সৌদি আরবে করোনা রোগীদের জমজমের পানি খাওয়ানোর পরামর্শ

0
120
সৌদি আরবে করোনা রোগীদের জমজমের পানি খাওয়ানোর পরামর্শ
সৌদি আরবে করোনা রোগীদের জমজমের পানি খাওয়ানোর পরামর্শ
Print Friendly, PDF & Email

সৌদি আরবে করোনা রোগীদের জমজমের পানি খাওয়ানোর পরামর্শ

জমজমের পানিকে ‘রোগীর ওষুধ’ বলে উল্লেখ- বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রা’ণ’ঘা’তী করোনা’ভা’ইরাসে সৌদি আরবে আ’ক্রা’ন্ত রোগীদের জমজমের পানি সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির হারামাইন প্রেসিডেন্সির প্রধান ড. শায়েখ আবদুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ আস সুদাইস। সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে তিনি এ ঘোষণা দেন।

শায়েখ সুদাইসের ঘোষণার পর থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জমজমের পানি বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা মসজিদে নববীর অধিদপ্তরও তাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে শুধুমাত্র প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য জমজমের পানি বিতরণ করছেন।

সম্প্রতি মদিনা সফরকালে সেখানে কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষীদের মাঝে জমজমের পানি বিতরণ করেন হারামাইনের প্রেসিডেন্ট শায়েখ আবদুর রহমান আস সুদাইস।

উল্লেখ্য, জমজম মক্কার মসজিদুল হারামের কাছে অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ কূপ। পবিত্র কাবা ও এই কূপের মধ্যে দূরত্ব মাত্র ৩৮ গজের। হজ ও উমরা আদায়কারীর জন্য বিশেষভাবে এবং পৃথিবীর সব মুসলমানের জন্য সাধারণভাবে জমজমের পানি পান করা মুস্তাহাব। সহিহ হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে জমজম থেকে পানি পান করেছেন।

সৌদি আরবে করোনা রোগীদের জমজমের

পানি খাওয়ানোর পরামর্শ

সাহাবি হযরত আবু জর (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি বরকতময়, স্বাদ অন্বেষণকারীর খাদ্য।’ কোনো কোনো হাদিসে জমজমের পানিকে ‘রোগীর ওষুধ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আম্মাজান হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজের সঙ্গে পাত্রে ও মশকে করে জমজমের পানি বহন করতেন। তা অসুস্থদের ওপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান করাতেন। সুনানে তিরমিজির এ বর্ণনা থেকে এ কথাও জানা যায় যে, জমজমের পানি বহন করা জায়েজ। আর যারা জমজম কূপের কাছে নয়, তাদের পান করানো নববী সুন্নত।

জমজমের পানি পান করার সময় একটি বড় কাজ হলো- দোয়া করা। হযরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জমজমের পানি যে উদ্দেশ্য নিয়ে পান করবে তা পূরণ হবে।’ বিখ্যাত বুজুর্গ ও মনীষীরা জমজমের পানি পানের সময় বিভিন্ন দোয়া করতেন।

সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আজ বুধবার পর্যন্ত করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৯ জন। এই ভাইরাসে ১৭ জন বাংলাদেশিসহ সর্বমোট মা’রা গেছেন ৭৩ জন। আর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৮৮৯ জন।

করোনার চিকিৎসায় কি কি ওষুধ ব্যবহার হচ্ছে?

ম’হা’মা’রী করোনা ভা’ইরাসের চিকিৎসায় কাজে আসবে, এমন ওষুধ নিয়ে কাজ করেছে বিশ্বের অনেক ছোট-বড় কোম্পানি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধের স্বীকৃতি না দিলেও পরীক্ষামূলক অনেক ওষুধ ব্যবহারে পাওয়া যাচ্ছে সফলতা।

বাংলাদেশেও করোনা ভা’ইরাসের চিকিৎসায় কিছু পরীক্ষামূলক ওষুধের ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিছু বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান সেসব ওষুধ তৈরি করতে শুরু করেছে। তবে সবগুলো ওষুধ এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি।

মূলত হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ও ফ্যাভিপিরাভির – এই দুইটি ওষুধ নিয়ে বিজ্ঞানীরা আশার বানী শোনাচ্ছেন।

ইনফ্লুয়েঞ্জার চিকিৎসায় জাপানি কোম্পানি ফুজির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান তোয়ামা কেমিক্যাল তৈরি করেছিল। এই ওষুধটির ব্র্যান্ড নাম ‘অ্যাভিগান’। এই ওষুধটির কার্যকারিতা নিয়ে নানা পরীক্ষা হচ্ছে।

পশ্চিমা কয়েকটি দেশে করোনা আ’ক্রা’ন্ত রোগীদের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার করেও সফলতা পাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ওষুধের কথা বারবার উল্লেখ করায় এটি নিয়ে আলোচনাও বেশি। যদিও করোনা ভা’ইরাস চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন তার প্রশাসনের কর্মকর্তারাই।

কয়েকটি দেশে ক্লোরোকুইন ব্যবহার করছেন চিকিৎসকরা। এটি মূলত ম্যালেরিয়ার ওষুধ হলেও করোনা ভা’ইরাসের ক্ষেত্রে কিছুটা উপকার আনতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারক গিলিয়াডের তৈরি রেমডিসিভির ওষুধ নিয়েও চলছে পরীক্ষামূলক ব্যবহার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো কোনো ওষুধের ব্যাপারেই পুরোপুরি আস্থা ঘোষণা করেনি।