পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -৪

0
450
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -৪
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -৪

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -৪

দু’রাকায়াত নামাজের প্রতিদান ঃ
হজুর (ﷺ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা জিব্রাঈল (আঃ) কে খুব সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, তাকে ছয়শত পাখা দান করেছেন তার মধ্যে প্রত্যেকটার দৈর্ঘ্য পূর্ব থেকে পশ্চিম যতটুকু। একদিন জিব্রাঈল (আঃ) আল্লাহকে বললেন, হে মাবুদ তুমি কি আমার চেয়ে সুন্দর কিছু সৃষ্টি করেছ? আল্লাহ বলেন না।

জিব্রাঈল (আঃ) শুকরিয়া আদায় করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন দু’রাকায়াত নামাজ আদায় করলেন, প্রত্যেক রাকায়াতে বিশ হাজার বছর দাঁড়ালেন, আল্লাহর তারিফ প্রশংসা আদায় করলেন। নামাজ থেকে ফারিগ হলেন, আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে জিব্রাঈল তুমি আমার এমন ইবাদত করলে যা আমার হক। তুমি শুনে নাও আখেরী জামানায় আমার মাহবুব তাশরীফ আনয়ন করবেন।

10-Minute-Madrasah-Group-Join

তার উম্মতরা অনেক দূর্বল হবে, গুনাহগার হবে, অল্প সময়ে ভুল মিশ্রিত দু’রাকায়াত নামাজ আদায় করবে,তাদের অন্তরে নামাজ পড়াকালিন সময়ে অনেক কিছু ভালমন্দ সৃষ্টি হবে, তবুও তোমার চল্লিশ হাজার বছর ধরে দু’ রাকায়াত নামাজের চেয়ে প্রিয় হবে। কেননা তারা তাদের নামাজ আমার আদেশ পালনার্তে করবে তুমি তোমার ইচ্ছায় পড়েছ।

নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে পাকের বাণী জেনে নিন

জিব্রাঈল (আঃ) বলে উঠবেন হে প্রভু , তাদের নামাজের প্রতিদান কি হবে? আল্লাহ তায়ালা বললেন, তাদের জন্য রয়েছে “জান্নাতুল মাওয়া” অতঃপর জিব্রাঈল (আঃ) দেখার ইচ্ছা পোষন করলেন, আল্লাহ তায়ালা তাকে অনুমতি দিলেন,জিব্রাঈল (আঃ) তার সকল ডানা খুললেন দু’টা ডানা খুলার সাথে সাথে ত্রিশ হাজার বছরের রাস্তা অতিক্রম করলেন আবার যখন ডানা গোছালেন ত্রিশ হাজার বছরের রাস্তা অতিক্রম করলেন এভাবে তিনশত বছর ধরে অনবরত অতিক্রম করে একটি গাছের ছায়ায় পড়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে সিজদায় পড়ে যায় এবং আরজ করলেন, হে প্রভু , আমি কি জান্নাতুল মাওয়ার দু’ভাগের এক অংশ বা তিন ভাগের এক অংশ অতিক্রম করেছি? আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে জিব্রাঈল তুমি তিনশত বছর ধরে তোমার সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে এখনো জান্নাতুল মাওয়ার ১০ ভাগের এক ভাগ ও অতিক্রম করতে পারনি।(মিশকাতুল আনওয়ার)।


কিয়ামতের ময়দানে নামাজিদের অবস্থাঃ

কুরআনে পাকে আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের ময়দানের ব্যাপারে উল্লেখ করেন –
فى يوم كان مقداره خمسين الف سنة (صورة معارج -٤)
অর্থঃ ময়দানে মাহশরের সময় হবে দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছরের মতো।সেদিন আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকটা বান্দার হিসাব নিবেন, সর্বপ্রথম প্রশ্ন হবে নামাজের ব্যাপারে ।

অনেকে তাদের কৃতকর্মের হিসাব দিতে দিতে পঞ্চাশ হাজার বছর লাগবে, আর যারা নিয়মিত নামাজ আদায় করে তাদের জন্য ময়দানে মাহশরের সময়টা দু’রাকায়াত বা চার রাকায়াত ফরজ নামাজ আদায় করতে সময় তত সময় লাগবে। যেমন

وقال عليه السلام والذى نفس بيده انه ليخفف على المؤمن حتى يكون اهون عليه من صلوة مكتوبة يصليها فى الدنيا (تفسير ضياء القران)
⏩ নামাজ তরক করার শাস্তি

