এবার ঈদের শপিং করবো না

0
41
Print Friendly, PDF & Email

Print Friendly, PDF & Email

মুহাম্মদ আবু আবিদ, বিশেষ প্রতিনিধিঃ পরিবারের সবাই আলোচনায় ব্যস্ত।ছোট্ট শিশু থেকে বৃদ্ধ- সবাই লিস্ট করতে ব্যস্ত।কি হবে মার্কেটিং? লক ডাউন তো শেষ হল, বলে।তারপর ই কোন শপিং মলে যাওয়া যায়? কোথায় গেলে সবচেয়ে ভালো কালেকশন পাওয়া যাবে?

শাড়ি আর পাঞ্জাবি গুলো কিন্তু ম্যাচিং করে কিনতে হবে, পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য সবার মত অনুযায়ী লিস্ট করে রাখছে,কার কি প্রয়োজন।একজন অনুপস্থিত সেই পারিবারিক আলোচনায়।সবার তাতে কোন মাথা ব্যাথা নেই।কারণ ঐ সদস্য তো সামাজিক কাজে বাইরে ব্যস্ত।ঠিক সময়ে চলে আসবে।ও আসলেই সব লিস্ট কমপ্লিট।

পরিবারের ঐ সদস্য সামাজিক কাজ শেষে বাড়ি ফিরলো,সবার আলোচনার মধ্যে গম্ভীর গলায় সবিনয় একটা প্রস্তাব করলেন।সবাই চুপ হয়ে গেল।কোথায় কোন শব্দ নেই। হঠাৎ কাগজ ছিড়ে ফেলার হালকা আওয়াজ।ঐ ছোট্ট সদস্য আবার নতুন লিস্ট করছে,তবে এবারের লিস্টে কোন শাড়ি বা পাঞ্জাবি নেই,লিস্টে আছে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজের পরিমাণ। হু,সামাজিক কাজ করে বাড়ি ফেরা সেই সদস্য হলেন- “আমাদের আলোকিত সমাজ” এর চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল ইসলাম।

মোঃ কামরুল ইসলাম তার পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন,এবার ঈদে কোন মার্কেট তারা করবে না।বরং সেই অর্থ ব্যয় করা হবে, অসহায়দের সাহায্যের জন্য। আমি তো তাদের ই খুঁজে বেড়াই। আমার কলম খোঁজ পেয়ে যায়,তার।যদিও তিনি প্রচারবিমুখ।কিন্তু আমার সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমানে ধারণা থাকায় আর বাঁধা দেননি। তার সাথে মুঠোফোনে আড্ডা হল- অনেকক্ষণ।

তিনি বলেন,ঈদ মানে আনন্দ, আনন্দ হোক ত্যাগে।আল্লাহর রহমতে আশা করি ঈদুল ফিতরের আগে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু অভাব অনটন থাকবে দীর্ঘদিন তাই আমি আমার পরিবারের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এই ঈদে নতুন জামাকাপড় না কিনে তাঁর অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে থাকবো।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক কাজ করি, মানুষের জন্য, সমাজের জন্য। প্রচারের জন্য নয়।প্রচার তো নতুনরা করে। তবে তিনি আমার সাথে কথোপকথন কালে এটা মানতে বাধ্য হন যে, প্রচারই প্রসার।

মোঃ কামরুল ইসলাম শুধু এ উদ্যেগই নন,তিনি করোনার প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সময় থেকেই বাস্তবায়ন করেছেন নানা পরিকল্পনা – ত্রাণ বিতরণ, উপহার সামগ্রী বিতরণ, মাক্স বিতরণ ও সচেতন করা।

তবে তার বর্তমানে নেয়া উদ্যেগটি সত্যিই অবাক করেছে আমাকে।আমার চেতনাকে জাগ্রত করেছে।সত্যিই তো পুরানো পাঞ্জাবি পরে না হয়,একটা ঈদ এর নামাজ পড়ব,কিন্তু তাতে কি মনে তো এটা শান্তি থাকবে,দেশের মহামারীর সময় আমিও সাহায্য করেছিলাম।

আমার মনে আমাদের সকলের মোঃ কামরুল ইসলাম এর উদ্যেগটিকে সাদরে গ্রহণ করা উচিৎ। আমরা যদি একটা ঈদের শপিং না করি, মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে না, বরং সে টাকা দিয়ে হয়তো কারো চুলোয় হাড়ি চড়বে।

কোন বাচ্চার কান্না থামবে।আমাদের কোমলমতি শিশুদের কথা আমরা চিন্তা করি যে তাদের কোন ড্রেসে সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগবে?কিন্তু সমাজে আরেক শ্রেণির শিশুরা খালি গায়ে ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদবে, এমন দৃশ্য নিশ্চয়ই আমাদের পছন্দ না।তাই আসুন তার কন্ঠের সাথে কন্ঠস্বর মিলিয়ে বলি,”ঈদ মানে আনন্দ, আনন্দ হোক ত্যাগে”।

আমরা যে যেই স্থানে আছি,সেখান থেকেই পারি অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে।তারই একটা জ্বলন্ত উদাহরণ আমি তুলে ধরলাম, আপনাদের সামনে।এসকল মানুষদের পাশে হয়তো সারথি হয়ে থাকতে পারবো না,তবে তাদের জন্য চিৎকার করে বলতে পারি, এগিয়ে যান, স্যালুট আপনাদের। জয় হোক মানবতার, জয় হোক মানসিকতার, জয় হোক মনুষ্যত্বের।



Source link