তাহাজ্জুদের    নামায    |    এশরাকের   নামায    | সালাতুত তাছবীসহ আরো নফল নামাজের নিয়ম

0
1070
তাহাজ্জুদের    নামায    |    এশরাকের   নামায    | চাশতের নামায (সালাতুত দ্বোহা) | সালাতুল আউয়াবীন | সালাতুত তাছবীর নামায | কাযা নামায     |     সালাতুল     আসরার     বা     (নামাযে  গাউছিয়া)
তাহাজ্জুদের    নামায    |    এশরাকের   নামায    | চাশতের নামায (সালাতুত দ্বোহা) | সালাতুল আউয়াবীন | সালাতুত তাছবীর নামায | কাযা নামায     |     সালাতুল     আসরার     বা     (নামাযে  গাউছিয়া)

তাহাজ্জুদের নামায

তাহাজ্জুদের নামায- যে  সকল   নামায   রাতে  এশার  নামাযের   পর    আদায় করা হয়, তাকে সালাতুল লাইল বা রাতের নামায বলা হয়।  এই নামাযের অনেক  ফজিলত ও গুরুত্ব রয়েছে।

এশার নামাযের পর নিদ্রা হয়ে যে সকল নামায আদায় করা     হয়      তাকে       তাহাজ্জুদের     নামায      বলা      হয়।  (তিবরানীশরীফ)     তাহাজ্জুদের   নামায    কমপক্ষে   দুই  রাকাত আদায় করবেন। ছরকারে কায়েনাত  সাল্লাল্লাহু আলাইহি    ওয়াসাল্লাম    থেকে    আট    রাকাতের    প্রমাণ  পাওয়া যায়। (বাহরে শরিয়ত)

কেউ   কেউ   বারো   রাকাতও    উল্লেখ    করেছেন।     এই নামায    যে   কোন  সূরা   দ্বারা   আদায়  করা   যায়।  তবে সম্ভব    হলে   লম্বা   বা   কোরআনশরীফের   যত   আয়াত  মুখস্ত  আছে  তা  পাঠ  করে  নেবেন।   সহজ  পদ্ধতি  হল  সূরায়ে   ফাতেহার    পর   প্রতি   রাকাতে    তিনবার   করে সূরায়ে  এখলাস    পাঠ  করবেন।     তাতে  প্রতি  রাকাতে এক মর্তবা কোরআনশরীফ খতম করার  সওয়াব  লাভ হয়।

10-Minute-Madrasah-Group-Join

ফজিলত : হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,  তিনি  বলেন-  রাসূলেপাক    সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- ঐ সকল পুরুষলোকের উপর  আল্লাহর  রহমত  বর্ষিত   হবে,   যারা  রাতে  নিজে উঠে   তাহাজ্জুদের   নামায  পড়ে   এবং   আপন    বিবিকে (পরিবারের লোকদিগকে) উঠিয়ে  নামায   পড়ায়। যদি  তারা  উঠতে না চায়, তবে  তাদের  মুখে পানি    ছিটিয়ে উঠায়।

আর ঐ  সকল স্ত্রীলোদের উপর আল্লাহর  রহমত বর্ষিত হবে, যারা  রাতে উঠে   নিজে তাহাজ্জুদের নামায  পড়ে এবং আপন স্বামীকে (পরিবারের লোকদিগকে) উঠিয়ে নামায পড়ায়। যদি তারা উঠতে না  চায়,  তবে  তাদের মুখে পানি ছিটিয়ে উঠায়। (আবুদাউদ)।

অন্যত্র      রয়েছে     তাহাজ্জুদের     নামায        আদায়কারীর নামাযকে  গোরের  চাঁদ  বলা  হয়।  তাহাজ্জুদের  নামায  মুমিনদেরকে    জাহ্ন্নাামের    আগুন    থেকে   রা   করবে। (ফয়জানে সুন্নত)।

তাছাড়া তাহাজ্জুদের নামাযের আরো অসংখ্য ফজিলত রয়েছে।

এশরাকের নামায

এশরাকের  নামায    সুন্নাতে  যায়েদা।   তা  দুই  রাকাত   করে   মোট  চার রাকাত, অন্যান্য সুন্নত নামাযের ন্যায় যে   কোন  সূরা  দ্বারা    পড়া  যায়।  তবে    হাজতপূরণের  উদ্দেশ্যে নিম্নলিখিত নিয়মে পড়তে হবে।

