পটিয়ার বেপরোয়া ওসি বোরহানের নতুন কাণ্ড

0
10
Print Friendly, PDF & Email

চট্টগ্রামের পটিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে। এর আগেও চট্টগ্রাম প্রতিদিনে ‘পটিয়ায় ১৫ হাজার ইয়াবা নিয়ে পুলিশের লুকোচুরি’ শিরোনামে একটা সংবাদ পরিবেশনের সূত্র ধরে ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ওসি বোরহান ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছিলেন। এমনকি তাকে মারতে তেড়েও আসেন। ওসি বোরহান পটিয়া থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে প্রায়ই বিচারপ্রার্থী লোকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া ইউএনওর কক্ষে উপস্থিত দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের পটিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক কাউছার আলমের দুর্ব্যবহার করেন ওসি বোরহান উদ্দিন।

এসময় স্থানীয় ১২ জন ব্যবসায়ীর সাথে করোনা পরিস্থিতিতে দোকানপাট বন্ধ রাখার বিষয়ে সভা করছিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসি। করোনা মোকাবেলায় সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়ার জন্য কাউসার আলমকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে সেখানে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন কাউছার।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কাউছার আলম জানান, ‘কিছু সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়ার জন্য আমাকে ফোন করে দেখা করতে বলেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা জাহান উপমা। আমি যখন উনার অফিসে যাই, তখন ১২ জন ব্যবসায়ী নেতা সেখানে ছিলেন। তারা সেখানে মিটিং করতে এসেছিলেন। আমি অফিসে প্রবেশ করে এক পাশে বসি।’

‘কিছুক্ষণ পরে ওসি এলে মিটিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়, তখন হঠাৎ ওসি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কে? আপনি কি ব্যবসায়ী নেতা? এখানে কী করছেন?’ উত্তরে আমি আমার পরিচয় দিয়ে উনাকে জানাই আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডেকেছেন। তখন তিনি আমাকে অমার্জিতভাবে বের হয়ে যেতে বলেন। আমি বেরও হয়ে যাই।’

এর কিছুক্ষণ পর ইউএনও ফারহানা জাহান উপমা আবারও আমাকে কল করে উনার রুমে ডাকেন। আমি ইউএনকে ওসির খারাপ ব্যবহারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ‘ওসি আপনাকে খেয়াল করেনি’ বলে বিষয়টি উড়িয়ে দেন।

তবে কাউছার আলম জানান, তার সাথে ওসির দুর্ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ‘পটিয়ায় ১৫ হাজার ইয়াবা নিয়ে পুলিশের লুকোচুরি’ শিরোনামে একটা সংবাদ পরিবেশনের সূত্র ধরে তার সঙ্গে ওসি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছিলেন। এমনকি তাকে মারতে তেড়েও আসেন।

কাউছার আলম বলেন, ‘পরে সেদিন রাতে আবার ওসি স্থানীয় একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে থানায় ডেকে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। এর পর থেকে সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে উনাকে বিভিন্ন সময়ে ফোন দিলেও তিনি ক্রমাগতভাবে আমাকে অসহযোগিতা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে আমার নম্বর ব্লকও করে দেন।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টা ঠিক এরকম না। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে একটা বৈঠক চলছিল আমাদের। এ সময় উনি সেখানে ছিলেন। আমি উনাকে বলেছি আপনি তো ব্যবসায়ী নন। এখানে কী করছেন? আপনি বাইরে যান। তিনি কেন এটাকে এত সিরিয়াসলি নিয়েছেন বুঝতে পারছি না।’

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি কাউসার আলমের অভিযোগের ব্যাপারে খবর নিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

এআরটি/সিপি



Source link