দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ জন সাহাবি

10 / 100

দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ জন সাহাবি

সাহাবাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছেন চার খলিফা। তারা হলেন, হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), হজরত উমর (রা.), হজরত উসমান (রা.) ও হজরত আলী (রা.)। এদের পরবর্তী স্তরে রয়েছেন অবশিষ্ট আশারায়ে মুবাশশারারা। আরবি আশারা শব্দের অর্থ দশ। আর মুবাশশারা শব্দের অর্থ সুসংবাদপ্রাপ্ত। অর্থাৎ যে দশজন সাহাবি দুনিয়াতে তাদের জীবনদশায় বেহেশতের সুসংবাদ পেয়েছেন তাদের আশারায়ে মুবাশশারা বা বেহেশেতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশ সাহাবি বলা হয়।

আবদুর রহমান ইবনে আউফ বর্ণনা করেন:
আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেন: “আল্লাহর নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে: দশ জন লোক জান্নাতে যাবে: আবু বকর(রা.) জান্নাতি, উমর(রা.) জান্নাতি, উসমান(রা.) জান্নাতি, আলি(রা.) জান্নাতি, তালহা(রা.) জান্নাতি: যুবাইর ইবনুল আওয়াম(রা.) জান্নাতি, আবদুর রহমান ইবনে আউফ(রা.) জান্নাতি, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস(রা.) জান্নাতি,সাঈদ ইবনে যায়িদ(রা.) জান্নাতি, এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ(রা.) জান্নাতি।— তিরমিযী[২]

জান্নাতের সুখবর সম্পর্কে আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি মদিনার একটি বাগানে রাসুল(ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। এক ব্যক্তি এসে দরজায় করাঘাত করল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন , ‘তার জন্য দরজা খুলে দাও এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ আমি দরজা খুলে দেখলাম, তিনি আবু বকর (রা.)। আমি তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফরমান অনুসারে জান্নাতের সুসংবাদ দিলাম। তখন তিনি মহান আল্লাহর প্রশংসা করলেন। এরপর উমর (রা.) এলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তাকে অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ এরপর উসমান (রা.) এলেন এবং অনুমতি চাইলেন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও।’ (বুখারি, হাদিস নম্বর : ৬৭৩০)

দশজন জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবিদের নামঃ
১/হযরত আবু বকর সিদ্দিক(রা.)
২/হযরত উমর(রা.)
৩/হযরত উসমান(রা.)
৪/হযরত আলি(রা.)
৫/হযরত তালহা(রা.)
৬/হযরত যুবাইর ইবনুল আওয়াম(রা.)
৭/হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ(রা.)
৮/হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস(রা.)
৯/হযরত সাঈদ ইবনে যায়িদ(রা.)
১০/হযরত আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ(রা.)

দশজন জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত সাহাবিদের জীবনিঃ

১/হযরত আবু বকর(রা.)- হযরত আবু বকরের(রাঃ) পূর্ণ নাম “আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তায়িম ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর আল কুরাইশি” আবু বকর ৫৭৩ সালের দিকে মক্কার কুরাইশ বংশের বনু তাইম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছেন। উনার বাবার নাম আবু কুহাফা ও মায়ের নাম সালমা বিনতে সাখার।

আবু বকর(রাঃ) শিক্ষিত ছিলেন এবং কাব্যের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। তার স্মৃতিশক্তি ভালো ছিল এবং আরব গোত্রসমূহের বংশলতিকা নিয়ে পাণ্ডিত্য ছিল।
আবু বকর প্রথম যুগের ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলামগ্রহণ করেছিলেন।

(২৭ অক্টোবর ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দ – ২৩ আগস্ট ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দ) ছিলেন মুহাম্মদ এর একজন প্রধান সাহাবি, ইসলামের প্রথম খলিফা এবং প্রথম মুসলিমদের মধ্যে অন্যতম।রাসুল মুহাম্মদ (সা.) এর মৃত্যুর পর তিনি খলিফা হন এবং মুসলিমদের নেতৃত্ব দেন। মুহাম্মদ (ﷺ) এর প্রতি অতুলনীয় বিশ্বাসের জন্য তাকে “সিদ্দিক” বা বিশ্বস্ত উপাধি প্রদান করা হয়েছে।
৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিমরা মদিনায় হিজরত করতে শুরু করে। কয়েকটি দলে এই হিজরত হয়। মুহাম্মদ (ﷺ) ও আবু বকর একই সাথে হিজরত করেন। হামলার আশঙ্কায় উনারা মদিনামুখী উত্তরের পথ না ধরে দক্ষিণমুখী ইয়েমেনগামী পথ ধরে অগ্রসর হন এবং পাঁচ মাইল দূরে সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নেন।
হিজরতের সংবাদ জানতে পেরে তাদের ধরার জন্য মক্কা থেকে বিভিন্ন লোক বিভিন্ন দিকে পাঠানো হয়। অণুসন্ধানকারীরা গুহা পর্যন্ত পৌছে গেলে আবু বকর চিন্তিত হয়ে উঠেন।
মুহাম্মদ (ﷺ) তাকে অভয় দিয়ে বলেন,