প্রথম রাকাতে সূরা ওয়াশশামছি।
দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ওয়াল লাইলী।
তৃতীয় রাকাতে সূরা ওয়াদ দোহা।
চতর্থ রাকাতে সুরা আলাম নাশ্রাহ।
এশরাকের  নামাযের ওয়াক্ত   সূর্যদ্বয়ের  ২০ মিনিট পর থেকে দুই ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।

ফজিলত  : রাসূলেপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ  করেছেন-   যে  ব্যক্তি  ফজরের   নামায  আদায় করে     আল্লাহপাকের    জিকিরে    মশগুল      থাকে     এবং  সূর্যদ্বয়ের ২০ মিনিট পর চাররাকাত এশরাকের নামায পড়বে,    তার    আমলনামায়    একটি    হজ্জ    ও    উমরার  সওয়াব লেখা হবে। (বাহরে শরিয়ত)।

চাশতের নামায (সালাতুত দোহা)

চাশতের নামায সুন্নত। তা কমপে   দুই  রাকাত পড়তে হবে।   তবে   ১২    রাকাত     পড়াই     উত্তম।    এশরাকের নামাযের    পর    থেকে      দ্বিপহরের    পূর্বপর্যন্ত     চাশতের নামাযের ওয়াক্ত থাকে।

ফজিলত  :  হযরত  বোরাইদা  রাদিয়াল্লাহু   আনহু   হতে বর্ণিত       তিবি     বলেন-     আমি     রাসূলেপাক     সাল্লাল্লাহু আলাইহি  ওয়াসাল্লামকে    বলতে  শুনেছি   যে,  মানুষের  মধ্যে   ২৬০টি  গ্রন্থি (জোড়া) রয়েছে। সুতরাং   প্রত্যেক জোড়ার     পরিবর্তে       একটি     সদকা    করা    আবশ্যক। সাহাবায়ে  কেরাম   আরজ করলেন  হে আল্লাহর রাসূল, এ সাধ্য  কার আছে?  তিনি  এরশাদ   করলেন  মসজিদ থেকে     থু-থু   অর্থাৎ     আবর্জনা   পরিস্কার   করা   একটি  সদকা এবং রাস্তা  থেকে কষ্টদায়ক   বস্তু সরিয়ে দেয়াও একটি  সদকা।  যদি  এগুলো  করার   সুযোগ    না  পাও, তবে  চাশতের দুই রাকাত  নামাযই তোমার  পে যথেষ্ট হবে। (আবুদাউদ)।

হযরত   আনাস    রাদিয়াল্লাহু   আনহু   হতে   বর্ণিত    তিনি বলেন    রাসূলেপাক    সাল্লাল্লাহু    আলাইহি      ওয়াসাল্লাম এরশাদ   করেছেন,    যে   ব্যক্তি     ১২   রাকাত   চাশতের নামায  পড়বে,   আল্লাহতা’য়ালা    তার    জন্য  বেহেশতে স্বর্ণের একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (তিরমিজী)।

হযরত   আবু   হুরায়রা   রাদিয়াল্লাহু   আনহু   হতে   বর্ণিত  তিনি        বলেন-         রাসূলেপাক        সাল্লাল্লাহু         আলাইহি ওয়াসাল্লাম  এরশাদ করেছেন, যে  ব্যক্তি  চাশতের দুই রাকাত নামাযের যথাযথ সংরণ করবে তার গোনাহ মা করা হবে।  যদিও তা  সমুদ্্েরর  ফেনার সমান হয়। (মিশকাতশরীফ)

সালাতুল আউয়াবীন

আউয়াবীন নামাযের ওয়াক্ত মাগরিবের নামাযের ফরয ও সুন্নতের পর হতে এশার ওয়াক্তের পূর্ব পর্যন্ত থাকে। এই  নামায কমপে  ৬   রাকাত   এবং ঊর্ধ্বে ২০ রাকাত পর্যন্ত     পড়া   যায়।    বিভিন্ন     হাদিসশরীফে   এর   প্রমাণ রয়েছে।

ফজিলত  : হযরত আয়েশা সিদ্দিকা  রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি  বলেন- নবীপাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম   এরশাদ     করেছেন   যে    ব্যক্তি   মাগরিবের নামাযের   পর   ২০  রাকাত   নামায  পড়বে  আল্লাহপাক তার  জন্য   বেহেশতে  একখানা   ঘর     নির্মাণ  করবেন। (তিরমিজীশরীফ)।

