করোনা আবহে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রে নয়া গাইডলাইন – Kolkata24x7

0
24
Print Friendly, PDF & Email

কলকাতা: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একজন প্রসূতি করোনা আক্রান্ত৷ এরপরই নড়েচড়ে বসে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর৷ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সন্তান প্রসবের গাইডলাইন প্রকাশ স্বাস্থ্য দফতরের ৷ গাইডলাইনে বলা হয়েছে, করোনা পজিটিভ বা রোগের উপসর্গ থাকা অন্তঃসত্বা মায়ের আলাদা রাখতে হবে৷

প্রসবের জন্য আলাদা অস্ত্রোপচার করার ঘর সুনির্দিষ্ট করতে বলা হয়েছে প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালকে৷ পাশাপাশি জেলা বা মহকুমা হাসপাতালকে সুনির্দিষ্ট নিময়কানুন মেনে আলাদা লেবার ওটি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া আশা এবং এএনএমদের কাছে ফোনে পরামর্শ নেওয়ারও সুপারিশ দেওয়া হয়েছে অন্তঃসত্বাদের৷ কোভিড পজিটিভ প্রসূতিদের ক্ষেত্রে আইসোলেশন ব্যবস্থাযুক্ত নূন্যতম দ্বিতীয় স্তরের হাসপাতালে প্রসব করাতে বলা হয়েছে৷ এই ধরণের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী সকলকেই আদর্শ নিয়ম-কানুন মেনে এবং যথেষ্ট সতর্কতা নিয়ে প্রসব করাতে বলা হয়েছে।

পাশাপাশি সদ্যোজাতকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে বলা হলেও কোনওভাবেই যাতে মা থেকে সন্তানের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য যাবতীয় আদর্শ নিয়মকানুন মানতে বলা হয়েছে৷

উল্লেখ্য,কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ মিলেছে দুজন করোনা আক্রান্তের। জানা গিয়েছে, একজন প্রসূতি অন্যজন কলকাতা মেডিক্যালেরই এক স্বাস্থ্যকর্মী। ইতিমধ্যে ওই প্রসূতির কাছাকাছি এসেছিলেন ৫০ জন চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এদের প্রত্যেকের রক্তের পরীক্ষা করা হবে। এমনকি, প্রসূতির সদ্যোজাতেরও নমুনাও পরীক্ষা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

শুধু তাই নয়, এক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি ১২ জন প্রসূতিরও নমুনা পরীক্ষা হবে। এই ঘটনায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালজুড়ে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে এই বিষয়ে জরুরি বৈঠক হয়েছে হাসপাতালে। বৈঠকে আগামী পদক্ষেপ কি হবে তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চার্নক হাসপাতাল৷ কিছু দিন আগে একজন রোগী ডায়ালিসিসের জন্য এসেছিল। পরে তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে । এরপরই রবিবার বন্ধ করে দেওয়া হল হাসপাতালটি৷ ওই রোগীর সংস্পর্শে যারা এসেছিল তাদেরকেও পাঠানো হবে কোয়ারেন্টাইনে৷

হাসপাতাল সূত্রে খবর, কিছুদিন আগে পার্ক সার্কাসের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে একজন রোগীকে ডায়ালিসিস করতে নিয়ে আসা হয় চার্নক হাসপাতালে৷ ডায়ালিসিসের পর ওই রোগী পুনরায় পার্ক সার্কাসের হাসপাতালে ফিরে যান৷

পরে ওই রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দেয় ও রোগীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর রোগীর রিপোর্ট করোনা পজেটিভ আসে৷ পার্ক সার্কাসের বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শনিবার রাতে অ্যাপোলো হাসপাতালের তরফে রিপোর্টে আসে ওই রোগীর।

যে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে, তাতে ৮০ বছরের ওই ব্যক্তির শরীরে করোনা সংক্রমণ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷ রিপোর্ট আসার পরই এম আর বাঙুরে রোগীকে স্থানান্তর করা হয়েছে। কীভাবে ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশ ভ্রমণের কোনও ইতিহাস রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এইদিকে এই ঘটনা সামনে আসার পরেই হোম আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে ওই রোগীর সংস্পর্শে আসা নার্সিংহোমের ৩ চিকিৎসককে।



Source link