পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -২

1
545
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -২
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -২

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফজিলত ও হাকীক্বত ! পর্ব -২

নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে পাকের বাণী

١. عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلوات الخمس والجمعة الى الجمعة ورمضان الى رمضان مكفرات لما بيهن اذا اختنبت الكبائر ( مسلم )

অর্থঃ হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন রাসুলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং এক জুমা থেকে অপর জুমা, এক রমজান শরীফ থেকে অপর রমজানের মধ্যখানে যত ছোট গুনাহ হবে সব কাফফারা তথা মুছন হয়ে যাবে, যদি বড় গুনাহ থেকে বেচেঁ থাকে।(মুসলিম শরীফ)

10-Minute-Madrasah-Group-Join

‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন।

“কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা” [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]


নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে পাকের বাণী জেনে নিন

٢. عن ابى هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ارايتم لواننهرا بباب احد كم يغتسل فيه كل يوم خمسا هل يبقى من درنه شى قالوا لا يبقى من درنه شى قال فذالك مشل الصلوات الخمس يمحوالله بهن الخطايا ( بخارى- مسلم )

অর্থঃ হযরত আবু হুরাইরা ( রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কি ধারনা? একজন মানুষের ঘরের পাশে একটা নদী আছে, ঐ ব্যক্তি প্রত্যেক দিন ঐ নদীতে পাঁচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে ? সাহাবারা উত্তর দেয় তার শরীরে কোন ময়লা থাকবে না। রাসুলে পাক (ﷺ)বলেন, তেমনি ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারীর গুনাহ ও মুছে দেয়। (বুখারী ও মুসলিম)

٣. عن عبد الله بن عمر وبن العاص عن النبى (ﷺ) ان ذكر الصلوات يوما فقال من حافظ عليها كانت له نورا وبرهانا ونجاة يوم القيامة ولم يحا فظ عليها لم تكن له نوراولابرهانا ولانجاة وكان يوم القيامة مع قارون و فرعون و هامان وابى بن خلف ( احمد- دارمى- طبرانى )

অর্থঃ হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত, তিনি রাসুল (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলে পাক (ﷺ) একদিন নামাজের আলোচনা করছিলেন এবং বলেন, যে নামাজকে হেফাজত করবে কিয়ামতের ময়দানে তার জন্য ঐ নামাজ নুর,দলিল এবং নাজাত হবে। অপর দিকে যে নামাজকে হেফাজত করবে না তথা নামাজ ছেড়ে দিবে কিয়ামতের ময়দানে নামাজ তার জন্য নুর, দলিল এবং নাজাত হবে না। বরং কুখ্যাত কাফির কারূন,ফেরআউন,হামান ও উবাই ইবনে খলফের সাথে তাদের হাশর হবে। ( আহমদ, দারেমী, তাবরানী )


নামাজের ফজিলত সম্পর্কে কোরআনের বানী সমূহ মিস করছেন?


নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস-

٤. عن ابى ذران النبى (ﷺ) خرج زمن الشتاء والورق يتهافت فاخذ بغصنهن من شخوة قال فجعل ذالك الورق يتهافت قال فقال يااباذر قلت لبيك يا رسول الله قال ان العبد المسم ليصلى الصلوة يريد بها وجه الله فتها فت عنه ذنوبه كما تهافت هذا الورق عن هذه الشجرة ( احمد-مشكوة )

অর্থঃ হযরত আবু যর গিফারী(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন একদিন রাসুলে কারীম (ﷺ) শীতকালে বের হলেন এবং গাছের পাতা ঝড়ছিল, রাসুলে কারীম (ﷺ) একটি ডাল ধরলেন এবং নাড়া দিতেই গাছের পাতা ঝড়তে লাগল। অতঃপর বললেন হে, আবু যর, আমি লাব্বায়েক ইয়া রাসুলাল্লাহ বলে সাড়া দিলাম, রাসুল (ﷺ) বললেন,যে মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনার্থে নামাজ পড়ে এভাবে তার গুনাহ ঝড়তে থাকে। যেমনি ভাবে গাছের পাতা ঝড়ছে। (আহমদ,মিশকাত)

