জসনে জুলুস ঈদে মিল্লাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

0
259

জসনে জুলুস ঈদে মিল্লাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
——————————————————-
রাহনূমায়ে শরীয়ত ও তরিকত আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রাঃ)এ-র নূরানী তকরীরঃ-

আউযু বিল্লাহিস সামীঈল আলিম মিনায় শায়ত্বানির রাজীম।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। কূল বি ফাদল্লিল্লাহি ওয়া রাহমাতিহি ফাবিযালিকা ফাল ইয়াফরাহু ওয়া হুয়া খায় রুম মিম্মা ইয়াজমাউন।ছাদাকাল্লাহুল মাওলানাল আযীম ওয়াছাদাকাহু রাসূললুহুন নবীয়্যুল করীম।

10-Minute-Madrasah-Group-Join

ইন্নালাহা ওয়া মালাইকাতাহু ইউসাল্লুন আলা নবী ইয়া আইয়ুহানল্লাযী নাম আমানুল সাল্লু আলাইহি ওয়া সল্লিমা তাসলিমা—
আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা সায়্যিদিনা মুহাম্মদ ওয়ালা আলি সায়্যিদিনা মুহাম্মদ ওবারেক ওয়াসাল্লিম।

আল্লাহ তবারাকা ও তায়ালা এরশাদ করেন যেন কুল বি ফাদলিল্লাহি ওয়া বিরাহমাতিহি-হে  প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা! আপনি বলে দিন। যে, আল্লাহরই অনুগ্রহ ও তাঁর দয়ার উপর খুব আনন্দ করা উচিত। ওয়া হুয়া খায় রুম মিম্মা ইয়াজ মাউন-আর এ আনন্দ তোমাদের জন্য অত্যান্ত শ্রেয়  ঐ সব ধন  দৌলত থেকে যা তোমরা সন্চয় করে থাকো।অর্থাত যে ধন সম্পদ ও স্বর্ন  রৌপ্য তারা সন্চয় করে তার হতে অত্যন্ত শ্রেয় যে, তাঁরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাঁর করুনা প্রাপ্তিতে আনন্দ উৎসব পালন কর।

  আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদেরকে বিবিধ প্রকারের আনন্দ উৎসব প্রদান করেছেন। যেমন শিশুর জন্মগ্রহন করাতে,সন্তান সন্ততির বিবাহ উপলক্ষে এবং (পার্থিব) নানা কাজে আমরা উৎসব পালন করি। আরও বর্নিত আয়াতে যেন খুশী করার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে, তার হলো আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া প্রাপ্তিতে খুশী ও আনন্দ উদযাপন করা। আর আনন্দ দু,ধরনের হয়ে থাকে।

প্রথমতঃ যে আনন্দ উৎসব নাফসের তাড়নায় ও অহংকারভরে হয়ে থাকে তাহলে অবৈধ। মানুষ যখন আনন্দে বিভোর হয়ে যায়, সে তখন নিজেকে হারিয়ে ফেলে, অহংকারী হয়ে উঠে এবং অবৈধ ক্রীয়াকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। আরও এ সব আনন্দ করা থেকে আল্লাহ তাবা রাকা ওয়া তালা নিযেধ করেছেন।এরশাদ হচ্ছে -লা-তাফরাহ্ ইন্নাল্লাহা লা-য়ুহিব্বুল ফারিহীন-তোমরা অহংকার ও গর্ববোধ করোনা,কেননা অহংকারীকে আল্লাহ পছন্দ করেননা।তাই অনর্থক অহংকার,ধন সম্পদ উপর গর্ববোধ করা এবং অবৈধ আনন্দ উৎসব ও ক্রিয়াকান্ডে জড়িয়ে পড়া আল্লাহতায়ালার অসন্তুষ্ঠির কারন।

যেন আনন্দ উৎসব ও খুশী করার জন্য মহান আল্লাহ আমাদেরকে নির্দেশ করেছেন তাহলো ঈমানের খুশী, দ্বীনের(উপর সুদৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকার) খুশী। যে খুশীতে মানুষ বিনয়ী হয়ে, চোখ দিয়ে (কৃতজ্ঞতার অশ্রু বেয়ে পড়ে আরও মুখে আল্লাহর শোক রিয়া আদায় করে এবং নিজের ভিতর এক, প্রকার বোধদয় হয়ে এমন আনন্দ ও খুশী হওয়ার জন্য আমরা নির্দেশিত।
তাইতো আল্লাহতায়ালা বলেছেন- আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া প্রাপ্তিতে তারা যেন আনন্দ উৎসব পালন করে।আর আমরা দেখি যে, প্রতিটি শহর বন্দরে, প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এবং  দেশে দেশে নানা প্রকার আনন্দ উৎসব হয়।