এরূপ দুজন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা যাদের তৃতীয়জন হলেন আল্লাহ।

এ বিষয়ে কুরআনে উল্লেখ রয়েছে,

যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর, (তবে স্মরণ কর) আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছিলেন যখন অবিশ্বাসীরা তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সে ছিল দুজনের একজন। যখন তারা গুহার মধ্যে ছিল, সে তখন তার সঙ্গীকে বলেছিল, “মন খারাপ করো না, আল্লাহ তো আমাদের সাথেই আছেন”। তারপর আল্লাহ তার উপর প্রশান্তি বর্ষণ করলেন। (সূরা তওবা, আয়াত ৪০)
কুরআনে আবু বকরকে “গুহার দ্বিতীয় ব্যক্তি” হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। হিজরতের সময় মুহাম্মদ (ﷺ) এর সাথে সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নেয়ার কারণে এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। আবু বকর মিরাজের ঘটনা শোনা মাত্র বিশ্বাস করেছিলেন বলে তাকে মুহাম্মদ (ﷺ)সিদ্দিক উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
রাসুল (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় আবু বকর (রা.) বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাবুকের যুদ্ধে তিনি তার সমস্ত সম্পদ দান করে দেন। আবু বকর (রা.) না জেনে দ্বীনের কোনো বিষয়ে কথা বলতে ভয় করতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আমার ওপর কারও এমন অনুগ্রহ নেই, যার বিনিময় আমি দিইনি। তবে শুধু আবু বকর ছাড়া। আমার প্রতি তার এত অনুগ্রহ, যার বিনিময় আল্লাহ তায়ালা কেয়ামত দিবসে দেবেন। কারও সম্পদ কখনো আমাকে এতও ফায়দা দেয়নি, যতটুকু দিয়েছে আবু বকর (রা.)-এর সম্পদ।’ (তিরমিযি, হাদিস নম্বর ৩৬৬১; ইমাম তিরমিযি হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন।)
৬৩৪ সালের ২২ আগস্ট ৬১ বছর বয়সে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মসজিদে নববিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজার পাশেই তার সমাধি।
২/হযরত উমর (রা.)- হযরত উমর (রা.)-এর পুরো নাম উমর ইবনুল খাত্তাব। এছাড়া আমিরুল মুমিনিন ও ফারুক নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। ৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে, মক্কার কুরাইশ বংশের ‘বনু আদি’ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম খাত্তাব ইবনে নুফায়েল এবং মাতার নাম হানতামাহ বিনতে হিশাম।উমর ৬১৬ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন।

হযরত উমর (রা.) এর ইসলাম গ্রহণের বর্ননা হল, ইবনে সাদ, ইবনে হিশাম, দারকুতনী ও ইবনে আসীরের বর্ননায়, উমর ইসলামী নবী মুহাম্মদ কে হত্যার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। পথিমধ্যে তার বন্ধু নাইম বিন আবদুল্লাহর সাথে দেখা হয়। নাইম গোপনে মুসলিম হয়েছিলেন তবে হযরত উমর (রা.) তা জানতেন না। উমর তাকে বলেন যে তিনি মুহাম্মদ কে হত্যার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। এসময় উমর তার বোন ও ভগ্নিপতির ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে জানতে পারেন।

এ সংবাদে রাগান্বিত হয়ে উমর তার বোনের বাড়ির দিকে যাত্রা করেন। বাইরে থেকে তিনি কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ শুনতে পান। এসময় খাব্বাব ইবনুল আরাত তাদের সুরা তাহা বিষয়ে পাঠ দিচ্ছিলেন। উমর ঘরে প্রবেশ করলে তারা পাণ্ডুলিপিটি লুকিয়ে ফেলেন। কিন্তু উমর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে একপর্যায়ে তাদের উপর হাত তোলেন। এরপর বোনের বক্তব্যে তার মনে পরিবর্তন আসলে তিনি স্নেহপূর্ণভাবে পাণ্ডুলিপিটি দেখতে চান। কিন্তু তার বোন তাকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করতে বলেন এবং বলেন যে এরপরই তিনি তা দেখতে পারবেন।উমর গোসল করে পবিত্র হয়ে সুরা তাহার আয়াতগুলো পাঠ করেন। এতে তার মন ইসলামের দিকে ধাবিত হয়। এরপর তিনি মুহাম্মদ এর কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৯ বছর। তিনি ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং প্রধান সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম। হযরত আবু বকর (রা.) ইনতেকালের পর তিনি দ্বিতীয় খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হন। ইসলামি আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন তিনি। ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল ফারুক (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেওয়া হয়। ‘আমিরুল মুমিনিন’ বা ‘বিশ্বাসীদের নেতা’ উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।