অন্য    এক    হাদিসে      রয়েছে,     যে    ব্যক্তি     মাগরিবের নামাযের পর ছয়   রাকাত   আউয়াবীনের নামায পড়বে সে   বারো   বৎসরের   ইবাদতের   সমান   সওয়াব   লাভ  করবে। (তিরমিজীশরীফ)।

সালাতুছ তাছবীহ- এর নামায

ইহা চার রাকাত বিশিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল নামায। এ নামাযে প্রতি রাকাতে

سبحان الله والحمد لله ولا اله الا الله والله اكبر
(ছোবহানাল্লাহি   ওয়াল   হামদু   লিল্লাহি   ওয়ালা   ইলাহা  ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার) তাছবিহখানা ৭৫বার করে পাঠ করত সমস্ত নামাযে সর্বমোট ৩০০ বার  পাঠ করা হয়    বলে    এর    নাম    হয়েছে    ‘ছালাতুছ    তাছবীহ’    বা  তাছবীহর নামায।

ফজিলত   :   এ   নামাযের   ফজিলত   বর্ণনাতীত।   হুজুর  সাল্লাল্লাহু আলাইহি   ওয়াসাল্লাম একদা  তার প্রিয় চাচা  হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে লক্ষ করে বললেন-   হে    চাচাজান!   আমি     কি     আপনাকে    এমন একটি   আমল-কাজের   কথা     বাতলিয়ে   দেব   না?   যা পালন করলে আল্লাহতা’য়ালা আপনার আগের জীবনের ও                      পরের                      জীবনের                      নূতন-পুরাতন,  ইচ্ছাকৃত-অনিচ্ছাকৃত,          প্রকাশ্যে           ও           গোপনীয়, সগিরা-কবিরা,     সর্বপ্রকারের    পাপ-গোনাহ    মা    করে  দেবেন।    উত্তরে    হযরত    আব্বাস   রাদিয়াল্লাহু    আনহু  বলেলেন হ্যাঁ  নিশ্চয়  বলুন! তখন আল্লাহর   প্রিয় রাসূল  সাল্লাল্লাহু     আলাইহি    ওয়াসাল্লাম   আব্বাস   রাদিয়াল্লাহু আনহুকে    ছালাতুত   তাছবীহর   তালিম  দান  করলেন। অতঃপর আল্লাহর  হাবিব  আরো বললেন! চাচা  আপনি যদি  পারেন   এ নামায প্রতিদিন  একবার  করে  আদায়  করুন,  তা  যদি  সম্ভব  না  হয়  তাহলে   প্রত্যেক    মাসে   একবার  করে  আদায়  করুন,  তাও  যদি  সম্ভব  না  হয়  তাহলে প্রতিবৎসরে একবার  করে আদায় করুন। এও যদি সম্ভব না হয় তাহলে অন্তত জীবনে একবার হলেও আদায়  করুন।’  তাই  এ  নামায  প্রত্যেক  ছালেকীনগণ  নিয়মিত আদায় করার চেষ্টা করবেন।

ছালাতুত তাছবীহ চার রাকাতের নিয়ত

نويت ان اصلى لله تعالى اربع  ركعات صلوة  التسبيح  سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة  الكعبة   الشريفة الله اكبر

উচ্চারণ:   নাওয়াইতু  আন    উছাল্লিয়া   লিল্লাহি   তা’য়ালা আরবায়া        রাকআতি        ছালাতুত         তাছবিহ        সুন্নাতু  রাসূলিল্লাহি   তা’য়ালা  মুতাওয়াজ্জিহান   ইলা    জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

কাযা নামায

একজন    মুকাল্লাফ     বা    শরিয়ত    পালনের    উপযোগী   হওয়ার  পর থেকে অর্থাৎ বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর   হতে   দীর্ঘদিনের   যত  ওয়াক্তের  ফরয,   ওয়াজিব  (বিতির)    নামায   আদায়    করেনি,     তা    ইচ্ছায়   কিংবা অনিচ্ছায় হোজ,  ঘুমের দরুন কিংবা অলসতার কারণে হোক,  কম হোক বা   বেশি হোক, এ  জাতীয় অনাদায়ী নামাযকে         শরিয়তের       পরিভাষায়        قضاء       الفوائت  (কাযাউল ফাওয়াইত) নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। এসব    অনাদায়ী    নামাযকে    পুনরায়    আদায়    করাকে  আমাদের সমাজে উমরী কাযা   হিসেবে  অভিহিত করা  হয়।