১. শুকুরের চেহেরায় পরিণত হবেঃ

روى ان النبى صلى الله عليه وسلم جلس يوما مع اصحابه وجاء شاب من العرب الى باب المسجد وهويبكى فقال ما يبكيك يا شاب ؟ فقال يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ت ابى ولم يكن له كفن ولا غاسل فامر النبى صلى الله عليه وسلم ابا بكر وعمر رضي الله عنهما فذهبا الى الميت فراه مثل الخنزير الا سود فرجعا الى النبى صلى الله عليه وسلم فقال ما رايناه الا مثل الخنزير الا سود فقام الى الجنازة فدعا فصار الميت على صورة الا ولى وصلى عليه الصلاوة واردوا الدفن فرى كالخنزير الا سود فقال يا شاب اى عمل كان يعمل ابوك فى الدنيا ؟ فقال كان تارك الصلوة فقال يا اصحابي انظروا حال من ترك الصلوة تبعثه الله يوم القيامة مثل الخنزيرالاسود( بهجة الانوار)

অর্থঃ বর্ণিত আছে একদা রাসুলে পাক (ﷺ) তার সাহাবীদের নিয়ে বসেছিলেন,এমতাবস্থায় আরবের এক যুবক মসজিদের দরজার কাছে এসে ক্রন্দন করছিল , রাসুলে পাক (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন হে যুবক, তোমার কি হয়ছে? সে বলল আমার আব্বা মারা গিয়েছে, তার কাফনের কাপড় ও গোসল প্রদানকারী নাই । অতঃপর রাসুল (ﷺ) হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) কে আদেশ দিলেন। তারা দু’জন যখন মৃত ব্যক্তির কাছে যায় দেখলেন মানুষটার চেহেরা কালো শুকরের মতো হয়ে যায় । তারা সাথে সাথে রাসুলের দরবারে ফিরে আসেন এবং বলেন হুজুর আমরা তাকে (মৃত ব্যক্তিকে) কালো শুকরোর মতো দেখতে পেলাম ।

রাসুল (ﷺ) মৃত ব্যক্তির কাছে এসে দোয়া করলেন , সাথে সাথে তার চেহেরা পুনরায় আগের মতো ফিরে আসে। তার নামাজে জানাজা শেষ করার পর দাফন করার জন্য ইচ্ছা করলেন, সাহাবারা দেখলেন তার চেহেরা আবার কালো শুকরের চেহেরা হয়ে যায়।রাসুল (ﷺ) যুবককে বললেন, হে ছেলে তোমার আব্বার আমল কি ছিল? যুবক উত্তর দেয় উনি নামাজ তরককারী ছিলেন, রাসুল (ﷺ) বললেন হে আমার সাহাবারা দেখ যারা নামাজ আদায় করেনা কিয়ামতের ময়দানে এই রকম কালো শুকরের চেহেরায় উঠবে। (নাউযুবিল্লাহ) (বাহজাতুল আনওয়ার)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত পর্ব -১

২. বিষক্ত সাপের আক্রমন:

مات فى زمن ابى بكر رضى الله عنه رجل فقا موا الى الصلوة فاذا الكفن تتحرك فنظر وا فوجد واحية مطوقة فى عنقه تا كل لحمه ولمص دمه فاردوا قتلها فقالت الحية لا اله الا الله محمد رسول الله لما تقتلو ننى بلا ذنب ولاخطاء فان الله امرنى ان اعذ به الى يوم القيامة فقالوا ماخطاء قالت ثلاث خطاياالا ولى- كان اذا سمع الاذان لايجئى بالجماعة والتانيه لايخرج الزكوة من ماله والثالثة لايسمع قول العلماء وهذا جزائه- (درةالناصحين صـ ٣٥٨)

অর্থঃ হযরত আবু বকর ছিদ্দিক (রাঃ) এর খেলাফত আমলে একজন মানুষ মারা গেল, সবাই দাঁড়াল তার জানাজার নামাজ আদায়ের জন্য হঠাৎ করে দেখলেন , কাফন নড়াচড়া করতে লাগল, সবাই যখন উনি কি জীবিত না মৃত কাফন খুলে দেখতেই পেলেন একটি সর্প তার গলায় পেঁচানো আছে এবং তার মাংস ও রক্ত চুষে খাওয়ার মতো করছে,অতঃপর সাহাবারা সর্পকে হত্যা করার জন্য যখন ইচ্ছা করলেন, সর্পটির মুখ খুলে যায় এবং কলিমা শরীফ পড়ে বলল, আমাকে আপনারা কেন মারছেন?আমার তো কোন গুনাহ নাই।

