পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -১

3
494
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত পর্ব -১
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত পর্ব -১

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত পর্ব -১

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের উপর নামাজ ফরজ করে বড় একটি নিয়ামত দান করেছেন। লক্ষ কোটি দরুদ ও সালাম পেশ করছি ইমামুল আম্বিয়া, নবী মুহাম্মদ মুজতবা আহমদ মুস্তফার উপর যার মাধ্যমে আমরা নামাজ পেয়েছি এবং তার সাহাবীদের ও পরিবার পরিজনের উপর যারা নামাজের ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিলেন।

নামাজের ফজিলত- অতীতের ইসলামী ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মুসলমানরা তাদের আধ্যাত্বিকতার বলে ইহুদী, খ্রিষ্টান ও বেদ্বীনদের উপর রাজত্ব করেছিল। সে সময় ইহুদী, খ্রিষ্টান ও বেদ্বীনরা মুসসমানের সামনে কখনো দাঁড়াতে পারেনি।

কিন্তু বর্তমানে মুসলমানরা তাদের আধ্যাত্বিকতা তথা রুহানী শক্তি হারিয়ে ফেলার কারণে , তাদের অন্তরকে শয়তানের সিংহাসন বানিয়ে ফেলেছে।এখন শয়তান তাদেরকে যেদিকে নির্দেশনা দিচ্ছে, মুসলমানরা তাই অনুসরণ করছে।

10-Minute-Madrasah-Group-Join

শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু, সে চায় কিভাবে মানুষকে পথভ্রষ্ট করা যায়,কিভাবে ঈমান দুর্বল করে মুসলমানদের সর্বশ্রেষ্ট খোদা প্রদত্ত নিয়ামত নামাজ থেকে বিরত রাখা যায়। সে কিন্তু তার অভিযানে কামিয়াব হয়ে গেছে।

নামাজের ফজিলত সম্পর্কে কোরআনের বানী

বর্তমানে গোটা বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ মুসলমান নামাজের ব্যাপারে উদাসীন। তারা আল্লাহর আদেশ ভুলে গিয়ে শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণে লিপ্ত । তাদের অন্তর থেকে খোদা ভীতি উঠে গেছে ।

কারণ তারা তো সর্বাদাই শয়তানের আদেশ পালনের ব্রতে লিপ্ত। বর্তমানে গোটা বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ মুসলমান নামাজের ব্যাপারে উদাসীন। অথচ কুরআনে পাকে রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-


فويل للمصلين (٤) الذين هم عن صلاتهم ساهون (٥)
অর্থঃ সুতরাং ওই নামাজীদের জন্য দুর্ভোগ রয়েছে , যারা আপন নামাজকে ভুলে বসেছে । ( সুরা মাউন – ৪,৫)


নামাজের ফজিলত সম্পর্কে কোরআনের বানী

অন্য আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন-


وما خلقت الجن والانس الا ليعبدون ( الذاريات ٥٦)
অর্থঃ নিশ্চয় আমি জ্বীন এবং মানুষকে আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।(সুরা যারিয়াত -৫৬ ) । আর আল্লাহর দরবারে সর্বশ্রেষ্ট ইবাদত হচ্ছে তার বান্দারা তার কাছে মাথা নত করা ।


নামাজের ফজিলত সম্পর্কে কোরআনের বানী

কুরআনে পাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রত্যক্ষভাবে ৮২বার ও পরোক্ষভাবে ৩০০ বারের ও বেশী নামাযের ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছেন। সাথে সাথে আল্লাহর হাবীব রাসুলে কারীম (ﷺ) ও হাদিসে পাকে ব্যাপকভাবে তাগিদ দিয়েছেন।
কুরআনে পাকে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন –


١. ان الصلواة كانت على المؤمنين كتبا موقوتا ) النساء ١٠٣ )
অর্থঃ নামায মুমিনের উপর ওয়াক্ত মুতাবিক ফরজ করা হয়েছে। (সুরা নিসা – ১০৩)
٢. ان الصلواة تنهى عن الفحشاء والمنكر (سورة العنكبوت ٤٥)
অর্থঃ নিশ্চয় সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে ( সুরা আনকাবুত – ৪৫)
٣. حافظوا على الصلوات والصلواة الوسطى وقوموالله قنتين (سورة البقرة ٢٣٨)
অর্থঃ তোমরা নামাযকে হেফাজত কর বিশেষ করে মধ্যবর্তীর নামাজ তথা আছরের নামায এবং আল্লাহর জন্য একনিষ্টতার মাধ্যমে দাঁড়িয়ে যাও। ( সুরা বাকারা- ২৩৮ )
٤. فخلف من بعدهم خلف اضاعوا الصلاة واتبعوا الشهوات فسوف يلقون غيا الامن تاب وامن وعمل صلحا فاولئك يدخلون الجنة ولا يظلمون شيا-
অর্থঃ অতঃপর তাদের পরে এমন কতগুলো বান্দা হবে যারা নামাজকে বরবাদ করবে এবং কুপ্রবিত্তির তথা মনগড়া চলবে। অতিশ্রীঘ্রই তাদেরকে ‘গাই’ নামক জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (গাই এমন এক জাহান্নাম যার আজাব থেকে অন্য জাহান্নামীরা রেহাই চাইবে) হ্যাঁ, যারা তওবা করে ঈমান আনবে এবং পূণ্যের কাজ করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদেরকে সামান্যতম ও জুলুম করা হবে না।
٥. يوم يكشف عن ساق ويدعون الى السجود فلا يستطيعون خاشعة ابصرهم ترهقهم ذلة وقد كانوا يدعون الى السخود وهم سلمون- (سورة القلم ٤٢،٤٣)
অর্থঃ স্মরণ কর গোছা পর্যন্ত পা খোলার দিনের কথা, সেদিন তাদেরকে সিজদা করতে আহবান জানানো হবে, অতঃপর তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, তারা লাঞ্ছনাগ্রস্ত হবে,এবং নিশ্চয় তাদেরকে দুনিয়ায় সিজদা করতে আহবান করা হতো , তারা যখন সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল ।( সুরা আল কলম -৪২,৪৩)