মু’মিন    মুসলমানদের    জন্য    কাযা    নামাযসমূহ    অতি  তাড়াতাড়ি আদায়  করা উচিত। কেননা এ কথা কারো  জানা নেই  যে, মৃতু  কখন এসে   পড়ে।  কাজেই  মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা একান্ত প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, কোন ফরয কিংবা ওয়াজিব নামাযসমূহকে তার   নির্ধারিত   সময়ের   মধ্যেই   আদায়   করলে   একে  শরিয়তের  পরিভাষায়  اداء  (আদা)  বলা  হয়।  আর  এ  প্রকারের ফরয, ওয়াজিব নামাযের জন্য নির্ধারিত সময় অতিবাহিত   হওয়ার  পরে   যদি  এসবকে  আদায়   করা  হয়,   তাহলে একে শরিয়তের পরিভাষায় قضاء (কাযা)  বলা   হয়।   যেমন    আসরের   নির্ধারিত    সময়ের   ভিতর আসরের  নামায  আদায়  করে নিলে   একে  ‘আদা’ বলা হবে এবং  আসরের  সময় চলে যাওয়ার পরে  আসরের নামায পড়া হলে তাকে কাযা বলা হবে।

যে ব্যক্তির মাত্র এক থেকে ঊর্ধ্বে পাঁচ ওয়াক্ত তারতিব বা  ধারাবাহিকতা  তথা  আগের  ওয়াক্তের নামায আগে এবং    পরের    ওয়াক্তের    নামায    পরে     অর্থাৎ     প্রথমে ফজরের ফরয তারপর জুহরের ফরয এরপর যথাক্রমে আসর,     মাগরিব     ও     এশার     ফরযের     ছুটে     যাওয়া  নামাযগুলো       ধারাবাহিকভাবে       আদায়      করে       পরে উপস্থিত  ওয়াক্তের নামায পড়তে  হবে। যদি ওয়াক্তের নামাযের   সময়  এতই  সংকীর্ণ হয় যে, অতীতের কাযা নামায   আদায়   করলে,  ওয়াক্তের  নামাযও  ফৌত   বা    কাযা হয়ে যাওয়ার  আশঙ্কা থাকে, অথবা পূর্বের কাযা  নামাযের        কথা         একবারেই       স্মরণ       না       থাকলে   এমতাবস্থায়      পূর্বের    কাযা     নামায    আদায়    না    করে ওয়াক্তের  নামায  আদায়  করতে  পারবে।  এতে  কোন  দোষ নেই।   তবে অতীতের  কাযা নামাযের  কথা   যদি ওয়াক্তের নামায আদায়ের অভ্যন্তরে, সালাম ফিরানোর পূর্বে স্মরণ হয়ে যায়, তাহলে ওয়াক্তের নামায ফাসিদে মওকুফ  বলে  গণ্য  হবে।  তারপর পূর্বের  কাযা  নামায  আদায়  করে,  ওয়াক্ত  থাকা  অবস্থায়  ওয়াক্তের  নামায  আদায় করে  নিতে হবে।  প্রকাশ  থাকে যে, যদি  কোন লোকের  একাধারে   পাঁচ     ওয়াক্তের  অধিক  তথা  ছয়,  সাত, আট  কিংবা ততধিক ওয়াক্তের নামায কাযা হয়ে পড়ে, তার জন্য তারতিব অর্থাৎ ধারাবাহিকতার নিয়ম পালন করা  জরুরি নয়, বরং সে লোক  ঐ  ছুটে  যাওয়া নামাযসমূহের     কাযা       আদায়     না      করেও       উপস্থিত ওয়াক্তের   নামায     আদায়    করে   নিতে   পারবে।   পরে সুযোগ  সময়  মত   উক্ত ছুটে  যাওয়া কাযা নামাযগুলো আদায়   করে  নিতে   হবে।  অথবা    আলস্যবশত   কাযা  নামায আদায়ে বিলম্ব করা শক্ত গোনাহ।

ওমরি     কাযা      নামাযের     বিবরণ     ও      তা       আদায়ের নিয়মাবলী

একদিনে পাঞ্জেগানা ফরয    ১৭ রাকাত  এবং (বিতির)  ওয়াজিব ৩ রাকাতসহ মোট ২০ রাকাত নামায পড়তে হবে।   যথা    ফজরের    ২  রাকাত,  জুহরের  ৪   রাকাত, আসরের  ৪  রাকাত,   মাগরিবের  ৩  রাকত,  এশার    ৪ রাকাত ও বিতির  (ওয়াজিব)  ৩   রাকাত।  এরূপ মোট   ২০ (বিশ) রাকাত।