অথচ আল্লাহ তায়ালা আমাকে আদেশ দিয়েছেন এই মানুষকে আযাব দিতে এখন থেকে কিয়ামত আসা পর্যন্ত। সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন তার কি গুনাহ? তখন সর্প উত্তর দেয় তার বড় বড় তিনটি গুনাহ আছে ১) যখন আজান শুনত জামাতে নামাজ পড়ার জন্য যেত না। ২) তার সম্পদের যাকাত আদায় করত না। ৩) আলিম উলামাদের কথা শুনত না, এটাই তার শাস্তি ।(দুররাতুন নাসিহিন,৩০৮ পৃষ্ঠা)

৩. হারিশের আক্রমণ:

হুজুর (ﷺ)ইরশাদ করেন, যখন কিয়ামত কায়েম হবে জাহান্নাম থেকে একটা বিচ্ছু বের হবে, তার নাম হলো হারিশ, লম্বা হবে আসমান থেকে জমিন আর প্রস্থ হবে পৃথিবীর পূর্ব হতে পশ্চিম, সর্বপ্রথম দেখা হবে জিব্রাঈল (আঃ) এর সাথে জিব্রাঈল (আঃ) বলবেন হে হারিশ তুমি কাকে তালাশ করছ? হারিশ উত্তর দেবে আমি পাঁচ জাতীয় মানুষকে তালাশ করছি আক্রমণের জন্য। ১) বেনামাজী ২) যারা সম্পদের যাকাত আদায় করেনি ৩) যারা মা বাবার অবাধ্য ৪) মদ পানকারী ৫) মসজিদে দুনিয়াবী কথাবার্তায় যারা লিপ্ত ছিল।

জাহান্নামের সর্প ও বিচ্ছুর ব্যাপারে রাসুল (ﷺ) বলেন :

لوانّ تنينا منها نفخ بالا رض ما انبتت خضرًا (دارمى- ترمذى)

অর্থঃ যদি জাহান্নামের সর্প বা বিচ্ছু একটা নিঃশ্বাস ফেলে জমিনে, জমিন তার বিষে সবুজ কিছু জন্মাতে পারবে না।( দারমী, তিরমিজি)


সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সহজ পদ্ধতিতে আরবি শিক্ষা | সহজ পদ্ধতিতে শিক্ষক ছাড়া কুরআন শিক্ষা


 

৪. নামাজ ইচ্ছা করে কাযা কারীর শাস্তি:
রাসুলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেন, মেরাজের রাত্রে জিব্রাঈল (আঃ) আমাকে প্রথম আসমান থেকে দ্বিতীয় আসমানে নিয়ে যাওয়ার পথে আমি অনেক আশ্চর্য আজাব দেখেছি , তার মধ্যে দেখতে পেলাম একটা খাল তার মাঝে অসংখ্য পুরুষ মহিলা এক কোমর পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে , আর তাদের সামনে বড় বড় পাথর নিয়ে এক জন গজবের ফেরেশতা দাঁড়িয়ে আছে।

তারা পাথরগুলো পুরুষ ও মহিলাদের মাথায় এমনভাবে মারল, তাদের মাথা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, আর রক্ত পানিতে পড়ে পানিসহ লাল রক্তের মতো হয়ে যায়। আবার মাথা ঠিক হল আবার আঘাত করে আবার ঠিক হয়, আবার আঘাত করে আবার ঠিক হয়,আমি জিব্রাঈলকে জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা? জিব্রাঈল বলল এরা আপনার উম্মত হবে যারা ইচ্ছে করে নামাজ কাযা করবে, তাদের শাস্তি কিরুপ হবে আল্লাহ কুদরতের মাধ্যমে আপনাকে দেখাচ্ছেন।

৫. বেনামাজীর বারোটি মসিবত:

রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যারা ইচ্ছা করে নামাজ ছেড়ে দেয় তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে ১২টি মসিবত রয়েছে।
(ক) তিনটি দুনিয়ার মধ্যে:

