদিও পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে কোন স্থানীয় প্রশাসন বা রাজ্য প্রশাসনের ব্যাক্তি না থাকায় দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন পর্যবেক্ষক দলের আধিকারিকরা। এমনকি তাঁদের সঙ্গে কোনও রাজ্যের নিরাপত্তারক্ষীও ছিল না বলে অভিযোগ।

যদিও তাঁরা প্রথমে রাজ্য সড়ক ধরে জিপিআরএস এর মাধ্যমে মেচেদার শান্তিপুরে পৌঁছয়। এরপর রাস্তা ঠিক করতে না পেরে ফের তাঁরা জিপিআরএসকে কাজে লাগিয়ে ৪১ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে হলদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রথমে হলদিয়ার একটি লজিস্টিক কারখানাতে ভুল করে গিয়ে পৌঁছয়।

ওটি কারখানা বুঝতে পেরে সেখান থেকে বেরিয়ে এসে হলদিয়ার ক্ষুদিরাম নগরে একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে গিয়ে ওঠেন। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ ধরে কথাবার্তার পর তারা ফের হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।কেন্দ্রীয় সরকারের এই পাঁচ পরিদর্শক দল হলদিয়া মহাকুমা হাসপাতালও পরিদর্শন করেন।



Source link