ফোকাহায়ে    কেরাম    বা    ইসলামের   আইন    বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ       বলেন-      যার      জিম্মায়       অতীতে       অনেক ওয়াক্তের নামায কাযা হয়ে গিয়েছে, কিন্তু কোন্ দিনের নামায  তা  স্মরণ   নেই,  সে   ব্যক্তি  ওমরি  কাযা   নামায আদায়কালে এভাবে নিয়ত করতে হবে।

কাযা নামাযের নিয়ত নিম্নরুপ

আমি    আমার  বিগত অনাদায়ী ফজরের  নামাযসমূহের মধ্যে  প্রথম যে ফজরের  নামায কাযা  হয়ে গিয়েছে তা আদায়  করার  নিয়ত  করলাম।  এভাবে  জুহর,  আসর,  মাগরিব, এশা ও বিতির নামাযসমূহের অনাদায়ী প্রথম ওয়াক্তের    কাযা  নামাযের   উল্লেখ  করে  নিয়ত  করতে হবে। অন্যথায় কাযা নামায আদায় হবে না।

সালাতুল     আসরার     বা     (নামাযে     গাউছিয়া)     পড়ার  নিয়ম

ক)  মাগরিবের সুন্নত নামায আদায়   করার পর  হাজত  পূরণের    নিয়তে    দুইরাকাত    নফল    নামায    পড়বেন,  প্রত্যেক   রাকাতে সূরায়ে ফাতেহাশরীফের পর ১১বার সূরায়ে  এখলাস  পাঠ  করবেন।  নামায    আদায়   করার পর   ক্বিবলার  দিকে  মুখ  করে দাঁড়ানো   অবস্থায় ১বার সূরায়ে ফাতেহাশরীফ ৭বার আয়াতুল কুরসি পাঠ করে নিম্নের দরূদশরীফ ১বার পাঠ করবেন।

اللهم صل على سيدنا ومولنا محمد معدن الجود والكرام واله       وابنه       الكريم       وامته      الكريمة      يااكرم الاكرمين وبارك وسلم

তারপর মদিনাশরীফের দিকে মুতাওয়াজ্জা হয়ে  (ধ্যান লাগিয়ে) ১১বার বলবেন-

يا رسول الله يا نبى الله اغثنى وامددنى فى قضاء  حاجتى يا قاضى الحاجات
তারপর বাগদাদশরীফের   দিকে   (উত্তর পশ্চিমকোণে) পূর্ণ   আদব     সহকারে    এক   এক   করে      এগার   কদম চলবেন।  অন্তরে  এই  খেয়াল   বা   ধারণা  করবেন  যেন আপনি   স্বয়ং   বাগদাদশরীফে   উপস্থিত,   মাজারশরীফ  আপনার  সামনে  তথায় গাউছেপাক  রাদিয়াল্লাহু আনহু নিদ্রারত  আছেন,  তিনি  যেন আপনাকে   দেখছেন এবং তাঁর দয়ার উপর পূর্ণ আস্থা রাখবেন।

ক) প্রতি কদমে নিম্নলিখিত দোয়াসমূহ পাঠ করবেন-

يا  غوث    الثقلين  يا   كريم  الطرفين  اغثنى  وامددنى   فى  قضاء حاحتى يا قاضى الحاجات

খ) ৩ বার পাঠ করবেন يا ارحم الراحمين

গ)
يا  بديع  السموات  والارض   ياذا  الجلال  والاكرام    بجاه سيد  المرسلين   وبجاه    ابنه  هذا  السيد  الكريم    غوثنا الاعظم رضى الله عنه

ঘ)
ايدركنى ضيم وانت ذخيرتى
واظلم فى الدنيا وانت نصيرى
وعار على حامى الجمى وهو المنجدى
اذا ضاع فى البيد عقال بعيرى

তারপর   মতলব   বা   উদ্দ্যেশ্য   বলবেন   এবং   তিনবার  আমীন      বলবেন      তারপর      নিম্নের      দরুদ      ৩      বার  পড়বেন-

الصلوة   والسلام   على   خاتم    النبيين   والحمد    لله     رب العالمين
কেঁদে  কেঁদে অথবা কান্নার  ভান  ধরে  দোয়া করবেন। এ নিয়মে ১১ কদম  চলবেন।  ইনশায়াল্লাহ স্বীয় হাজত পূর্ণ হবে।