অর্থাৎ দুনিয়াতে সুস্থ থাকা সত্বেও যারা নামাজ আদায় করেনি, তাদেরকে কিয়ামতের দিন সিজদা দেওয়ার জন্য আহবান করা হলে ও তারা সেদিন সিজদা দিতে সক্ষম হবে না।
٦. وامر اهلك بالصلوة واصطبر عليها- (سورة طه١٣٢)
অর্থঃ এবং আপন পরিবারবর্গকে নামাজের আদেশ দাও এবং নিজেও সেটার উপর অবিচল থাকো।( সুরা ত্বোয়া – হা -১৩২) ।


◀নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে পাকের বাণী ▶

١. عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلوات الخمس والجمعة الى الجمعة ورمضان الى رمضان مكفرات لما بيهن اذا اختنبت الكبائر ( مسلم )

অর্থঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন রাসুলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে অপর জুমা, এক রমজান শরীফ থেকে অপর রমজানের মধ্যখানে যত ছোট গুনাহ হবে সব কাফফারা তথা মুছন হয়ে যাবে, যদি বড় গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকে।(মুসলিম শরীফ)

٢. عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ارايتم لواننهرا بباب احد كم يغتسل فيه كل يوم خمسا هل يبقى من درنه شى قالوا لا يبقى من درنه شى قال فذالك مشل الصلوات الخمس يمحوالله بهن الخطايا ( بخارى- مسلم )

অর্থঃ হযরত আবু হুরাইরা ( রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কি ধারনা? একজন মানুষের ঘরের পাশে একটা নদী আছে, ঐ ব্যক্তি প্রত্যেক দিন ঐ নদীতে পাঁচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে ? সাহাবারা উত্তর দেয় তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে না। রাসুলে পাক (ﷺ)বলেন, তেমনি ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারীর গুনাহ ও মুছে দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)

নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে পাকের বাণী

٣. عن عبد الله بن عمر وبن العاص عن النبى (ﷺ) ان ذكر الصلوات يوما فقال من حافظ عليها كانت له نورا وبرهانا ونجاة يوم القيامة ولم يحا فظ عليها لم تكن له نوراولابرهانا ولانجاة وكان يوم القيامة مع قارون و فرعون و هامان وابى بن خلف ( احمد- دارمى- طبرانى )

অর্থঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলে পাক (ﷺ) একদিন নামাজের আলোচনা করছিলেন এবং বলেন, যে নামাজকে হেফাজত করবে কিয়ামতের ময়দানে তার জন্য ঐ নামাজ নুর,দলিল এবং নাজাত হবে। অপর দিকে যে নামাজকে হেফাজত করবে না তথা নামাজ ছেড়ে দিবে কিয়ামতের ময়দানে নামাজ তার জন্য নুর, দলিল এবং নাজাত হবে না। বরং কুখ্যাত কাফির কারূন,ফেরআউন,হামান ও উবাই ইবনে খলফের সাথে তাদের হাশর হবে। ( আহমদ, দারেমী, তাবরানী )

٤. عن ابى ذران النبى (ﷺ) خرج زمن الشتاء والورق يتهافت فاخذ بغصنهن من شخوة قال فجعل ذالك الورق يتهافت قال فقال يااباذر قلت لبيك يا رسول الله قال ان العبد المسم ليصلى الصلوة يريد بها وجه الله فتها فت عنه ذنوبه كما تهافت هذا الورق عن هذه الشجرة ( احمد-مشكوة )

অর্থঃ হযরত আবু যর গিফারী(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন একদিন রাসুলে কারীম (ﷺ) শীতকালে বের হলেন এবং গাছের পাতা ঝড়ছিল, রাসুলে কারীম (ﷺ) একটি ডাল ধরলেন এবং নাড়া দিতেই গাছের পাতা ঝড়তে লাগল। অতঃপর বললেন হে, আবু যর, আমি লাব্বায়েক ইয়া রাসুলাল্লাহ বলে সাড়া দিলাম, রাসুল (ﷺ) বললেন,যে মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনার্থে নামাজ পড়ে এভাবে তার গুনাহ ঝড়তে থাকে। যেমনি ভাবে গাছের পাতা ঝড়ছে। (আহমদ,মিশকাত)

চলবে…


আরো পড়ুন

সাদাকাতুল ফিতর কী এবং সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ : কিছু কথা (ভিডিও সহ)

ইতিকাফের বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল জেনে নিন ( ভিডিও সহ )

রূহের  অবস্থান-  কিতাবুর রূহ্  এর বর্ণনা

রোজার মাসয়ালা-মাসায়েল জেনে নিন

চল্লিশ হাদিস মুখস্ত করার ফযিলত পর্ব-২