হযরত উমর (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের পর, প্রকাশ্যে কাবার সামনে নামাজ আদায় করাতে মুসলিমরা আর বাধার সম্মুখীন হননি। ইসলাম গ্রহণের পর গোপনীয়তা পরিহার করে, প্রকাশ্যে তিনি মুসলিমদের নিয়ে বাইরে আসেন এবং কাবা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। সেদিন হজরত মুহাম্মদ (ﷺ) তাকে ‘ফারুক’ উপাধি দেন।

হযরত উমর (রা.) এমন ব্যক্তিত্ব, শয়তানও তাকে ভয় পেত। দ্বীনের বিষয়াবলিতে উমর (রা.) ছিলেন বেশ কঠোর।উমর কঠোর প্রকৃতির শাসক ছিলেন। তাই অনেকে তার শাসন সমর্থন করতে চান নি। তবে এরপরও আবু বকর তাকে নিজের উত্তরসূরি মনোনীত করে যান।

উমর তার ইচ্ছাশক্তি, বুদ্ধিমত্তা, রাজনৈতিক সচেতনতা, নিরপেক্ষতা, ন্যায়বিচার এবং দরিদ্র ও অসহায়দের প্রতি সদয় আচরণের জন্য পরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ করা হয় যে আবু বকর তার উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টাদের বলেছিলেন :

আমার কোমলতার জন্য তার (উমর) কঠোরতা ছিল। যখন খিলাফতের ভার তার কাঁধে আসবে তখন সে আর কঠোর থাকবে না। যদি আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে কাকে আমি আমার উত্তরসূরি নিয়োগ দিয়েছি, তবে আমি তাকে বলব যে আপনার লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছি। মহান আল্লাহর কাছে হযরত উমর (রা.) হলেন সবচেয়ে প্রিয়। ৬৩৪ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ৬৪৪ সালের ৩ নভেম্বর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত খলিফা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রাসুল (ﷺ)-এর রওজার পাশে তার সমাধি।
৩/হযরত উসমান(রা.)-হযরত উমর (রা.)-এর পুরো নাম উমর ইবনুল খাত্তাব। এছাড়া আমিরুল মুমিনিন ও ফারুক নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন। ৫৭৭ খ্রিস্টাব্দে, মক্কার কুরাইশ বংশের ‘বনু আদি’ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম খাত্তাব ইবনে নুফায়েল এবং মাতার নাম হানতামাহ বিনতে হিশাম।উমর ৬১৬ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন।

.হযরত উসমান(রা.) ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা।হযরত উসমান(রা.) যিননুরাইন (দুই নূরের অধিকারী), আল-গনি (উদার), আমির আল-মুমিনুন নামেও পরিচিত ছিলেন। ৫৭৬ সালে তিনি কুরাইশ বংশের উমাইয়া শাখার জন্মগ্রহণ করেন। তার ঊর্ধ্ব পুরুষ আবদে মান্নাফে গিয়ে হজরত মুহাম্মদ(ﷺ) এর বংশের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তার পিতার নাম আফফান ইবন আবি আল-আস এবং মাতার নাম আরওরা বিনতে কুরাইজ।

৬৪৪ থেকে ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। খলিফা হিসেবে তিনি চারজন খুলাফায়ে রাশিদুনের একজন। উসমান আস-সাবিকুনাল আওয়ালুনের (প্রথম পর্বে ইসলাম গ্রহণকারী) অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও তিনি আশারায়ে মুবাশ্‌শারা’র একজন এবং সেই ৬ জন সাহাবীর মধ্যে অন্যতম যাদের উপর মুহাম্মদ সন্তুষ্ট ছিলেন।। তাকে সাধারণত হযরত উসমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অন্যান্য অনেক সাহাবীর মতোই ইসলাম গ্রহণের পূর্বে উসমানের জীবন সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায় নি। উসমান কুরাইশ বংশের অন্যতম বিখ্যাত কোষ্ঠীবিদ্যা বিশারদ ছিলেন। কুরাইশদের প্রাচীন ইতিহাস সম্বন্ধে তার অগাধ জ্ঞান ছিল। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও তার এমন বিশেষ কোনো অভ্যাস ছিল না যা ইসলামী নীতিতে ঘৃণিত। যৌবনকালে তিনি অন্যান্য অভিজাত কুরাইশদের মতো ব্যবসায় শুরু করেন। ব্যবসায়ে তার সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। মক্কার সমাজে একজন ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন বলেই তার উপাধি হয়েছিল গনি যার অর্ধ ধনী।হযরত উসমান (রা.) ‘রুমা’ নামক ক‚প খরিদ করে, মুসলমানদের জন্য ওয়াকফ করেছিলেন। তিনি মসজিদ নির্মাণ ও প্রশস্ত করেছিলেন।