٥. عن ابى الدرداء قال اوصانى خليلى ان لا تشرك باالله شيأ وان قطعت وخرقت ولاتترك صلوة مكتوبة متعمدا فمن تركها متعمدا فقد بريت منه الذمة ولاتشرب الخمر فانها مفتاح كل شر( ابن ماجه )

অর্থঃ হযরত আবি দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , আমার খলিল তথা রাসুলে পাক (ﷺ) আমাকে অছিয়ত করেন, তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করিও না। যদিও বা তোমাকে কেটে ফেলা হয় বা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এবং তুমি ইচ্ছা করে ফরজ নামাজ ছেড়ে দিও না। যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে ফরজ নামাজ ছেড়ে দেয় , তার থেকে আল্লাহর হেফাজতের জিম্মা উঠে যায় এবং তুমি মদ পান করিও না কারণ মদ পান করা প্রত্যেকটা খারাপ কাজের চাবিকাঠি। ( ইবনে মাজাহ, মিশকাত )

٦. الصلوة عماد الدين من اقامها فقدم اقام الدين ومن تركها فقد هدم الدين ( مشكوة )

অর্থঃ রাসুলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেন, নামাজ দ্বীনের খুঁটি যে নামাজ কায়েম করেছে সে দ্বীন কায়েম করেছে, এবং যে নামাজ তরক করেছে সে দ্বীনকে বরবাদ করেছে। ( মিশকাত )

٧. روى ابن حبان فى صحيحه من حديث عبدالله بن عمر مرفوعا ان العبد اذا قام يصلى اتى بذنوبه فوضعت على رأسه او على عا تقه فكلما ركع اوسجدتسا قت حتى لايبقى منها شئ ( كشف الغمه ج اص ٦٩ )

অর্থঃহযরত ইবনে হিব্বান (রাঃ) তার সহীহ কিতাবে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে মরফুয়ান তথা রাসুলে খোদা (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয় কোন বান্দা যখন নামাজের জন্য তার গুনাহ সমূহ নিয়ে দাঁড়ায়, তখন তার গুনাহ সমূহ তার মাথায় অথবা কাঁধে রাখা হয়। আর যখন রুকু বা সিজদা করে, তার সমস্ত গুনাহ তার থেকে ঝড়ে যায়। আর সামান্যতম ও বাকী থাকে না। ( কাশফুল গুম্মাহ ১ম খন্ড ৬৯ পৃষ্ঠা)

٨ . قال رسول الله (ﷺ) اذا كبر العبد للصلوة يقول الله تعالى للملائكة ارفعو ذنوب عبدى عن رقبة حتى يعبد نى طاهرا فتاخذ الملائكة الذنوب كلها فاذا فرغ العبد من الصلوة تقول الملائكة ياربنا أنعيدها عليه فيقول الله تعالى يا ملائكتى لايليق بكر مى الا العفووقد غفرت خطاياه

অর্থঃরাসুলে পাক (ﷺ) ইরশাদ করেন, যখন বান্দা নামাজের জন্য তাকবীরে তাহরিমা বাঁধে , আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদেরকে বলে আমার এই বান্দার সমস্ত গুনাহ উঠিয়ে নাও যাতে সে পবিত্র শরীর নিয়ে আমার ইবাদত করতে পারে। অতঃপর ফেরেশতারা তার সমস্ত গুনাহ উঠিয়ে নেয়। আর যখন নামাজ থেকে বের হয় , ফেরেশতারা বলে হে প্রভু, আমরা কি তার গুনাহ তার শরীরে আবার ফিরিয়ে দেব? তখন আল্লাহ বলেন এটা আমার দয়ার প্রযোজ্য নয় বরং আমার শান হলো ক্ষমা করে দেওয়া। আমি তার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিলাম।

٩. قال (رسول الله صلى الله عليه وسلم ) قال تعالى ثلاث من حفظ عليهن فهو ولىّ لى حقا ومن ضيعهن فهو عدوّ لى حقا- الصوم-الصلوة -غسل الجنابة -( زهرة الرياض)

অর্থঃ রাসুলে পাক (ﷺ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন,তিনটা এমন বিষয় আছে যে এগুলো হিফাযত করবে সে আমার প্রকৃত বন্ধু ,আর যে এগুলো ধ্বংস করবে সে আমার প্রকৃত শত্রু (১) রোজা (২) নামাজ (৩) ফরজ গোসল।( জহরাতুর রিয়াদ)

