গর্ভস্থ শিশুরও করোনা হতে পারে: গবেষণা

0
33
Print Friendly, PDF & Email

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক¬– এমনকি গর্ভবতী নারীও সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। অনেক নবজাতক শিশুর দেহেও করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে এই সময়ে অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, ভয় না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা ও তার পরিবারকে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। গবেষকদের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, করোনার সরাসরি প্রভাব শেষ ট্রাইমেস্টারে থাকা গর্ভস্থ শিশুর উপরে পড়ে না।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনের হুবেইপ্রদেশের উহান শহরে তংজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক সমীক্ষা হয়। করোনার উপসর্গ নিয়ে সেখানে ভর্তি সাতজন কোভিড-১৯ পজ়িটিভ অন্তঃসত্ত্বার ওপরে চীন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) যৌথভাবে সমীক্ষাটি চালায়।

সিজ়ারিয়ান পদ্ধতিতে জন্মের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষা করে দেখা যায়, শুধু এক সদ্যোজাতের শরীরে ওই ভাইরাস রয়েছে। সমীক্ষায় প্রকাশ করা হয়, শেষ ট্রাইমেস্টারে সংক্রমিত হয়েছিলেন ওই সাতজন।

তবে প্লাসেন্টার মাধ্যমে করোনা আক্রান্ত মায়ের থেকে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সংক্রমিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

তারা জানান, প্রথম বা দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে অন্তঃসত্ত্বা সংক্রমিত হলে ভ্রূণে কী প্রভাব পড়বে কিনা এটাই এখন তাদের গবেষণার বিষয়। তাই ওষুধ, আইভিএফসহ অন্যান্য বিকল্প পদ্ধতির সাহায্যে গর্ভধারণের প্রক্রিয়া বিশ্বজুড়ে বন্ধ রাখার নির্দেশিকা জারি করেছে ‘ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজি’ এবং ‘আমেরিকান সোসাইটি অব রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন’।

চিকিৎসকদের মতে, যারা ইতিমধ্যে অন্তঃসত্ত্বা, তাদের সংক্রমণ এড়াতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইসিএমআরে দেয়া সাধারণ নির্দেশগুলো মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে ‘ফেডারেশন অব অবস্টেট্রিক অ্যান্ড গাইনিকোলজিক্যাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া।

সংক্রমণ এড়াতে যা করবেন

ওষুধ ও বিকল্প পদ্ধতির সাহায্যে গর্ভধারণের যাবতীয় প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এমনকি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেও এ সময়ে অন্তঃসত্ত্বা না হওয়ার পরামর্শ।

অন্তঃসত্ত্বাদের পরামর্শ

১. বাড়িতে থাকুন এবং দূরত্ব বজায় রাখুন। ঘরের দরজা-জানালা খুলে রাখুন।

২. বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোবেন, মুখে-চোখে হাত দেবেন না, অসুস্থ ব্যক্তির থেকে দূরে থাকুন ও প্রয়োজনে ঘরেও মাস্ক পরুন।

৩. তোয়ালে, সাবান, বাসনসহ নিজের ব্যবহৃত জিনিস আলাদা রাখুন।

৪. জ্বর, সর্দি, কাশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা



Source link