১. তার আয় – রুজির বরকত উঠিয়ে নেওয়া হবে। ২. তার থেকে ঈমানের নুর যা নেক বান্দাদের কাছে আছে তা উঠিয়ে নেওয়া হবে। ৩. মুমিনের কলবে তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করে দেওয়া হবে।

(খ)তিনটি ইন্তেকালের সময়: ১. তার রুহ কবজ করার সময় বেশি পিপাসা লাগবে, পৃথিবীর সমস্ত পানি পান করিয়ে দিলেও পিপাসা নিবারণ হবে না।
২.কঠোরভাবে রুহ কবজ করা হবে।
৩.ঈমানের দৌলত চিনিয়ে নেওয়া হবে।

(গ) তিনটি কবরে: ১. মুনকার নাকির ফেরেশতার উত্তর দেওয়া কঠিন হয়ে যাবে।
২.কবরে বেশি অন্ধকার হবে।
৩.কবর সংক্ষীর্ণ হয়ে যাবে।

(ঘ) তিনটি ময়দানে মাহশরে: ১. তার হিসাব কঠিন হয়ে যাবে।
২. আল্লাহ তায়ালা তার উপর নারাজ হয়ে যাবে।
৩. জাহান্নামের হকদার হয়ে যাবে।(কনজুল আখবার)

৬. দশজন ব্যক্তির নামাজ কবুল হবেনা:
১. رجل صلّى وحيدا يغير قراءة –
যে ব্যক্তি একাকী নামাজ পড়ছে কেরাত ছাড়া বা কুরআন তেলাওয়াত ছাড়া।
২. رجل يصلى ولا يودى زكوته –
এমন মানুষ যার উপর যাকাত ফরজ হওয়ার পরেও যাকাত আদায় করে না।
৩. رجل يوم قوما وهم له كارهون-
এমন ইমাম যিনি নামাজ পড়াচ্ছেন কিন্তু মুক্তাদি বা পিছনে যারা তার ইকতেদা করছে তারা তাকে অপছন্দ করে।
৪. رجل مملوك ابق-
এমন গোলাম যে তার মালিক থেকে পালিয়ে এসেছে।
৫.رجل شرب الخمر مدمنا –
এমন ব্যক্তি যে সর্বদা মদ পান করে।
৬. امرأة زوجها ساخط عليها –
এমন মহিলা যার উপর তার স্বামী অসন্তুষ্ট।
৭.امرأة صلت بغير حمار –
এমন মহিলা যে নামাজ পড়ছে উড়না ছাড়া বা চতর না ঢেকে।
৮.والا ما م الجائر –
জালেম নেতা।
৯.رجل اكل الربوا –
এমন মানুষ যে সুদ খায়।
১০. رجل لا تنهه صلواته الفحشاء والمنكر
এমন ব্যক্তির নামাজ যার নামাজ তাকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখছে না।( মকাশিফাতুল কুলুব- ইমাম গাজ্জালী রঃ)

৭. বেনামাজীর কারণে গোটা এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়:

مر عيسى عليه السلام على قرية كثيرة الا شجار والا نحار فاكره اهلها فتعجب من حسن طاعتهم ثم مرّ عليها بعد ثلاث سنين فرأى الا شجار يا بسة الا نهار نا شفة وهى خاوية على عروشها فتعجب من ذلك فاوحى الله اليه قد مرّ على هذه القرية رجل تارك الصلوة فغسل وجهه من عينها فنشضت العين ويبست الاشجار وخربت القرية يا عيسى لما كان ترك الصلوة سببا لهدم الدين كان سببا لخراب الدنيا (نزهة المجالس – انيس المجالس)

অর্থঃ একদা হযরত ঈসা (আঃ) এক গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন,যেটা অসংখ্য গাছপালা ও নদী দ্বারা সৌন্দর্য মন্ডিত । সেই গ্রামের অধিবাসীরা তাকে শ্রদ্ধা জানালেন এবং খুব আদব দেখালেন, তাদের এই আদব ও আনুগত্য দেখে তিনি খুশি হয়ে গেলেন। তিন বছর পর ঠিক ঐ গ্রামের রাস্তা দিয়ে যখন ঈসা(আঃ) অতিবাহিত হতে দেখতে পেলেন , গাছ গুলো শুকিয়ে গেছে নদীগুলো শুকিয়ে গেল আর গ্রামটা হাহাকার হয়ে পড়ে আছে। এটা দেখে তিনি অবাক হয়ে গেলেন ।

