অফিসে মাত্র ২৫ শতাংশ, বাকিটা বাড়ি থেকেই করানোর কথা ভাবছে টিসিএস – Kolkata24x7

0
23
Print Friendly, PDF & Email

মুম্বই ও বেঙ্গালুরু: দেশের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের লক্ষ্য এখন ওয়ার্ক ফ্রম হোম -এ জোর দিয়ে অফিস থেকে কর্মীদের কাজ করানোটা রীতিমতো কমিয়ে আনা। এই করোনাভাইরাস অতি মহামারির কারণে এবার দূর থেকে কাজ করানোর মডেলের দিকে আগামী পাঁচ বছর জোর দেওয়া হবে বলে সংস্থার কর্তাদের অভিমত। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে এমন প্রতিবেদন বের হয়েছে।

টিসিএসের চিফ অপারেটিং অফিসার এন গণপতি সুব্রামানিয়াম জানিয়েছেন, তাদের সংস্থা মনে করছে ১০০ শতাংশ উৎপাদনশীল রাখার জন্য ২৫ শতাংশের বেশি ‌ সময় কর্মীকে অফিসে রাখার দরকার নেই। তিনি মনে করছেন, ২৫ শতাংশ অফিসে থাকলেই সেটা যথেষ্ট। আগে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে দিত সীমিত সময়ের জন্য, কিন্তু এই করোনাভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য রাতারাতি বাধ্য হল এই নীতি পরিবর্তন করতে। মার্চ মাস থেকে ৮০ শতাংশের বেশি ভারতের চার মিলিয়ন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী সরে এসেছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম মডেলে কাজ করার জন্য আর এই ভাবেই তারা বিশ্বের ক্লায়েন্টদের পরিষেবা দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে টিসিএসের সিইও রাজেশ গোপিনাথন জানিয়েছেন, তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন যদি ২০২৫ সালের মধ্যে ২৫/২৫ মডেল পাওয়া যায় ‌ যে পথে তাদের ভবিষ্যৎ ক্ষমতা এবং পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। তার মতে, তবে এক্ষেত্রে ২৫ অথবা ৫০ সেটা বিষয় নয়। যেটা বিষয় হলো সেটা হল ১০০/১০০ (অর্থাৎ ১০০ শতাংশ কর্মীকেই ১০০ শতাংশ সময় থাকা) দরকার হবে না। মার্চের শেষে টিসিএসের কর্মীসংখ্যা ৪,৪৮,৪৪৬ জন । উইপ্রো দেশের চতুর্থ বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা যার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনায় ৯৩ শতাংশ কর্মী দূর থেকে বসেই পরিষেবা দিচ্ছেন। তারাও খতিয়ে দেখছে সব কর্মীদের কাজের জন্য দেশে এবং বিদেশের অফিসে ফিরিয়ে আনার দরকার কতটা।

উইপ্রোর চিফ এইচ আর অফিসার সৌরভ গোভিল জানাচ্ছেন, অনেক কিছু হতে চলেছে, বিতর্ক চলছে- সব কর্মীদের ফিরিয়ে আনা দরকার নাকি তাদের স্থায়ী ভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করানো হবে। এই ব্যাপারে উইপ্রো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই। তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি ছড়িয়ে রয়েছে রিয়েল এস্টেটৈ। এবার যদি ওয়ার্ক ফ্রম হোম মডেলে সরে যায় তাহলে ধাক্কা খাবে রিয়েল এস্টেট, এই ক্ষেত্রে দাম অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন এক্সফোনের কো ফাউন্ডার কমল কারনাথ।

তার বক্তব্য, প্রজেক্ট ম্যানেজাররা লক্ষ্য করেছেন এই ওয়ার্ক ফ্রম হোম মডেলে দক্ষতা বেড়েছে এবং এক্ষেত্রে একটা ভবিষ্যৎ আছে। মাঝারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা সোনাটা সফটওয়্যার হিসেব করে দেখেছে, তারা তাদের ৭০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করাতে পারবেন। যেহেতু এইসময় উৎপাদনশীলতা কর্মীদের বেড়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই সংস্থার কর্তা শ্রীকর রেড্ডি। এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সংগঠন ন্যাসকম মনে করছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে সংস্থাগুলির মৌলিক ধারণা পাল্টে যাচ্ছে কর্মী এবং কাজের জায়গা সম্পর্কে।



Source link