কিন্তু এমন এক আনন্দ রয়েছে – যেন আনন্দে সমস্ত বিশ্বজগত শরীক হয়ে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা ও শরীক আছেন এবং যে আনন্দের সারিতে তাঁর  সমস্ত ফিরিস্তা,নবীগন পূন্যাত্মা বান্দাগন সব মুসলমান ও শরীক আছেন।তার হলো আজকের এ পবিত্র
দিন ১২ই রবিউল  আউয়াল শরীফের
ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার খুশী। এটা এক খুশী উদযাপনের দিন,যেদিনের তুলনা হয়ে না।
সর্বপ্রথম আল্লাহতায়ালা হুজুর করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার পবিত্র মিলাদ পালন উপলক্ষে নবীদেরকে একত্রিত করে তাদের উদ্দেশ্যে এরশাদ করলেন- যেমন পবিত্র কুরআানে এরশাদ হচ্ছে – যখন আল্লাহতায়ালা সকল নবী থেকে এ বলে অঙ্গীকার নিলেন যে, যখন তোমাদের মধ্যে আমার প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা পদার্পন করবে আরও তোমরা যদি তাঁর
যুগ পাও তবে তোমাদের উচিৎ হবে তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্হাপন করা তাঁকে সাহায্য করা। তখন একবাক্য সকল নবী হ্যা বলে ফিরিস্তাদের  নিয়ে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার জন্ম উৎসব পালন করেন।

তেমনি হযরত আদম আলায়হি সালাম আপন পূত্র হযরত শীষ আলাইহিস সালামকে উদ্দেশ্যে করে বললেন-যদি তোমার উপর কোন প্রকারের দূঃখ দূদর্শা আসে, তখন তুমি মুহাম্মাদুর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে স্মরন করে আল্লাহর দরববারে  নিজের মাফ চেয়ে নেবে।
তেমনিভাবে হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম প্রার্থনা করেছেন-হে প্রতিপালক! তাঁদের (ইসমাঈলের বংশ)থেকে একজন রাসূল প্রেরন করুন। তাই প্রিয় রাসুল বলেছেন- আমি হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের প্রার্থনার ফসল।

অনুরূপভাবে সকল নবী ও রাসুল আপন আপন উম্মতদেরকে বলেছেন যে,যদি তোমরা সেই মহান মর্যাদাবান রাসুলের যুগ পাও,তখন তোমাদের উচিৎ  হবে তাঁর (রেসালতের)উপর ঈমান আনা এবং সাহায্য করা। সর্বশেষে হযরত ঈসা আলায়হিস্সালাম আপন উম্মতের প্রতি শুভ সংবাদ দিয়ে গেছেন যে,আমার পরে একজন রাসুল আসবেন  যাঁর নাম আহমদ।

এভাবে সকল নবী স্ব স্ব যুগে সুসংবাদ প্রদানের মাধ্যমে মিলাদুন্নবী তথা নবীর জন্ম উৎসবের স্মরন করে যান।
তা ছাড়া আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআানে বিভিন্ন স্হানে কাদ জাকূম মিনাল্লাহি নুরুল ওয়াকিতাবুম মূবীন (অর্থাৎ নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে একটা উজ্জ্বল জ্যৌতি এবং সুস্পষ্ট গ্রন্হ কুরআন এসেছে)লাক্বাদ জা আকূম রাসূলুম মিন আনফুসিকুম (অর্থাৎ নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে থেকে একটা মহান রাসুলের শুভাগমন হয়েছে) এভাবে প্রিয় রাসুলে সম্বোধন করে পৃথিবীর বুকে তাঁর  আগমনের সংবাদ প্রদানের মধ্যে আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবিবকে স্মরন করেছেন।যেমন এরশাদ হচ্ছে – আমি হযরত ইব্রাহিম আলায়হিস সালামের দোয়া হই।

রাব্বানা ওয়াব আস ফীহিম রাসুলাম
মিন হুম।
আর আমি হযরত ঈসা আলায়হি ওয়াসাল্লামের শুভ সংবাদ হই।যা তিনি তাঁর  উম্মতদেরকে প্রদান করেছিলেন।
সুতরাং বুঝা গেলো যেন,এ মিলাদ মোবারক (নবীজির জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা) আল্লাহতায়ালার যেমন সুন্নাত তেমনি সমস্ত ফিরিশতা নবী এবং মুসলমানদের ও সুন্নাত। এমন কোন কাজ নেই যাতে সকলে শামিল আছেন। এটা আল্লাহর বিশেষ দয়া যেন, এ পবিত্র মিলাদে স্বয়ং স্রষ্টা যেন শামিল আছেন,তেমনি সমস্ত সৃষ্টিজগত ও শামিল আছেন। একমাত্র অভিশপ্ত শয়তান ছাড়া সবাই এ দিনে আনন্দ উৎসব  করেন। এমনকি নবী জির জন্মদিনে দলে দলে ফিরিশতা আমেনা বিবির কুটিরে নবীজিকে সম্ভাষন জানাতে ছুটে আসে কাবা ঘরে হযরত মা আমিনা রাদ্বিয়াল্লাহুর তায়ালা আনহার ঘরের দিকে ঝুঁকে পড়ে ধরার বুকে নবী জির আগমনে খোদার দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাই আজকে ও যেন সবাই ভাই মিলাদুন্নবী তথা ধরার বুকে  নবী জির শুভাগমন
দিবসে খুশী উদযাপন করছেন জুলুস যোগদান করছেন – আল্লাহ তায়ালা
সবাইকে কবুল করুন আমিন।আর আপনাদের এ ত্যাগের জন্য ভাইদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নেই। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকল ত্যাগ ও প্রচেষ্টা কবুল করুন। আমিন।