١٠. قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم ) الصلوة تسوّد وجه الشيطان والصدقة تكسر ظهره والتحابب فى الله والتورد فى العمل يقطع دابره فاذا فعلتم ذلك تباعد منكم مطلع الشمس من مغربها ( كنزالعمال ص ٦٣ )

অর্থঃ রাসুলে কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেন, নামাজ শয়তানের চেহারা কালো করে দেয়, সদকা- খাইরাত তার পিষ্ঠ ভেঙে দেয়, একে অপরকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালবাসা, ভাল কাজে লিপ্ত থাকা তার (শয়তানের) কোমর কেটে দেয়। তোমরা যখন এই কাজ গুলো করবে শয়তান তোমাদের থেকে এতদূর চলে যায় যেমন সূর্য উদয় ও ডুবার দুরত্ব। ( কানজুল উম্মাল, ৬৩ পৃষ্ঠা )।

١١. قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم ) لكل شىئ علم وعلم والا يمان الصلوة ( منة المصلى )

অর্থঃ রাসুলে কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেন, প্রত্যেক জিনিসের একটা চিহ্ন আছে , ঈমানের চিহ্ন হল নামাজ। (মুনিয়াতুল মুসাল্লি)

١٢. قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم ) جعلت قرة عينى فى الصلوة –

অর্থঃ রাসুলে কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেন, নামাজ হল আমার চক্ষু ঠান্ডা করার মাধ্যম।


সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সহজ পদ্ধতিতে আরবি শিক্ষা | সহজ পদ্ধতিতে শিক্ষক ছাড়া কুরআন শিক্ষা


নামাজের ফজিলত সম্পর্কে হাদিস

١٣. قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم ) واعلمو ان خير اعمالكم الصلوة -( ابن ما جه )

অর্থঃ রাসুলে কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেন, জেনে রাখ তোমাদের জন্য সর্বোত্তম কাজ হল নামাজ।(ইবনে মাজাহ )

١٤. تستغفر الملائكة مادام المصلّى يجلس فى مصلاّة اللهم اغفر له اللهم ارحمه اللهم تب عليه -(ابوداؤد)

অর্থঃ রাসুলে কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেন, ফেরেশতারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে, যতক্ষন মুসল্লি তার মসল্লায় বসে থাকে, এভাবে , ” আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দাও, আল্লাহ তাকে রহম কর, হে, আল্লাহ তার তওবা কবুল কর “। ( আবু দাউদ )

١٥. قال رسول الله ( صلى الله عليه وسلم ) لابى هريرة يا ابا هريرة مر اهلك بالصلوة فان الله تعالى يتيك بالرزق من حيث لا تحتسب -( ابن المبارك)

অর্থঃ রাসুলে কারীম (ﷺ) আবু হুরাইরাকে বলেন, হে আবু হুরাইরা তুমি তোমার পরিবারকে নামাজের আদেশ দাও , কেননা নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তায়ালা এমন রিজিক দান করবেন, তুমি গণনা করে শেষ করতে পারবে না। ( আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক )

١٦. قال الفارق الاعظم ان اهم امور كم عندى الصلوة فمن ضيعها فهو لما سواها اضيع ( مشكوة )

অর্থঃ ফারুকে আজম (রাঃ) তার প্রজাদের বলেন ,নিশ্চয় আমার কাছে তোমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল নামাজ ,যে ব্যক্তি নামাজকে বরবাদ করবে , সে নামাজ ছাড়া অন্যগুলো অধিক বরবাদ করবে। ( মিশকাত )

চলবে…


আরো পড়ুন

সাদাকাতুল ফিতর কী এবং সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ : কিছু কথা (ভিডিও সহ)

ইতিকাফের বিভিন্ন মাসয়ালা মাসায়েল জেনে নিন ( ভিডিও সহ )

রূহের  অবস্থান-  কিতাবুর রূহ্  এর বর্ণনা

রোজার মাসয়ালা-মাসায়েল জেনে নিন

চল্লিশ হাদিস মুখস্ত করার ফযিলত পর্ব-২