আল্লাহ তায়ালা তার কাছে ওহি প্রেরণ করলেন হে, আমার নবী আপনি অবাক হয়ে গেলেন? এই গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণ শুনেন , একদিন এই গ্রামের পাশ দিয়ে একজন বেনামাজী যাওয়ার পথে এই নদীতে মুখমন্ডল ধৌত করল, যার কারণে এই নদীর পানি শুকিয়ে গেল এবং গাছের পাতা শুকিয়ে গেল, গোটা এলাকা নষ্ট হয়ে গেল কারণ নামাজ তরক করা দ্বীন ধর্মকে নষ্ট করা অবশ্যই এটা দুনিয়াকে ধ্বংস কারী। ঐ অভিশপ্ত বেনামাজীর কারণে গোটা এলাকার উপর আল্লাহর অভিশাপ নাজিল হয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।(নুযহাতুল মাজালিস ও আনিসুল মাজালিস)

৮.বেনামাজীর অভিশাপের ভয়ে শয়তান পালিয়ে যায়:

সুরা ফাতিহার তাফসীরে পাওয়া যায় , একদা একজন মানুষ জঙ্গলে ভ্রমণ করছিল, তার সাথে শয়তান সঙ্গী হল, সে (ইবলিশ) তার সাথে ২৪ঘন্টা রইল, ঐ মানুষটা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের এক ওয়াক্ত ও আদায় করল না, কোন ওজর বা জরুরত ছাড়া, রাতে যখন ঘুমাতে যায় ইবলিশ পালাতে লাগল, তখন ঐ মানুষটা বলল। কি হয়েছে ভাই?

আপনি আমাকে একা পেলে কোথায় যান? ইবলিশ উত্তর দেয় কোথায় যাব? সে বলল তুমি আমাকে চিন নাই, আমি ঐ ইবলিশ যে আল্লাহর একটা হুকুম পালন করিনাই, আদম (আঃ) কে সিজদা করার ব্যাপারে।আল্লাহ আমাকে লানতের বোরকা পরিধান করিয়ে দিয়েছে এবং রহমতের দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। আর তুমি একদিনে আল্লাহর হুকুম পাঁচবার পালন কর নাই আমার ভয় হচ্ছে তোমার উপর আল্লাহ যেভাবে নারাজ হয়ে গেল , তোমার কারণে আমার শাস্তি বেড়ে যেতে পারে।

এক রাকায়াত নামাজের শাস্তি:

হুজুর করিম (ﷺ) ইরশাদ করেন, এক রাকায়াত নামাজের জন্য এক حقب জাহান্নামের আগুনে জ্বালানো হবে এক حقب হলো আশি বছর । আর জাহান্নামের একদিন দুনিয়ার একহাজার বছরের মতো।

এই ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন –
ان يوما عند ربك الف سنة مما تعدون
অর্থঃ নিশ্চয় আপনার রবের কাছে একদিন সমান এক হাজার দিন যা তোমরা গণনা করবে।

এখন বুঝা যায়, একদিন যদি এক হাজার বছর হয়, জাহান্নামের এক বছর সমান কত দিন,এক বছরে যদি ততদিন হয় তাহলে আশি বছরে কত দিন হবে ? যা এক রাকায়াত নামাজের শাস্তি সরূপ দেয়া হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হিফাজত করুক (আমিন)। বর্তমানে মুসলমানরা আল্লাহ ও তার রাসুল (ﷺ) এর আদর্শ ও পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে দুরে সরে গেছে , বরং ইহুদী ও নাসারাদের থেকে টিভি , ডিস ও ইত্যাদি মিডিয়ার মাধ্যমে যা দেখছে তা অনুসরণ করছে যার কারণে মুসলমানদের আজ এই নাজুক পরিস্থিতি।

অথচ রাসুলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেন,
مروا اولاد كم بالصلوة وهم ابناء سبع سنين و اضربوهم عليها وهم ابناء عسر سنين وفرقوا بينهم فى المضاجع ( ابو داؤد)

অর্থঃ তোমরা তোমাদের সন্তানদের নামাজের জন্য আদেশ দাও যখন তারা সাত বছরে পৌঁছবে এবং নামাজ ছেড়ে দিলে মার যখন তারা দশ বছরে পৌঁছবে এবং তাদের বিছানা পৃথক বা আলাদা করে দাও ।(আবু দাউদ)