যেদিন খলিফা নির্বাচিত হন, সেদিন তিনি সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন। আর যখন তাকে হত্যা করা হয়, সেদিনও তিনি উত্তম ছিলেন। মুহাম্মদ (ﷺ) বলেছেন, “আল্লাহর হিকমত অনুসারে জিননুরাইনের ওপর মতানৈক্য দেখা দেবে এবং লোকেরা তাকে শহীদ করবে। অথচ তিনি তখন হকের ওপরই থাকবেন এবং তার বিরোধীরা থাকবে বাতিলের ওপর।” শেষ পর্যন্ত মিসর, বসরা ও কুফার বিদ্রোহী গোষ্ঠী একাট্টা হয়ে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় সমবেত হয়ে খলিফার পদত্যাগ দাবি করে। হজ উপলক্ষে অধিকাংশ মদিনাবাসী মক্কা গমন করায় তারা এ সময়কেই মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। খলিফা পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে তারা হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। হযরত ওসমান রক্তপাতের সম্পূর্ণ বিরোধী ছিলেন। বিশাল মুসলিম জাহানের খলিফা হিসেবে মুষ্টিমেয় বিদ্রোহীর কঠোর শাস্তিদানের পরিবর্তে তিনি তাদের দ্বারা অবরুদ্ধ হয়ে থাকলেন। হযরত আলী, তালহা ও জুবাইরের ছেলেদের দ্বারা গঠিত ১৮ নিরাপত্তারক্ষী বিপথগামী বিদ্রোহীদের মোকাবিলায় ব্যর্থ হন। অবশেষে তারা ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জুন হিজরি ৩৫ সনের ১৮ জিলহজ শুক্রবার আসরের নামাজের পর ৮২ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ খলিফাকে অত্যন্ত বর্বরভাবে পবিত্র কোরআন পাঠরত অবস্থায় হত্যা করা হয়।

চলবে ……

YouTube এ সকল অ্যাসাইনমেন্টের সমধান পেতে আমাদের অফিসিয়াল YouTube চ্যানেলটিতে এখনি সাবস্ক্রাইব করো।
আমাদের চ্যানেলঃ 10 Minute Madrasah

প্রশ্ন প্রকাশ হলে সবগুলো বিষয়ের উত্তর দেওয়া হবে। তাই তোমরা পেজটি সেভ বা বুকমার্ক  করে রাখো।

আপডেট পাওয়ার জন্য আমাদের ফেসবুক পেইজে যুক্ত থাকো

আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

Join Our Facebook Group

This post was last modified on December 19, 2020 3:01 pm

Recent Posts

এই বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর দেশবাসীকে একটি সর্বজনগ্রাহ্য শাসনতন্ত্র উপহার দিতে আলোচনায় বসেন আওয়ামী লীগের… Read More

23 hours ago

তাঁদের মধ্যকার বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

১৯৭১ সালের ১২ই জানুয়ারি ঢাকায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ… Read More

2 days ago

প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কতটি আসনে জয়লাভ করে?

১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন… Read More

3 days ago

বঙ্গবন্ধু কবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন?

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান… Read More

4 days ago

আপনি কি জানেন? শুক্র গ্রহ কেন উল্টো দিকে ঘোরে?

শুক্র গ্রহ কেন উল্টো দিকে ঘোরে? শুধু শুক্র গ্রহ নয়, ইউরেনাসও উল্টো দিকে ঘোরে। ইউরেনাসের… Read More

4 days ago

বিভিন্ন তত্ত্ব এবং এর প্রবক্তা।

তত্ত্ব - প্রবক্তা ১. বর্ণবাদ - জেমস্ হার্জগ।২. ইহুদীবাদ - থিওডর হার্জেল।৩. কিন্ডারগার্ডেন - ফ্রোয়েবল।৪.… Read More

4 days ago