করোনার ভ্যাক্সিনের জন্য শরীর ‘দান’ করলেন বাংলার শিক্ষক – Kolkata24x7

0
15
Print Friendly, PDF & Email

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : করোনা আতঙ্কে ভুগছে সমগ্র বিশ্ববাসী, এই মূহুর্তে বিশ্ববাসীর মনে একটাই চিন্তা কবে আবিষ্কার হবে এই করোনাভাইরাসের ঔষধ, কবে উদ্ধার পাবে বিশ্ববাসী এই মারন রোগের হাত থেকে। বিশ্বজুড়ে চলছে তা নিয়ে পরীক্ষা। অন্তত ৩০ টি এমন পরীক্ষা চলছে , যার মাধ্যমে করোনার ভ্যাক্সিন তৈরি করা যেতে পারে। অক্সফোর্ড এদের মধ্যে সবথেকে এগিয়ে, কিন্তু তাদেরও সমস্যার সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ডোনার কে হবেন? কে হবেন ‘গিনিপিগ’? কে জীবনের ঝুঁকি নেবে? এখনও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন অনেক বিজ্ঞানীর দল। বাংলার প্রথম কোনও ব্যক্তি সেই চ্যালেঞ্জে নিলেন।

দেশজুড়ে চলছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন, কিন্তু কতদিনই বা লকডাউন করে রক্ষা করা যাবে সমগ্র দেশবাসীকে, তাই প্রয়োজন রোগ নিরাময়ী ঔষধ। দেশজুড়ে চলছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য ঔষধ আবিস্কারের চেষ্টা, ঔষধ হোক বা ভ্যাকসিন্ তা তৈরি করার পর পরীক্ষার জন্য মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে দেখা হয় তা কতটা কার্যকর। করোনাভাইরাসের মতো মারন রোগের ঔষধ বা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা কীভাবে করা হবে? এই পরিস্থিতিতে করোনার ওষুধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষার জন্য নিজের শরীর দানের জন্য আবেদন করলেন দুর্গাপুরনিবাসী শিক্ষক চিরন্জিত ধীবর । তিনি আর এস এস প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন ‘বঙ্গীয় নব উন্মেষ প্রাথমিক শিক্ষক সঙ্ঘ “এর রাজ্য কমিটির সদস্য। সারা ভারতবর্ষে উত্তরপ্রদেশের দুজন ব্যক্তির পর তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে এবং পশ্চিম বঙ্গে প্রথম ব্যক্তি হিসাবে এগিয়ে এলেন তিনি । আজ ই মেলের মাধ্যমে দুর্গাপুর মহকুমা শাসক , পশ্চিম বর্ধমান জেলাশাসক কে এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে এই আবেদন করেন। এইরকম সিদ্ধান্ত সমগ্র বঙ্গবাসি ও দেশবাসীর সাথে বিশ্ববাসীর কাছে এক অপরিসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে গবেষকরা এখন COVID-19 ভ্যাক্সিন তৈরির জন্য ছুটছে। এরইমাঝে সুখবর দিল অক্সফোর্ডের জেনার ইনস্টিটিউট। সেখানে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে ভ্যাক্সিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, সেই ভিত্তিতেই তাঁরা আশাপ্রকাশ করেছে যে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই COVID-19 ভ্যাক্সিন উপলব্ধ হবে। লক্ষ্যনীয় বিষয়, জেনার ইন্সটিটিউটের গবেষকরা ইতিমধ্যেই জোরকদমে ভ্যাক্সিন তৈরিতে হাত লাগিয়েছেন যা শুরুতেই প্রতিশ্রুতিপূর্ণ দিক দেখিয়েছে। এর আগে একইরকমের টিকা মানুষের জন্য নিরাপদ হতে পারে বলেই জানা গিয়েছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস। মে-মাসের শেষের দিকেই ৬০০০ মানুষের উপর পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাক্সিন প্রয়োগ করা হবে। এই বিষয়ে আশাপ্রকাশ করে জানানো হয়েছে, “আশা করছি এটা শুধু নিরাপদ না হয় যেন এই ওষুধ কার্যকরী হয়”। পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাক্সিন সফল হলে, রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে ইন্সটীটিউট ভ্যাক্সিন ডোজ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তৈরি করতে পারবে।



Source link